নিউইয়র্ক ০৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমবোলোর লাল কার্ড নিয়ে এবার মুখ খুললেন রেফারি

  • আপডেটের সময় : ০৭:৪৮:৪০ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ডের ম্যাচটি। সেই ম্যাচে অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড। সম্প্রতি ফুটবলের নিয়মনীতি নির্ধারক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) জানিয়েছে, এমবোলোর লাল কার্ড দেখানো ছিল রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত।

এমবোলোর লাল কার্ড নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন সেই ম্যাচের পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরো। পর্তুগালের চ্যানেল ১১-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সে মুহূর্তে আমাদের মনে হয়েছিল, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ফাউল করেছেন এবং সেটি হলুদ কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ। কিন্তু ভিএআর জানায়, কোনো ফাউল হয়নি; বরং অন্য খেলোয়াড় ফাউলের অভিনয় করেছেন। এরপর আমি ঘটনাটি আবার (ভিএআর মনিটরে) দেখি এবং নিশ্চিত হই যে সত্যিই কোনো ফাউল হয়নি, এটি ছিল অভিনয়। ফলে সেটিই দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে পরিণত হয়।’

পিনেইরো আরও বলেন, ‘এটি যদি তার প্রথম হলুদ কার্ডও হতো, তবু সিদ্ধান্ত একই থাকত। এ কারণেই ফিফা এই পরিবর্তন এনেছে। আমার বিশ্বাস, নতুন নিয়মগুলোর লক্ষ্যই হলো খেলাকে আরও উন্নত করা। রেফারিদের জন্যও এগুলোর প্রভাব খুবই ইতিবাচক এবং এগুলো মাঠের প্রকৃত ঘটনাকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করছে। সত্যি বলতে, এগুলো অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন।’

এ দিকে আইএফএবি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ’–সংক্রান্ত (মিসটেকেন আইডেন্টিটি) ভিএআর প্রটোকল বা নিয়মটি এমবোলোর মতো ওই ধরনের ঘটনার জন্য প্রযোজ্য ছিল না। ভবিষ্যতে অন্য টুর্নামেন্টে হয়তো নিয়মটি ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে চলমান নিয়ম পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি এভাবে প্রয়োগ করা যাবে না।’

সেই ম্যাচে রেফারি নেইরো ও মেসির মধ্যে কথোপকথন পরে ভাইরাল হয়। সেদিন ম্যাচের এক পর্যায়ে মেসি রেফারি পিনেইরোকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলুন। আমাকে অসম্মান করবেন না। আমি আপনার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলেছি, আপনিও আমার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলুন।’ 

এই কথপোকথনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পিনেইরো। পাশাপাশি মেসির মতো তারকা ফুটবলারদের ম্যাচ পরিচালনার সময় একজন রেফারিকে কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হয়, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। 

পিনেইরো বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে। ফুটবলে এমন কথাবার্তা স্বাভাবিক। অধিনায়কেরা সাধারণত একটু বেশি কথা বলেন, আর নতুন নিয়মও তাঁদের সেই সুযোগ দিয়েছে।’

পিনেইরো আরও বলেন, ‘মেসির সঙ্গে যা হয়েছে, এমন ঘটনা অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গেও হয়েছে। অবশ্য তিনি মেসি বলেই বিষয়টি হয়তো বেশি নজরে এসেছে। কিন্তু ফুটবলে এসব খুবই স্বাভাবিক। রেফারিরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন, খেলোয়াড়েরাও রেফারিদের সঙ্গে কথা বলেন। কোনো কোনো পরিস্থিতি নিয়ে মতভেদ হতে পারে, তবে এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।’

উয়েফার এলিট ক্যাটাগরির এই রেফারি যোগ করেন, ‘এটা যদি মেসি বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে না ঘটতো, তাহলে হয়তো বিষয়টিকে এত বড় করে দেখা হতো না। এগুলো ইতিবাচক; কারণ, সব পরিস্থিতিতেই হলুদ কার্ড দেখানোর প্রয়োজন হয় না। আমরা কথা বলি, আর কথা বলেই একে অপরকে বুঝতে পারি।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

