নিউইয়র্ক ০৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন হামলায় নতিস্বীকার করবে না ইরান: সিআইএ

  • আপডেটের সময় : ০৮:০৬:৩১ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত সামরিক আগ্রাসন সত্ত্বেও ইরান তাদের আলোচনার অবস্থান সহজ করবে না এবং এই বিমান হামলার ফলে তেহরানের ওপর বড় কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে নতুন এক গোয়েন্দা তথ্য উঠে এসেছে।

ওয়াশিংটন-তেহরান বর্তমানে শান্তিবস্থা ও যুদ্ধের মধ্যবর্তী এক অনিশ্চিত অচলাবস্থায় আটকে গেছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত ফেব্রুয়ারি মাসে যে সংঘাতের সূচনা করেছিলেন, বর্তমান কৌশলগত গতিপথ সেখানে এক মরণপণ অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে। দেশে এই যুদ্ধের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও নতুন করে মার্কিন পদাতিক বা স্থলবাহিনী পাঠানোর ঝুঁকি নিলে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। 

জর্ডানের ঘাঁটিতে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র পরপর দশম রাত ইরানে বোমাবর্ষণ করেছে এবং সেন্টকম দশম দফায় বিমান হামলা শুরু করেছে। অন্যদিকে জবাব হিসেবে ইরান সোমবার (২০ জুলাই) সকালে কুয়েত ও বাহরাইনের আকাশসীমায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছে।

অন্য আঞ্চলিক ফ্রন্টে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়ে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের সংযোগস্থল বাব আল-মানদাব প্রণালী থামিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। 

এমন তীব্র সামরিক লড়াইয়ের মাঝেও কাতারসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দুই দেশ নতুন আলোচনার বার্তা আদান-প্রদান করেছে বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমাধানে প্রস্তুত থাকলেও ইরানি হার্ডলাইনারদের সামরিক আচরণের কারণেই মূলত হামলা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সিআইএ প্রধানত এই নতুন গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে শীর্ষ সামরিক নেতা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম হারিয়েও তেহরান সরকার টিকে থাকার সক্ষমতা দেখিয়েছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ পরিচালক জোনাথন প্যানিকফ জানান যে সামরিক চাপ দিয়ে ইরানকে নমনীয় করার মার্কিন ধারণা ভুল, কারণ ইরানের মূল অগ্রাধিকার হলো তাদের সরকারের টিকে থাকা। 

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে যে তেহরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের নমনীয় মনোভাবাপন্ন অংশ এবং রিভল্যুশনারি গার্ডের হার্ডলাইনারদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ থাকলেও সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও প্রধান আলোচনাকারী মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা ইয়েমেনের

২২ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মার্কিন হামলায় নতিস্বীকার করবে না ইরান: সিআইএ

আপডেটের সময় : ০৮:০৬:৩১ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত সামরিক আগ্রাসন সত্ত্বেও ইরান তাদের আলোচনার অবস্থান সহজ করবে না এবং এই বিমান হামলার ফলে তেহরানের ওপর বড় কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে নতুন এক গোয়েন্দা তথ্য উঠে এসেছে।

ওয়াশিংটন-তেহরান বর্তমানে শান্তিবস্থা ও যুদ্ধের মধ্যবর্তী এক অনিশ্চিত অচলাবস্থায় আটকে গেছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত ফেব্রুয়ারি মাসে যে সংঘাতের সূচনা করেছিলেন, বর্তমান কৌশলগত গতিপথ সেখানে এক মরণপণ অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে। দেশে এই যুদ্ধের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও নতুন করে মার্কিন পদাতিক বা স্থলবাহিনী পাঠানোর ঝুঁকি নিলে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। 

জর্ডানের ঘাঁটিতে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র পরপর দশম রাত ইরানে বোমাবর্ষণ করেছে এবং সেন্টকম দশম দফায় বিমান হামলা শুরু করেছে। অন্যদিকে জবাব হিসেবে ইরান সোমবার (২০ জুলাই) সকালে কুয়েত ও বাহরাইনের আকাশসীমায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছে।

অন্য আঞ্চলিক ফ্রন্টে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়ে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের সংযোগস্থল বাব আল-মানদাব প্রণালী থামিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। 

এমন তীব্র সামরিক লড়াইয়ের মাঝেও কাতারসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দুই দেশ নতুন আলোচনার বার্তা আদান-প্রদান করেছে বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমাধানে প্রস্তুত থাকলেও ইরানি হার্ডলাইনারদের সামরিক আচরণের কারণেই মূলত হামলা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সিআইএ প্রধানত এই নতুন গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে শীর্ষ সামরিক নেতা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম হারিয়েও তেহরান সরকার টিকে থাকার সক্ষমতা দেখিয়েছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ পরিচালক জোনাথন প্যানিকফ জানান যে সামরিক চাপ দিয়ে ইরানকে নমনীয় করার মার্কিন ধারণা ভুল, কারণ ইরানের মূল অগ্রাধিকার হলো তাদের সরকারের টিকে থাকা। 

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে যে তেহরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের নমনীয় মনোভাবাপন্ন অংশ এবং রিভল্যুশনারি গার্ডের হার্ডলাইনারদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ থাকলেও সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও প্রধান আলোচনাকারী মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

Share this news as a Photo Card