নিউইয়র্ক ১০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে দিল্লির দিকে কৃষকদের পদযাত্রা

  • আপডেটের সময় : ০৮:০৭:০২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ১২৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তির বিরুদ্ধে আয়োজিত কিষান মহাপঞ্চায়েতে যোগ দিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পাঞ্জাবের শত শত কৃষক দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তবে হরিয়ানায় প্রবেশের প্রধান পথ শম্ভু সীমান্তে হরিয়ানা পুলিশ তাদের আটকে দিয়েছে।

পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে ব্যারিকেডের এই দৃশ্য ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেবারও কৃষকদের রাজধানীতে ঢোকা আটকাতে কংক্রিটের ব্লক, লোহার পেরেক আর একাধিক স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে সীমান্তকে প্রায় দুর্গ বানিয়ে ফেলা হয়েছিল।

দিল্লিতে যাওয়ার অনুমতি না পেয়ে কৃষকরা শম্ভু সীমান্তকেই প্রতিবাদের মঞ্চ বানিয়ে নিয়েছেন। তারা হরিয়ানা ও পাঞ্জাব উভয় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

বিকেইউ (শহীদ ভগত সিং) নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের ভেতরেও ব্যারিকেড বসিয়েছে। পাঞ্জাব সরকার এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে শুধু নীরব দর্শক হয়ে রয়েছে।

পাঞ্জাবের কৃষকদের গাড়িবহর আটকে দেওয়া হলেও আমবালা, কুরুক্ষেত্রসহ হরিয়ানার বিভিন্ন জেলার কৃষকরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই মহাপঞ্চায়েতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন একজোট হয়েছে। কর্মসূচি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হবে।

কিষান মজদুর সংগ্রাম কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানান, কেএমএসসি, কিষান মজদুর মোর্চা (পাঞ্জাব), আজাদ কিষান মোর্চা ও বিকেইউ একতা সংগ্রামের গাড়িবহরগুলো পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকা থেকে রওনা হয়েছিল, যা পরে শম্ভু সীমান্তে আটকে দেওয়া হয়।

পান্ধের বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে ২০২৬ সালের শরতে বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির প্রথম পর্যায় চূড়ান্ত করার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এটি শুধু সাধারণ বাণিজ্যচুক্তি নয়, বরং কৃষি, দুগ্ধ, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয়, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি ও সেবা খাতসহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে আলোচনার দরজা খুলে দেবে।

কৃষক নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, অতীতের মার্কিন বাণিজ্য প্রতিবেদনগুলোতে ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ খাতে ব্যাপক প্রবেশাধিকারের দাবি করা হয়েছে। ভর্তুকিপ্রাপ্ত আমেরিকান সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, দুগ্ধজাত পণ্যসহ নানা কৃষিপণ্যের ওপর শুল্কছাড় দিলে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। এ ছাড়া চুক্তির আলোচনা সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। জনগণের সামনে মূল বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন।

সংগঠনগুলো জানিয়েছে, দেশের দুগ্ধ খাতই প্রায় আট কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। এই খাতে সামান্য নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিতে তার ঢেউ ছড়িয়ে পড়বে। দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির সব নথি অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, দুগ্ধ উৎপাদক ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া কোনো চুক্তি করা যাবে না।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে দিল্লির দিকে কৃষকদের পদযাত্রা

আপডেটের সময় : ০৮:০৭:০২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তির বিরুদ্ধে আয়োজিত কিষান মহাপঞ্চায়েতে যোগ দিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পাঞ্জাবের শত শত কৃষক দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তবে হরিয়ানায় প্রবেশের প্রধান পথ শম্ভু সীমান্তে হরিয়ানা পুলিশ তাদের আটকে দিয়েছে।

পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে ব্যারিকেডের এই দৃশ্য ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেবারও কৃষকদের রাজধানীতে ঢোকা আটকাতে কংক্রিটের ব্লক, লোহার পেরেক আর একাধিক স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে সীমান্তকে প্রায় দুর্গ বানিয়ে ফেলা হয়েছিল।

দিল্লিতে যাওয়ার অনুমতি না পেয়ে কৃষকরা শম্ভু সীমান্তকেই প্রতিবাদের মঞ্চ বানিয়ে নিয়েছেন। তারা হরিয়ানা ও পাঞ্জাব উভয় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

বিকেইউ (শহীদ ভগত সিং) নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের ভেতরেও ব্যারিকেড বসিয়েছে। পাঞ্জাব সরকার এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে শুধু নীরব দর্শক হয়ে রয়েছে।

পাঞ্জাবের কৃষকদের গাড়িবহর আটকে দেওয়া হলেও আমবালা, কুরুক্ষেত্রসহ হরিয়ানার বিভিন্ন জেলার কৃষকরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই মহাপঞ্চায়েতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন একজোট হয়েছে। কর্মসূচি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হবে।

কিষান মজদুর সংগ্রাম কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানান, কেএমএসসি, কিষান মজদুর মোর্চা (পাঞ্জাব), আজাদ কিষান মোর্চা ও বিকেইউ একতা সংগ্রামের গাড়িবহরগুলো পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকা থেকে রওনা হয়েছিল, যা পরে শম্ভু সীমান্তে আটকে দেওয়া হয়।

পান্ধের বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে ২০২৬ সালের শরতে বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির প্রথম পর্যায় চূড়ান্ত করার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এটি শুধু সাধারণ বাণিজ্যচুক্তি নয়, বরং কৃষি, দুগ্ধ, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয়, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি ও সেবা খাতসহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে আলোচনার দরজা খুলে দেবে।

কৃষক নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, অতীতের মার্কিন বাণিজ্য প্রতিবেদনগুলোতে ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ খাতে ব্যাপক প্রবেশাধিকারের দাবি করা হয়েছে। ভর্তুকিপ্রাপ্ত আমেরিকান সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, দুগ্ধজাত পণ্যসহ নানা কৃষিপণ্যের ওপর শুল্কছাড় দিলে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। এ ছাড়া চুক্তির আলোচনা সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। জনগণের সামনে মূল বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন।

সংগঠনগুলো জানিয়েছে, দেশের দুগ্ধ খাতই প্রায় আট কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। এই খাতে সামান্য নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিতে তার ঢেউ ছড়িয়ে পড়বে। দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির সব নথি অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, দুগ্ধ উৎপাদক ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া কোনো চুক্তি করা যাবে না।

Share this news as a Photo Card