নিউইয়র্ক ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকার আশ্বাস ওআইসির

  • আপডেটের সময় : ১২:৪৪:৪৪ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দ্রুত ও নিরাপদ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) দৃঢ় সমর্থন বজায় রাখবে এবং ঢাকার পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সংস্থাটির নবনিযুক্ত মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসি সচিবালয়ে তার সঙ্গে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এম জে এইচ জাবেদের এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।

বৈঠকে ওআইসি মহাসচিবকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রদূত জাবেদ। মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন মেয়াদে বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ওআইসি মহাসচিব বলেন, এই মানবিক সংকটের দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য মারাত্মক সংকট তৈরি করবে। সাক্ষাৎকালে ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সংস্কার অগ্রগতি আরও বেগবান হবে।

গাজীপুরে অবস্থিত ওআইসির বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) অবদানের প্রশংসা করে মহাসচিব জানান, মুসলিম উম্মাহর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে এই বিদ্যাপীঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সহ উদীয়মান প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আইইউটির গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার ভবিষ্যৎ বিদেশ সফরের তালিকায় অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারমূলক দেশ হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ।

যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত প্রকাশ করে যে, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের সুবিধা নিয়ে ওআইসিভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ (কনট্রাক্ট ফার্মিং), স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সেবা ও পর্যটন এবং উচ্চশিক্ষা খাতে যৌথ বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ইতিবাচক ও আন্তরিক মনোভাব প্রদর্শনের জন্য ওআইসি মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত জাবেদ বলেন, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট যৌথ ইস্যুগুলোতে আগামী দিনে ওআইসি সচিবালয়ের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকার আশ্বাস ওআইসির

আপডেটের সময় : ১২:৪৪:৪৪ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দ্রুত ও নিরাপদ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) দৃঢ় সমর্থন বজায় রাখবে এবং ঢাকার পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সংস্থাটির নবনিযুক্ত মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসি সচিবালয়ে তার সঙ্গে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এম জে এইচ জাবেদের এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।

বৈঠকে ওআইসি মহাসচিবকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রদূত জাবেদ। মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন মেয়াদে বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ওআইসি মহাসচিব বলেন, এই মানবিক সংকটের দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য মারাত্মক সংকট তৈরি করবে। সাক্ষাৎকালে ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সংস্কার অগ্রগতি আরও বেগবান হবে।

গাজীপুরে অবস্থিত ওআইসির বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) অবদানের প্রশংসা করে মহাসচিব জানান, মুসলিম উম্মাহর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে এই বিদ্যাপীঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সহ উদীয়মান প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আইইউটির গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার ভবিষ্যৎ বিদেশ সফরের তালিকায় অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারমূলক দেশ হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ।

যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত প্রকাশ করে যে, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের সুবিধা নিয়ে ওআইসিভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ (কনট্রাক্ট ফার্মিং), স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সেবা ও পর্যটন এবং উচ্চশিক্ষা খাতে যৌথ বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ইতিবাচক ও আন্তরিক মনোভাব প্রদর্শনের জন্য ওআইসি মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত জাবেদ বলেন, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট যৌথ ইস্যুগুলোতে আগামী দিনে ওআইসি সচিবালয়ের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

Share this news as a Photo Card