নিউইয়র্ক ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জাহান্নাম’ দেখাতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল ইরান

  • আপডেটের সময় : ১১:৪৭:২৯ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি মার্কিন জাহাজ এবং জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি সংবলিত নতুন ‘ধ্বংসকারী-বিরোধী’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাউ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য টেলিগ্রাফ ও সেন্টকমকে উদ্ধৃত করে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নবনিযুক্ত সচিব মহসিন রেজাই জানান, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহারের পর ‘আমেরিকানদের জন্য জাহান্নাম তৈরি হয়েছিল এবং তারা পালিয়ে গেছে’। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনের পর ইরান তাদের সামরিক কৌশল ‘প্রতিরোধমূলক’ অবস্থান থেকে পরিবর্তন করে ‘সক্রিয় প্রতিরোধ’ ব্যবস্থায় নিয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি অপটিক্যাল সেন্সর ও ক্যামেরার মাধ্যমে জিপিএস ছাড়াই নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই আক্রমণের কথা স্বীকার করলেও নিশ্চিত করেছে, ইরানের হামলায় তাদের কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝআকাশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার মার্কিন হামলায় ধ্বংস হওয়ার পরেই মূলত এই হামলা চালায় আইআরজিসি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের সশস্ত্র বাহিনী আত্মরক্ষার আইনগত অধিকার থেকেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

একই সঙ্গে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি এবং তেল ট্যাঙ্কারে আরও হামলার হুমকি দিয়ে নাবিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসি। বিশ্ব তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হওয়া হরমুজ প্রণালিতে চরম উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান এই প্রযুক্তি চীন বা রাশিয়ার কৃত্রিম উপগ্রহের সহায়তায় তৈরি করে থাকতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করেছেন, মার্কিন নৌঘাঁটি বা জাহাজে ইরানি আক্রমণ অব্যাহত থাকলে তারা আরও তেলবাহী জাহাজ হারাবে।সূত্র: টাইমস নাউ

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

থাইল্যান্ডে ১২ দক্ষিণ কোরীয় গ্রেপ্তার

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জাহান্নাম’ দেখাতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল ইরান

আপডেটের সময় : ১১:৪৭:২৯ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি মার্কিন জাহাজ এবং জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি সংবলিত নতুন ‘ধ্বংসকারী-বিরোধী’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাউ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য টেলিগ্রাফ ও সেন্টকমকে উদ্ধৃত করে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নবনিযুক্ত সচিব মহসিন রেজাই জানান, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহারের পর ‘আমেরিকানদের জন্য জাহান্নাম তৈরি হয়েছিল এবং তারা পালিয়ে গেছে’। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনের পর ইরান তাদের সামরিক কৌশল ‘প্রতিরোধমূলক’ অবস্থান থেকে পরিবর্তন করে ‘সক্রিয় প্রতিরোধ’ ব্যবস্থায় নিয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি অপটিক্যাল সেন্সর ও ক্যামেরার মাধ্যমে জিপিএস ছাড়াই নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই আক্রমণের কথা স্বীকার করলেও নিশ্চিত করেছে, ইরানের হামলায় তাদের কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝআকাশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার মার্কিন হামলায় ধ্বংস হওয়ার পরেই মূলত এই হামলা চালায় আইআরজিসি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের সশস্ত্র বাহিনী আত্মরক্ষার আইনগত অধিকার থেকেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

একই সঙ্গে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি এবং তেল ট্যাঙ্কারে আরও হামলার হুমকি দিয়ে নাবিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসি। বিশ্ব তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হওয়া হরমুজ প্রণালিতে চরম উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান এই প্রযুক্তি চীন বা রাশিয়ার কৃত্রিম উপগ্রহের সহায়তায় তৈরি করে থাকতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করেছেন, মার্কিন নৌঘাঁটি বা জাহাজে ইরানি আক্রমণ অব্যাহত থাকলে তারা আরও তেলবাহী জাহাজ হারাবে।সূত্র: টাইমস নাউ

Share this news as a Photo Card