স্পেনে দাবানল পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার

জাপানের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮, চলছে উদ্ধার অভিযান

৩১ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমবোলোর লাল কার্ড নিয়ে এবার মুখ খুললেন রেফারি

আপডেটের সময় : ০৭:৪৮:৪০ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ডের ম্যাচটি। সেই ম্যাচে অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড। সম্প্রতি ফুটবলের নিয়মনীতি নির্ধারক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) জানিয়েছে, এমবোলোর লাল কার্ড দেখানো ছিল রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত।

এমবোলোর লাল কার্ড নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন সেই ম্যাচের পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরো। পর্তুগালের চ্যানেল ১১-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সে মুহূর্তে আমাদের মনে হয়েছিল, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ফাউল করেছেন এবং সেটি হলুদ কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ। কিন্তু ভিএআর জানায়, কোনো ফাউল হয়নি; বরং অন্য খেলোয়াড় ফাউলের অভিনয় করেছেন। এরপর আমি ঘটনাটি আবার (ভিএআর মনিটরে) দেখি এবং নিশ্চিত হই যে সত্যিই কোনো ফাউল হয়নি, এটি ছিল অভিনয়। ফলে সেটিই দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে পরিণত হয়।’

পিনেইরো আরও বলেন, ‘এটি যদি তার প্রথম হলুদ কার্ডও হতো, তবু সিদ্ধান্ত একই থাকত। এ কারণেই ফিফা এই পরিবর্তন এনেছে। আমার বিশ্বাস, নতুন নিয়মগুলোর লক্ষ্যই হলো খেলাকে আরও উন্নত করা। রেফারিদের জন্যও এগুলোর প্রভাব খুবই ইতিবাচক এবং এগুলো মাঠের প্রকৃত ঘটনাকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করছে। সত্যি বলতে, এগুলো অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন।’

এ দিকে আইএফএবি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ’–সংক্রান্ত (মিসটেকেন আইডেন্টিটি) ভিএআর প্রটোকল বা নিয়মটি এমবোলোর মতো ওই ধরনের ঘটনার জন্য প্রযোজ্য ছিল না। ভবিষ্যতে অন্য টুর্নামেন্টে হয়তো নিয়মটি ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে চলমান নিয়ম পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি এভাবে প্রয়োগ করা যাবে না।’

সেই ম্যাচে রেফারি নেইরো ও মেসির মধ্যে কথোপকথন পরে ভাইরাল হয়। সেদিন ম্যাচের এক পর্যায়ে মেসি রেফারি পিনেইরোকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলুন। আমাকে অসম্মান করবেন না। আমি আপনার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলেছি, আপনিও আমার সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলুন।’ 

এই কথপোকথনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পিনেইরো। পাশাপাশি মেসির মতো তারকা ফুটবলারদের ম্যাচ পরিচালনার সময় একজন রেফারিকে কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হয়, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। 

পিনেইরো বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে। ফুটবলে এমন কথাবার্তা স্বাভাবিক। অধিনায়কেরা সাধারণত একটু বেশি কথা বলেন, আর নতুন নিয়মও তাঁদের সেই সুযোগ দিয়েছে।’

পিনেইরো আরও বলেন, ‘মেসির সঙ্গে যা হয়েছে, এমন ঘটনা অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গেও হয়েছে। অবশ্য তিনি মেসি বলেই বিষয়টি হয়তো বেশি নজরে এসেছে। কিন্তু ফুটবলে এসব খুবই স্বাভাবিক। রেফারিরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন, খেলোয়াড়েরাও রেফারিদের সঙ্গে কথা বলেন। কোনো কোনো পরিস্থিতি নিয়ে মতভেদ হতে পারে, তবে এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।’

উয়েফার এলিট ক্যাটাগরির এই রেফারি যোগ করেন, ‘এটা যদি মেসি বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে না ঘটতো, তাহলে হয়তো বিষয়টিকে এত বড় করে দেখা হতো না। এগুলো ইতিবাচক; কারণ, সব পরিস্থিতিতেই হলুদ কার্ড দেখানোর প্রয়োজন হয় না। আমরা কথা বলি, আর কথা বলেই একে অপরকে বুঝতে পারি।’

Share this news as a Photo Card