নিউইয়র্ক ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোরকাপরা নারীর ইশারায় থামে বাস, ২০ মিনিটে ৫৭ লাখ টাকা লুট

  • আপডেটের সময় : ০৪:৫৯:৫০ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
  • ২২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে দিনের বেলায় যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও লুট হওয়া টাকা উদ্ধার করা যায়নি। এ ঘটনায় বোরকা পরা এক নারীর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকা থেকে আকতার হোসেন ও নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের ডাকাতি মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ২ আগস্ট দুপুরে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি যাত্রীবাহী বাসকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা অনুসরণ করছিল। অটোরিকশায় থাকা বোরকা পরা এক নারী বাসটির গতিবিধি নজরদারি করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার দেওয়া সংকেতেই পাহাড় থেকে নেমে আসে সাত থেকে আটজনের একটি সশস্ত্র দল। তারা সড়কে গাছের গুঁড়ি ও পেরেকযুক্ত কাঠ ফেলে বাসের গতি রোধ করে।

এরপর চারজন ডাকাত বাসে উঠে বিকাশের দুই বিক্রয় প্রতিনিধির কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে তাদের ছুরিকাঘাত ও মারধর করা হয়। পুরো ঘটনাটি ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটে। ডাকাতরা পরে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, বাসে থাকা তিন বিকাশ প্রতিনিধির কাছে মোট ৮২ লাখ টাকা ছিল। এর মধ্যে একরাম হোছেনের কাছ থেকে ৩৫ লাখ এবং আল আরমানের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা লুট করা হয়। অপর প্রতিনিধি আবদুল করিমের কাছে থাকা ২৫ লাখ টাকা অক্ষত থাকে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ডাকাতরা সরাসরি টাকার ব্যাগ থাকা দুই প্রতিনিধির কাছেই যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আগে থেকেই তাদের কাছে টাকার তথ্য ছিল অথবা বাসে থাকা কারও মাধ্যমে তারা এ তথ্য পেয়েছিল। বাসের চালক, সহকারী কিংবা কোনো যাত্রীর সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির নেপথ্যে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বাসটিকে অনুসরণ করা বোরকা পরা নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে লুট হওয়া টাকা উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন এবং কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বোরকাপরা নারীর ইশারায় থামে বাস, ২০ মিনিটে ৫৭ লাখ টাকা লুট

আপডেটের সময় : ০৪:৫৯:৫০ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬

টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে দিনের বেলায় যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও লুট হওয়া টাকা উদ্ধার করা যায়নি। এ ঘটনায় বোরকা পরা এক নারীর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকা থেকে আকতার হোসেন ও নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের ডাকাতি মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ২ আগস্ট দুপুরে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি যাত্রীবাহী বাসকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা অনুসরণ করছিল। অটোরিকশায় থাকা বোরকা পরা এক নারী বাসটির গতিবিধি নজরদারি করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার দেওয়া সংকেতেই পাহাড় থেকে নেমে আসে সাত থেকে আটজনের একটি সশস্ত্র দল। তারা সড়কে গাছের গুঁড়ি ও পেরেকযুক্ত কাঠ ফেলে বাসের গতি রোধ করে।

এরপর চারজন ডাকাত বাসে উঠে বিকাশের দুই বিক্রয় প্রতিনিধির কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে তাদের ছুরিকাঘাত ও মারধর করা হয়। পুরো ঘটনাটি ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটে। ডাকাতরা পরে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, বাসে থাকা তিন বিকাশ প্রতিনিধির কাছে মোট ৮২ লাখ টাকা ছিল। এর মধ্যে একরাম হোছেনের কাছ থেকে ৩৫ লাখ এবং আল আরমানের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা লুট করা হয়। অপর প্রতিনিধি আবদুল করিমের কাছে থাকা ২৫ লাখ টাকা অক্ষত থাকে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ডাকাতরা সরাসরি টাকার ব্যাগ থাকা দুই প্রতিনিধির কাছেই যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আগে থেকেই তাদের কাছে টাকার তথ্য ছিল অথবা বাসে থাকা কারও মাধ্যমে তারা এ তথ্য পেয়েছিল। বাসের চালক, সহকারী কিংবা কোনো যাত্রীর সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির নেপথ্যে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বাসটিকে অনুসরণ করা বোরকা পরা নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে লুট হওয়া টাকা উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন এবং কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card