নিউইয়র্ক ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের নতুন নিরাপত্তা অডিটে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর স্কোরে বড় উন্নতি

  • আপডেটের সময় : ১২:১৩:৪৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের (ডিএফটি) সাম্প্রতিক এক এভিয়েশন সিকিউরিটি অডিটে বাংলাদেশের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। অডিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছে।

গত বছর শাহজালালের স্কোর ছিল ৯৩ শতাংশ এবং ওসমানীর ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্কোর ১ শতাংশ পয়েন্ট এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্কোর ৪ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যমুখী ফ্লাইট, যাত্রী, কার্গো ও মেইল বা ডাক চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে ডিএফটি এই মূল্যায়ন পরিচালনা করে।

বেবিচক আরও জানায়, কার্গো নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘অ্যাডিশনাল মেজারস অ্যাসেসমেন্ট’-এ শতভাগ কমপ্লায়েন্স অর্জন করেছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপের ফলেই অতিরিক্ত এই নিরাপত্তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, এই বর্ধিত স্কোর দেশের এভিয়েশন সিকিউরিটি ব্যবস্থার ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রতিফলন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিমান চলাচলের সাথে যুক্ত এয়ারলাইন্স, যাত্রী এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

তাছাড়া এই ফল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২০১৭ সালে আরোপিত ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ (এইচআরসিএম) সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। ইইউমুখী কার্গো ও মেইলের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হলে সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় হবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছে, তবে সিদ্ধান্তটি নির্ভর করবে ইইউ-এর ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর।

আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম-কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (ইউএসএপি-সিএমএ)-এর জন্য এই অডিট ফল বিশেষ সহায়ক হবে। চলতি বছরের আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য আইসিএও অডিটে বেবিচক সদর দপ্তরসহ শাহজালাল ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ডিএফটি অডিটের প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণগুলো আইসিএও মূল্যায়নের আগে বাকি থাকা ঘাটতিগুলো চিহ্নিত ও দূর করতে ভূমিকা রাখবে।

বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নিবিড় তদারকি, বেবিচক নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য অংশীদারদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

যুক্তরাজ্যের নতুন নিরাপত্তা অডিটে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর স্কোরে বড় উন্নতি

আপডেটের সময় : ১২:১৩:৪৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের (ডিএফটি) সাম্প্রতিক এক এভিয়েশন সিকিউরিটি অডিটে বাংলাদেশের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। অডিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছে।

গত বছর শাহজালালের স্কোর ছিল ৯৩ শতাংশ এবং ওসমানীর ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্কোর ১ শতাংশ পয়েন্ট এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্কোর ৪ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যমুখী ফ্লাইট, যাত্রী, কার্গো ও মেইল বা ডাক চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে ডিএফটি এই মূল্যায়ন পরিচালনা করে।

বেবিচক আরও জানায়, কার্গো নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘অ্যাডিশনাল মেজারস অ্যাসেসমেন্ট’-এ শতভাগ কমপ্লায়েন্স অর্জন করেছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপের ফলেই অতিরিক্ত এই নিরাপত্তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, এই বর্ধিত স্কোর দেশের এভিয়েশন সিকিউরিটি ব্যবস্থার ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রতিফলন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিমান চলাচলের সাথে যুক্ত এয়ারলাইন্স, যাত্রী এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

তাছাড়া এই ফল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২০১৭ সালে আরোপিত ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ (এইচআরসিএম) সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। ইইউমুখী কার্গো ও মেইলের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হলে সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় হবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছে, তবে সিদ্ধান্তটি নির্ভর করবে ইইউ-এর ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর।

আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম-কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (ইউএসএপি-সিএমএ)-এর জন্য এই অডিট ফল বিশেষ সহায়ক হবে। চলতি বছরের আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য আইসিএও অডিটে বেবিচক সদর দপ্তরসহ শাহজালাল ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ডিএফটি অডিটের প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণগুলো আইসিএও মূল্যায়নের আগে বাকি থাকা ঘাটতিগুলো চিহ্নিত ও দূর করতে ভূমিকা রাখবে।

বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নিবিড় তদারকি, বেবিচক নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য অংশীদারদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

Share this news as a Photo Card