নিউইয়র্ক ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোডশেডিংয়ে বন্ধ এয়ার ফ্লো মেশিন, পচছে মানিকগঞ্জের পেঁয়াজ

  • আপডেটের সময় : ০৫:০৬:২২ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মানিকগঞ্জে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বিপাকে পড়েছেন প্রায় সাড়ে চারশো চাষি। সংরক্ষণাগারে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যবহৃত এয়ার ফ্লো মেশিন বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ থাকছে। এতে সংরক্ষণাগারের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটছে এবং দ্রুত পচে নষ্ট হচ্ছে মজুত করা পেঁয়াজ। ইতোমধ্যে কয়েকশ মণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পেঁয়াজের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দীর্ঘদিন সংরক্ষণে রাখার জন্য জেলার ৪৫০ জন চাষির মধ্যে আধুনিক এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক পরবর্তী সময়ে ভালো দামে বিক্রির আশায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মেশিনগুলো নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংরক্ষণাগারের পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় পেঁয়াজে পচন ধরছে।

হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. সুমন মেম্বার বলেন, ভালো লাভের আশায় কষ্টার্জিত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চোখের সামনেই পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

ঝিটকা পেঁয়াজ হাটের সহ-সভাপতি মো. বাবুল মিয়া বলেন, সংরক্ষণ করা পেঁয়াজ পচে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন। কিছুদিন আগেও যে পেঁয়াজ পাইকারিতে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কৃষকরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না। পাশাপাশি এয়ার ফ্লো মেশিন চালু রাখতে বিকল্প বিদ্যুৎ বা সৌরশক্তির ব্যবস্থা করা গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাজাহান সিরাজ বলেন, জেলার ৪৫০ জন চাষিকে দেওয়া এয়ার ফ্লো মেশিন দীর্ঘমেয়াদে পেঁয়াজ সংরক্ষণে অত্যন্ত কার্যকর। তবে সাম্প্রতিক লোডশেডিংয়ের কারণে মেশিন পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে। কৃষকদের ক্ষতি কীভাবে কমানো যায় এবং বিকল্প কোনো উপায়ে এ সমস্যার সমাধান করা যায় কি না, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩ হোটেল-রেস্তোরাঁকে শোকজ

২১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

লোডশেডিংয়ে বন্ধ এয়ার ফ্লো মেশিন, পচছে মানিকগঞ্জের পেঁয়াজ

আপডেটের সময় : ০৫:০৬:২২ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মানিকগঞ্জে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বিপাকে পড়েছেন প্রায় সাড়ে চারশো চাষি। সংরক্ষণাগারে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যবহৃত এয়ার ফ্লো মেশিন বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ থাকছে। এতে সংরক্ষণাগারের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটছে এবং দ্রুত পচে নষ্ট হচ্ছে মজুত করা পেঁয়াজ। ইতোমধ্যে কয়েকশ মণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পেঁয়াজের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দীর্ঘদিন সংরক্ষণে রাখার জন্য জেলার ৪৫০ জন চাষির মধ্যে আধুনিক এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক পরবর্তী সময়ে ভালো দামে বিক্রির আশায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মেশিনগুলো নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংরক্ষণাগারের পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় পেঁয়াজে পচন ধরছে।

হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. সুমন মেম্বার বলেন, ভালো লাভের আশায় কষ্টার্জিত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চোখের সামনেই পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

ঝিটকা পেঁয়াজ হাটের সহ-সভাপতি মো. বাবুল মিয়া বলেন, সংরক্ষণ করা পেঁয়াজ পচে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন। কিছুদিন আগেও যে পেঁয়াজ পাইকারিতে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কৃষকরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না। পাশাপাশি এয়ার ফ্লো মেশিন চালু রাখতে বিকল্প বিদ্যুৎ বা সৌরশক্তির ব্যবস্থা করা গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাজাহান সিরাজ বলেন, জেলার ৪৫০ জন চাষিকে দেওয়া এয়ার ফ্লো মেশিন দীর্ঘমেয়াদে পেঁয়াজ সংরক্ষণে অত্যন্ত কার্যকর। তবে সাম্প্রতিক লোডশেডিংয়ের কারণে মেশিন পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে। কৃষকদের ক্ষতি কীভাবে কমানো যায় এবং বিকল্প কোনো উপায়ে এ সমস্যার সমাধান করা যায় কি না, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card