নিউইয়র্ক ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে নেপালের তদন্ত শুরু

  • আপডেটের সময় : ০২:৩৪:২০ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

গত ২৬ আগস্ট নেপালে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যার কারণ অনুসন্ধান এবং বিপর্যয় কীভাবে ঘটেছে তা জানতে সার্বিক বৈজ্ঞানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।

তদন্তের জন্য শক্তি, পানিসম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয় জলবিজ্ঞান, হিমবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব, রিমোট সেন্সিং, জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস–সংক্রান্ত সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করেছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যানেলটি দুর্যোগের উৎস থেকে শুরু করে নিম্নাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যন্ত সরেজমিনে গবেষণা চালাবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভূতাত্ত্বিক, হিমবাহ ও জলবিদ্যুৎ প্রক্রিয়াগুলো পরীক্ষা করবে। একটি প্রাথমিক মূল্যায়নের পর এ তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গিয়েছিল, দুর্যোগটির উৎপত্তি কোথায়, কোন ভৌত প্রক্রিয়ায় এটি শুরু হয়েছিল কিংবা ভোটেকোশি নদী ব্যবস্থার মাধ্যমে কীভাবে ঘটনাপ্রবাহ নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা নির্ধারণ করার জন্য পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সরকার কেবল বন্যা বা ভারী বৃষ্টিপাত নয়, বরং উচ্চ পর্বতে ভূতাত্ত্বিক, হিমবাহ ও জলবিদ্যুৎসংক্রান্ত একের পর এক ঝুঁকির কারণে এ বিপর্যয় ঘটেছিল কি না, তা নির্ধারণ করতে চায়।

পানি ও শক্তি কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব টিশারাম বারাল বলেন, ‘বিশ্বমানের মানদণ্ডেও এটি একটি বিরল ঘটনা। বিস্তারিত গবেষণা ছাড়া আমরা উপসংহারে পৌঁছাতে পারি না। সব বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হলে এ দুর্যোগের একটি উপযুক্ত নাম দেওয়া হবে।’

সাত সদস্যের প্যানেলটির সমন্বয় করছেন পানিনীতি ও শাসনবিশেষজ্ঞ দেবেশ বেলবাসে। অন্য সদস্যরা হলেন জলবিজ্ঞানী নরেন্দ্র মান শাক্য, হিমবাহবিজ্ঞানী রিজান ভক্ত কায়স্থ, রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ উত্তম বাবু শ্রেষ্ঠা, ভূতত্ত্ববিদ মেঘরাজ ধীতাল, জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ হরি পণ্ডিত এবং দুর্যোগ-ঝুঁকিহ্রাস বিশেষজ্ঞ অনিল পোখরেল।

প্যানেলটি এ বিপর্যয়ের সম্ভাব্য নামও বিবেচনা করবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহন কুমার শাক্য জানিয়েছেন, এ গবেষণা ভূতত্ত্ব, তাপমাত্রা ও পানি ব্যবস্থা একসঙ্গে পরীক্ষা করার পাশাপাশি বিপর্যয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখবে।

শক্তি খাতের জন্য শিক্ষা চিহ্নিত করাও এ তদন্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভোটেকোশি বিপর্যয় ত্রিশূলী করিডরজুড়ে ব্যাপক ক্ষতি করেছে, যা অন্যান্য নদী ব্যবস্থায় একই ধরনের ঘটনা ঘটলে জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ভঙ্গুরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে নেপালের তদন্ত শুরু

আপডেটের সময় : ০২:৩৪:২০ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত ২৬ আগস্ট নেপালে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যার কারণ অনুসন্ধান এবং বিপর্যয় কীভাবে ঘটেছে তা জানতে সার্বিক বৈজ্ঞানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।

তদন্তের জন্য শক্তি, পানিসম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয় জলবিজ্ঞান, হিমবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব, রিমোট সেন্সিং, জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস–সংক্রান্ত সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করেছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যানেলটি দুর্যোগের উৎস থেকে শুরু করে নিম্নাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যন্ত সরেজমিনে গবেষণা চালাবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভূতাত্ত্বিক, হিমবাহ ও জলবিদ্যুৎ প্রক্রিয়াগুলো পরীক্ষা করবে। একটি প্রাথমিক মূল্যায়নের পর এ তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গিয়েছিল, দুর্যোগটির উৎপত্তি কোথায়, কোন ভৌত প্রক্রিয়ায় এটি শুরু হয়েছিল কিংবা ভোটেকোশি নদী ব্যবস্থার মাধ্যমে কীভাবে ঘটনাপ্রবাহ নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা নির্ধারণ করার জন্য পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সরকার কেবল বন্যা বা ভারী বৃষ্টিপাত নয়, বরং উচ্চ পর্বতে ভূতাত্ত্বিক, হিমবাহ ও জলবিদ্যুৎসংক্রান্ত একের পর এক ঝুঁকির কারণে এ বিপর্যয় ঘটেছিল কি না, তা নির্ধারণ করতে চায়।

পানি ও শক্তি কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব টিশারাম বারাল বলেন, ‘বিশ্বমানের মানদণ্ডেও এটি একটি বিরল ঘটনা। বিস্তারিত গবেষণা ছাড়া আমরা উপসংহারে পৌঁছাতে পারি না। সব বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হলে এ দুর্যোগের একটি উপযুক্ত নাম দেওয়া হবে।’

সাত সদস্যের প্যানেলটির সমন্বয় করছেন পানিনীতি ও শাসনবিশেষজ্ঞ দেবেশ বেলবাসে। অন্য সদস্যরা হলেন জলবিজ্ঞানী নরেন্দ্র মান শাক্য, হিমবাহবিজ্ঞানী রিজান ভক্ত কায়স্থ, রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ উত্তম বাবু শ্রেষ্ঠা, ভূতত্ত্ববিদ মেঘরাজ ধীতাল, জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ হরি পণ্ডিত এবং দুর্যোগ-ঝুঁকিহ্রাস বিশেষজ্ঞ অনিল পোখরেল।

প্যানেলটি এ বিপর্যয়ের সম্ভাব্য নামও বিবেচনা করবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহন কুমার শাক্য জানিয়েছেন, এ গবেষণা ভূতত্ত্ব, তাপমাত্রা ও পানি ব্যবস্থা একসঙ্গে পরীক্ষা করার পাশাপাশি বিপর্যয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখবে।

শক্তি খাতের জন্য শিক্ষা চিহ্নিত করাও এ তদন্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভোটেকোশি বিপর্যয় ত্রিশূলী করিডরজুড়ে ব্যাপক ক্ষতি করেছে, যা অন্যান্য নদী ব্যবস্থায় একই ধরনের ঘটনা ঘটলে জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ভঙ্গুরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

Share this news as a Photo Card