নিউইয়র্ক ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

  • আপডেটের সময় : ১২:৩০:৩৭ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম কার্যকরভাবে তদারকির জন্য বিরোধী দলকে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত শরৎ উৎসব ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

কায়সার কামাল বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থাকলে সরকারের কর্মকাণ্ড আরও নিবিড়ভাবে তদারকি করা যাবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

তিনি বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা এবং গঠনমূলক সমালোচনা করা বিরোধী দলের অন্যতম দায়িত্ব। রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি সংসদের ভেতরেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সরকারি দল ও বিরোধী দলকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ডেপুটি স্পিকার। তাঁর মতে, সততা, নীতিনিষ্ঠা ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে শুধু রাজনৈতিক সংস্কার যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা না গেলে প্রত্যাশিত পরিবর্তন অর্জন কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করেও জনগণের কাছে কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করে গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা কার্যক্রমের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং লালফিতার দৌরাত্ম্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকার নানা উদ্যোগ ও প্রণোদনা দিলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ের দুর্বলতার কারণে অনেক সময় তার সুফল যথাযথভাবে পৌঁছায় না। নীতিনির্ধারকেরা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কায়সার কামাল বলেন, সরকারি সেবা ও সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজসহ সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, দায়িত্বশীল বিরোধী দল, জবাবদিহিমূলক সরকার এবং কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থার সমন্বয়েই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আসিয়ান কাপের কলঙ্ক ভুলতে চায় বাফুফে

১৩ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

আপডেটের সময় : ১২:৩০:৩৭ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম কার্যকরভাবে তদারকির জন্য বিরোধী দলকে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত শরৎ উৎসব ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

কায়সার কামাল বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থাকলে সরকারের কর্মকাণ্ড আরও নিবিড়ভাবে তদারকি করা যাবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

তিনি বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা এবং গঠনমূলক সমালোচনা করা বিরোধী দলের অন্যতম দায়িত্ব। রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি সংসদের ভেতরেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সরকারি দল ও বিরোধী দলকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ডেপুটি স্পিকার। তাঁর মতে, সততা, নীতিনিষ্ঠা ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে শুধু রাজনৈতিক সংস্কার যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা না গেলে প্রত্যাশিত পরিবর্তন অর্জন কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করেও জনগণের কাছে কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করে গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা কার্যক্রমের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং লালফিতার দৌরাত্ম্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকার নানা উদ্যোগ ও প্রণোদনা দিলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ের দুর্বলতার কারণে অনেক সময় তার সুফল যথাযথভাবে পৌঁছায় না। নীতিনির্ধারকেরা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কায়সার কামাল বলেন, সরকারি সেবা ও সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজসহ সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, দায়িত্বশীল বিরোধী দল, জবাবদিহিমূলক সরকার এবং কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থার সমন্বয়েই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

Share this news as a Photo Card