নিউইয়র্ক ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাস

  • আপডেটের সময় : ০৮:৩৪:০৫ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

আলোচিত ও বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা পুরোপুরি বিলুপ্ত করে জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল’ পাস হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ সময় অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনও হাউসে উপস্থাপন করা হয়।

পাস হওয়া সংশোধনী অনুযায়ী, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারাটি সম্পূর্ণভাবে রহিত হবে। ধারাটি বাতিলের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী জানান, সংকটাপন্ন তফশিলি ব্যাংক পুনর্গঠন, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট নিরসন এবং ব্যাংক অবসায়ন (লিকুইডেশন) না করে সরকারি অর্থের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই মূলত বাজারভিত্তিক একটি কাঠামো হিসেবে এ ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে যেসব কঠোর নিয়ন্ত্রক শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল, আইন কার্যকরের পর কোনো ব্যক্তি, শেয়ারহোল্ডার বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী তা পূরণ করতে পারেননি। ফলে এর মূল উদ্দেশ্য অর্জিত না হওয়ায় ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নথি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত মূল ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশে এই ধারাটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তরের সময় ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়। এ ধারার অধীনে কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পূর্ববর্তী শেয়ারহোল্ডার বা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ওই ব্যাংকের সম্পদ, দায় ও শেয়ার পুনর্গ্রহণের জন্য আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

তবে আইনটি পাসের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আর্থিক খাতে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের বিতর্কিত সাবেক পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দেয়। এমন প্রেক্ষাপট এবং শর্ত পূরণকারী কোনো যোগ্য বিনিয়োগকারী না পাওয়ার কারণে সরকার অবশেষে ধারাটি বাতিলের পদক্ষেপ নেয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ফিলিপাইনে ফেরিতে ভয়াবহ আগুনে ৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৮৬

ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু করল বার্সেলোনা

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাস

আপডেটের সময় : ০৮:৩৪:০৫ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আলোচিত ও বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা পুরোপুরি বিলুপ্ত করে জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল’ পাস হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ সময় অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনও হাউসে উপস্থাপন করা হয়।

পাস হওয়া সংশোধনী অনুযায়ী, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারাটি সম্পূর্ণভাবে রহিত হবে। ধারাটি বাতিলের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী জানান, সংকটাপন্ন তফশিলি ব্যাংক পুনর্গঠন, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট নিরসন এবং ব্যাংক অবসায়ন (লিকুইডেশন) না করে সরকারি অর্থের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই মূলত বাজারভিত্তিক একটি কাঠামো হিসেবে এ ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে যেসব কঠোর নিয়ন্ত্রক শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল, আইন কার্যকরের পর কোনো ব্যক্তি, শেয়ারহোল্ডার বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী তা পূরণ করতে পারেননি। ফলে এর মূল উদ্দেশ্য অর্জিত না হওয়ায় ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নথি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত মূল ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশে এই ধারাটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তরের সময় ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়। এ ধারার অধীনে কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পূর্ববর্তী শেয়ারহোল্ডার বা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ওই ব্যাংকের সম্পদ, দায় ও শেয়ার পুনর্গ্রহণের জন্য আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

তবে আইনটি পাসের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আর্থিক খাতে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের বিতর্কিত সাবেক পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দেয়। এমন প্রেক্ষাপট এবং শর্ত পূরণকারী কোনো যোগ্য বিনিয়োগকারী না পাওয়ার কারণে সরকার অবশেষে ধারাটি বাতিলের পদক্ষেপ নেয়।

Share this news as a Photo Card