নিউইয়র্ক ০৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে স্বামীকে জিম্মি করে স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬

  • আপডেটের সময় : ১২:৩৬:৫৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর দাগনভূঞায় স্বামীকে জিম্মি করে স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা মো. মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া চট্টগ্রাম থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে রাতে সুবর্ণচরে ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তাঁরা ফেনীর দাগনভূঞা পৌর এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশাটির চার্জ শেষ হয়ে যায়। পরে চার্জ দেওয়ার জন্য তাঁরা ফাজিলের ঘাট রোডের ‘জুয়েলের গ্যারেজে’ অটোরিকশাটি রাখেন।

এ সময় একদল স্থানীয় যুবক তাঁদের ঘিরে ধরে নানাভাবে হয়রানি করতে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে ওই দম্পতিকে জিম্মি করে জগতপুরের ফাতেমা মঞ্জিলের বিপরীতে ‘পরেশ স্টোরে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামী মাসুদকে বেঁধে রাখা হয়। পরে তাঁর স্ত্রীকে পাশের আবুল কালামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় অভিযুক্তদের একজনের মুঠোফোনে রিং বেজে উঠলে সে ওই নারীর ওপর থেকে সরে দাঁড়ায়। এই সুযোগে ভুক্তভোগী নারী দৌড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

পরে ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিম্মি অবস্থায় থাকা মাসুদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর এসআই মো. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জগতপুর ভূঞা বাড়ির মো. সিরাজের ছেলে মো. রাশেদ প্রকাশ রাজ (১৯), বেলাল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৪), কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. শাহেদুল ইসলাম শাহিন (১৯), উত্তর করিমপুরের গোলাম মাওলা মাসুদের ছেলে মো. শাহরিয়ার নোমান (১৯), আমানউল্লাহপুরের জাবেদ উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (২১) এবং মো. হারুনের ছেলে শাহিন উদ্দিন মুন্না (২৯)।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধ ও অপরাধীদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ফেনীতে স্বামীকে জিম্মি করে স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬

আপডেটের সময় : ১২:৩৬:৫৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেনীর দাগনভূঞায় স্বামীকে জিম্মি করে স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা মো. মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া চট্টগ্রাম থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে রাতে সুবর্ণচরে ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তাঁরা ফেনীর দাগনভূঞা পৌর এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশাটির চার্জ শেষ হয়ে যায়। পরে চার্জ দেওয়ার জন্য তাঁরা ফাজিলের ঘাট রোডের ‘জুয়েলের গ্যারেজে’ অটোরিকশাটি রাখেন।

এ সময় একদল স্থানীয় যুবক তাঁদের ঘিরে ধরে নানাভাবে হয়রানি করতে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে ওই দম্পতিকে জিম্মি করে জগতপুরের ফাতেমা মঞ্জিলের বিপরীতে ‘পরেশ স্টোরে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামী মাসুদকে বেঁধে রাখা হয়। পরে তাঁর স্ত্রীকে পাশের আবুল কালামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় অভিযুক্তদের একজনের মুঠোফোনে রিং বেজে উঠলে সে ওই নারীর ওপর থেকে সরে দাঁড়ায়। এই সুযোগে ভুক্তভোগী নারী দৌড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

পরে ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিম্মি অবস্থায় থাকা মাসুদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর এসআই মো. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জগতপুর ভূঞা বাড়ির মো. সিরাজের ছেলে মো. রাশেদ প্রকাশ রাজ (১৯), বেলাল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৪), কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. শাহেদুল ইসলাম শাহিন (১৯), উত্তর করিমপুরের গোলাম মাওলা মাসুদের ছেলে মো. শাহরিয়ার নোমান (১৯), আমানউল্লাহপুরের জাবেদ উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (২১) এবং মো. হারুনের ছেলে শাহিন উদ্দিন মুন্না (২৯)।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধ ও অপরাধীদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

Share this news as a Photo Card