নিউইয়র্ক ০২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুকসমান কাদায় তিন মাস বন্দী ৪ মহিষ, ইউএনওর হস্তক্ষেপে উদ্ধার

  • আপডেটের সময় : ০৩:১৭:৫৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের মহেশপুরে দীর্ঘ তিন মাস ধরে খোলা আকাশের নিচে বুকসমান কাদায় অভুক্ত ও শিকলবন্দি অবস্থায় থাকা চারটি মহিষকে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নির্যাতনের ছবি ও খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার সন্ধ্যায় মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মহিষগুলোকে মুক্ত করেন।

উপজেলার গোকুলনগর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। মহিষগুলোর মালিক ওই গ্রামের মৃত ফরজ আলীর ছেলে আব্দুল আলিম।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুল আলিম মহিষগুলোকে মাঠে চরাতে নেওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর বাড়ির পাশের চারটি আলাদা গাছের সঙ্গে মহিষগুলোকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। দীর্ঘদিন একই জায়গায় আটকে থাকায় বৃষ্টি ও মহিষগুলোর পায়ের খুরের চাপে গাছগুলোর চারপাশের মাটি ধীরে ধীরে গভীর ও থকথকে কাদায় পরিণত হয়।

একপর্যায়ে মহিষগুলো বুকসমান কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়। খোলা আকাশের নিচে রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে তাদের দিনের পর দিন কাটছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সামান্য খড় ও পানি ছাড়া প্রাণীগুলোকে তেমন কোনো খাবার দেওয়া হতো না।

এ ঘটনায় মহিষগুলোর মালিক আব্দুল আলিমকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তার মা সত্য খাতুন বলেন, মহিষগুলোকে এভাবে কষ্ট না দিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু আলিম কথা শোনেননি। এমনকি মহিষগুলোর কাছে যেতে ভয় পেতেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, আব্দুল আলিম তন্ত্রমন্ত্রের সাধনা করেন এবং সে-সংক্রান্ত কোনো উদ্দেশ্যেই নাকি দীর্ঘদিন ধরে মহিষগুলোকে এভাবে আটকে রেখেছিলেন। তবে এ অভিযোগ বা গুঞ্জনের বিষয়ে আব্দুল আলিমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোববার (১৬ আগস্ট) স্থানীয় পরিবেশকর্মী নাজমুল হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহিষগুলোর দুরবস্থার ছবি প্রকাশ করেন। ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। খবর পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় গোকুলনগর গ্রামে যান মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ থেকে মহিষ চারটিকে মুক্ত করে অপেক্ষাকৃত শুকনো ও নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

পরিবেশকর্মী নাজমুল হোসেন বলেন, গ্রামের মানুষ প্রতিদিন অবুঝ প্রাণীগুলোর এমন দুর্ভোগ দেখলেও মালিকের কারণে তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছিলেন না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার পর ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিয়ে মহিষগুলোকে রক্ষা করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কাদার মধ্যে আটকে থাকা চারটি মহিষকে উদ্ধার করেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রাণীগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় খাবারেরও সুব্যবস্থা করা হয়।

ইউএনও আরও জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উপযুক্ত ও মানবিক পরিবেশ তৈরি না করা হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট

১৭ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বুকসমান কাদায় তিন মাস বন্দী ৪ মহিষ, ইউএনওর হস্তক্ষেপে উদ্ধার

আপডেটের সময় : ০৩:১৭:৫৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

ঝিনাইদহের মহেশপুরে দীর্ঘ তিন মাস ধরে খোলা আকাশের নিচে বুকসমান কাদায় অভুক্ত ও শিকলবন্দি অবস্থায় থাকা চারটি মহিষকে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নির্যাতনের ছবি ও খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার সন্ধ্যায় মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মহিষগুলোকে মুক্ত করেন।

উপজেলার গোকুলনগর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। মহিষগুলোর মালিক ওই গ্রামের মৃত ফরজ আলীর ছেলে আব্দুল আলিম।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুল আলিম মহিষগুলোকে মাঠে চরাতে নেওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর বাড়ির পাশের চারটি আলাদা গাছের সঙ্গে মহিষগুলোকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। দীর্ঘদিন একই জায়গায় আটকে থাকায় বৃষ্টি ও মহিষগুলোর পায়ের খুরের চাপে গাছগুলোর চারপাশের মাটি ধীরে ধীরে গভীর ও থকথকে কাদায় পরিণত হয়।

একপর্যায়ে মহিষগুলো বুকসমান কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়। খোলা আকাশের নিচে রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে তাদের দিনের পর দিন কাটছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সামান্য খড় ও পানি ছাড়া প্রাণীগুলোকে তেমন কোনো খাবার দেওয়া হতো না।

এ ঘটনায় মহিষগুলোর মালিক আব্দুল আলিমকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তার মা সত্য খাতুন বলেন, মহিষগুলোকে এভাবে কষ্ট না দিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু আলিম কথা শোনেননি। এমনকি মহিষগুলোর কাছে যেতে ভয় পেতেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, আব্দুল আলিম তন্ত্রমন্ত্রের সাধনা করেন এবং সে-সংক্রান্ত কোনো উদ্দেশ্যেই নাকি দীর্ঘদিন ধরে মহিষগুলোকে এভাবে আটকে রেখেছিলেন। তবে এ অভিযোগ বা গুঞ্জনের বিষয়ে আব্দুল আলিমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোববার (১৬ আগস্ট) স্থানীয় পরিবেশকর্মী নাজমুল হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহিষগুলোর দুরবস্থার ছবি প্রকাশ করেন। ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। খবর পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় গোকুলনগর গ্রামে যান মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ থেকে মহিষ চারটিকে মুক্ত করে অপেক্ষাকৃত শুকনো ও নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

পরিবেশকর্মী নাজমুল হোসেন বলেন, গ্রামের মানুষ প্রতিদিন অবুঝ প্রাণীগুলোর এমন দুর্ভোগ দেখলেও মালিকের কারণে তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছিলেন না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার পর ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিয়ে মহিষগুলোকে রক্ষা করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কাদার মধ্যে আটকে থাকা চারটি মহিষকে উদ্ধার করেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রাণীগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় খাবারেরও সুব্যবস্থা করা হয়।

ইউএনও আরও জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উপযুক্ত ও মানবিক পরিবেশ তৈরি না করা হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card