নিউইয়র্ক ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের দলকে ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিলেন ইলন মাস্ক

  • আপডেটের সময় : ০১:০৭:৪৪ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও দল-সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পেছনে প্রায় ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার এই নজিরবিহীন আর্থিক জোগান মার্কিন রাজনীতিতে অতি ধনীদের প্রভাব ও আধিপত্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে ইলন মাস্ক তার সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠন আমেরিকা পিএসিকে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। ৬ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে সরাসরি দেওয়া অর্থের পরিমাণ ৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। তার মালিকানাধীন ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা ইনকরপোরেশনের মাধ্যমে এসেছে আরও প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার। সব মিলিয়ে চলতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে মাস্কের রাজনৈতিক অনুদান প্রায় ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

নির্বাচনী অর্থায়নের নথি অনুযায়ী, চলতি নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে মাস্ক এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ব্যক্তি পর্যায়ের অর্থদাতা। তার এই অর্থ ব্যয়ের মূল লক্ষ্য কংগ্রেসের দুই কক্ষ-প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সহায়তা করা।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে। নির্বাচনের ফলাফল কী হয়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিমালা বাস্তবায়ন ও কংগ্রেসে তার রাজনৈতিক অবস্থানে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

মাস্কের অর্থায়নের অন্যতম লক্ষ্য টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর বিরুদ্ধে প্রচারে আমেরিকা পিএসি প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। একই সঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থনে ব্যয় করেছে আরও ৪৮ লাখ ডলার। এ ছাড়া ওহাইও, মিশিগান, আইওয়া ও মেইনের নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচারে অর্থ ব্যয় করেছে সংগঠনটি।

ইলন মাস্কের এই অর্থায়ন কেবল বিজ্ঞাপন প্রচারে সীমাবদ্ধ নয়। ভোটারদের কাছে প্রচারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও এমনকি ভোট দিতে উৎসাহিত করার কার্যক্রমেও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ফলে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রিপাবলিকানদের মাঠপর্যায়ের প্রচার জোরদার করতে তার অর্থ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

মাস্কের অর্থায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ছে। টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো অভিযোগ করেছেন, ইলন মাস্ক এই রাজ্যের সিনেট আসন নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। তার বক্তব্য, এমন অতি ধনী ব্যক্তির বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সাধারণ ভোটারদের প্রভাব খর্ব হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলন মাস্ক যে ব্যয় করছেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও অতটা করেননি। ফোর্বসের হিসাবে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অন্যান্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে মাস্ক প্রায় ২৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিলেন। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার অনুদান ইতিমধ্যে সেই অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি।

২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে–পরে ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের দারুণ ঘনিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে মাস্ক প্রশাসনে যুক্ত হওয়ার পর তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। একপর্যায়ে ইলন মাস্ক প্রশাসন থেকে সরে আসেন। তবে এখনো সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তিতে কাজ করছে মাস্কের কোম্পানিগুলো। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও আছে। ডেমোক্র্যাটদের একাংশ মাস্কের সরকারি কার্যক্রম ও তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সরকারি চুক্তি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।

আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের লড়াই নয়। মার্কিন রাজনীতিতে অতি ধনীদের প্রভাব কতটা বিস্তৃত হতে পারে, সেটাও এই নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নিয়মিত বেতন পরিশোধ না করায় কুয়েতে ৮৮৪৯ কোম্পানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প

২৫ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের দলকে ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিলেন ইলন মাস্ক

আপডেটের সময় : ০১:০৭:৪৪ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও দল-সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পেছনে প্রায় ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার এই নজিরবিহীন আর্থিক জোগান মার্কিন রাজনীতিতে অতি ধনীদের প্রভাব ও আধিপত্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে ইলন মাস্ক তার সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠন আমেরিকা পিএসিকে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। ৬ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে সরাসরি দেওয়া অর্থের পরিমাণ ৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। তার মালিকানাধীন ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা ইনকরপোরেশনের মাধ্যমে এসেছে আরও প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার। সব মিলিয়ে চলতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে মাস্কের রাজনৈতিক অনুদান প্রায় ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

নির্বাচনী অর্থায়নের নথি অনুযায়ী, চলতি নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে মাস্ক এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ব্যক্তি পর্যায়ের অর্থদাতা। তার এই অর্থ ব্যয়ের মূল লক্ষ্য কংগ্রেসের দুই কক্ষ-প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সহায়তা করা।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে। নির্বাচনের ফলাফল কী হয়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিমালা বাস্তবায়ন ও কংগ্রেসে তার রাজনৈতিক অবস্থানে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

মাস্কের অর্থায়নের অন্যতম লক্ষ্য টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর বিরুদ্ধে প্রচারে আমেরিকা পিএসি প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। একই সঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থনে ব্যয় করেছে আরও ৪৮ লাখ ডলার। এ ছাড়া ওহাইও, মিশিগান, আইওয়া ও মেইনের নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচারে অর্থ ব্যয় করেছে সংগঠনটি।

ইলন মাস্কের এই অর্থায়ন কেবল বিজ্ঞাপন প্রচারে সীমাবদ্ধ নয়। ভোটারদের কাছে প্রচারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও এমনকি ভোট দিতে উৎসাহিত করার কার্যক্রমেও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ফলে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রিপাবলিকানদের মাঠপর্যায়ের প্রচার জোরদার করতে তার অর্থ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

মাস্কের অর্থায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ছে। টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো অভিযোগ করেছেন, ইলন মাস্ক এই রাজ্যের সিনেট আসন নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। তার বক্তব্য, এমন অতি ধনী ব্যক্তির বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সাধারণ ভোটারদের প্রভাব খর্ব হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলন মাস্ক যে ব্যয় করছেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও অতটা করেননি। ফোর্বসের হিসাবে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অন্যান্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে মাস্ক প্রায় ২৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিলেন। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার অনুদান ইতিমধ্যে সেই অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি।

২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে–পরে ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের দারুণ ঘনিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে মাস্ক প্রশাসনে যুক্ত হওয়ার পর তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। একপর্যায়ে ইলন মাস্ক প্রশাসন থেকে সরে আসেন। তবে এখনো সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তিতে কাজ করছে মাস্কের কোম্পানিগুলো। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও আছে। ডেমোক্র্যাটদের একাংশ মাস্কের সরকারি কার্যক্রম ও তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সরকারি চুক্তি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।

আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের লড়াই নয়। মার্কিন রাজনীতিতে অতি ধনীদের প্রভাব কতটা বিস্তৃত হতে পারে, সেটাও এই নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

Share this news as a Photo Card