নিউইয়র্ক ০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরিষাবাড়ীতে কাজ শেষের দুই মাসের মধ্যেই ধসে পড়লো গাইড ওয়াল

  • আপডেটের সময় : ০৭:১৭:৫২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর.) কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়ন করা একটি প্রকল্পের গাইড ওয়াল নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে রাস্তা রক্ষায় নির্মিত সিসি ব্লক ও ইটের গাইড ওয়ালের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অপরিকল্পিতভাবে কাজ করার কারণেই গাইড ওয়ালটি ধসে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের স্থল আবুল হোসেনের বাড়ি থেকে পদ্মবিল মসজিদগামী রাস্তার পাশে নির্মিত গাইড ওয়ালের একটি অংশ ভেঙে পাশের শস্যক্ষেতে পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের শুরু থেকেই কাজে নিম্নমানের ইট ও অপর্যাপ্ত সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই গাইড ওয়ালটি ধসে পড়ে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর.) কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প নম্বর ২৯-এর অধীনে ‘স্থল আবুল হোসেনের বাড়ি হতে পদ্মবিল মসজিদগামী রাস্তার প্যালাসাইটিং ও ভরাটকরণ’ প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আওনা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য জেসমিন আক্তারকে প্রকল্পের সভাপতি করা হয়।

স্থানীয় আজিম উদ্দিন, আমিন রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রকল্পের শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সঠিকভাবে সিমেন্ট ও ভালো মানের ইট ব্যবহার না করে দায়সারাভাবে কাজ করায় অল্প সময়ের মধ্যেই গাইড ওয়ালটি ভেঙে পড়েছে। সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।

প্রকল্পের সভাপতি ও আওনা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমি শুধু কাগজ-কলমে নামমাত্র সভাপতি। প্রকল্প ও কাজের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সব কাজ একক ক্ষমতাবলে প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা করেছেন। আমাদের কাছ থেকে শুধু স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। কোনো কাজেই আমাদের সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হয় না।’

অভিযোগের বিষয়ে আওনা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে গাইড ওয়াল ভেঙে পড়েছে। আমরা সঠিকভাবেই কাজ করেছি। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শওকত জামিল মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। আমি দেশের বাইরে ছুটিতে আছি। দেশে ফিরে অফিসে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো ধসে পড়ার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রকল্পের কাজের মান, বরাদ্দের অর্থের ব্যবহার এবং অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সময় বেড়েছে চার বছর, ব্যয় বেড়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

১৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সরিষাবাড়ীতে কাজ শেষের দুই মাসের মধ্যেই ধসে পড়লো গাইড ওয়াল

আপডেটের সময় : ০৭:১৭:৫২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর.) কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়ন করা একটি প্রকল্পের গাইড ওয়াল নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে রাস্তা রক্ষায় নির্মিত সিসি ব্লক ও ইটের গাইড ওয়ালের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অপরিকল্পিতভাবে কাজ করার কারণেই গাইড ওয়ালটি ধসে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের স্থল আবুল হোসেনের বাড়ি থেকে পদ্মবিল মসজিদগামী রাস্তার পাশে নির্মিত গাইড ওয়ালের একটি অংশ ভেঙে পাশের শস্যক্ষেতে পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের শুরু থেকেই কাজে নিম্নমানের ইট ও অপর্যাপ্ত সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই গাইড ওয়ালটি ধসে পড়ে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর.) কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প নম্বর ২৯-এর অধীনে ‘স্থল আবুল হোসেনের বাড়ি হতে পদ্মবিল মসজিদগামী রাস্তার প্যালাসাইটিং ও ভরাটকরণ’ প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আওনা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য জেসমিন আক্তারকে প্রকল্পের সভাপতি করা হয়।

স্থানীয় আজিম উদ্দিন, আমিন রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রকল্পের শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সঠিকভাবে সিমেন্ট ও ভালো মানের ইট ব্যবহার না করে দায়সারাভাবে কাজ করায় অল্প সময়ের মধ্যেই গাইড ওয়ালটি ভেঙে পড়েছে। সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।

প্রকল্পের সভাপতি ও আওনা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমি শুধু কাগজ-কলমে নামমাত্র সভাপতি। প্রকল্প ও কাজের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সব কাজ একক ক্ষমতাবলে প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা করেছেন। আমাদের কাছ থেকে শুধু স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। কোনো কাজেই আমাদের সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হয় না।’

অভিযোগের বিষয়ে আওনা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে গাইড ওয়াল ভেঙে পড়েছে। আমরা সঠিকভাবেই কাজ করেছি। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শওকত জামিল মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। আমি দেশের বাইরে ছুটিতে আছি। দেশে ফিরে অফিসে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো ধসে পড়ার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রকল্পের কাজের মান, বরাদ্দের অর্থের ব্যবহার এবং অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Share this news as a Photo Card