নিউইয়র্ক ০৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে দিল্লিকে সব উজাড় করে দিয়েছে: রিজভী

  • আপডেটের সময় : ০৭:৩৫:২৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

শুধুমাত্র ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকতে পার্শ্ববর্তী দেশ দিল্লির কাছে সবকিছু উজাড় করে দেশের সার্বভৌমত্বকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সবাইকে উপেক্ষা ও তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকতেই তিনি (শেখ হাসিনা) এত রক্ত ঝরিয়েছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, রিমান্ড, গুম ও খুনের মতো এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি। পৃথিবীর অন্য কোনো শাসকের সঙ্গে এই ফ্যাসিস্টের তুলনা চলে না। হিটলারসহ বিশ্বের অন্যান্য অন্যায়কারীদের মধ্যেও অন্তত দেশপ্রেম ছিল, তারা নিজেদের দেশকে সেরাদের তালিকায় নিতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। এই কারণেই জনগণের ওপর চালানো হয়েছে চরম অত্যাচার, ঝরানো হয়েছে রক্ত।

আওয়ামী লীগ নেত্রীর ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘ফেরারি পাখিরা কখনো ফিরে আসে না, শেখ হাসিনাও আর ফিরতে পারবেন না।’ তবে তাকে যদি জোর করে বের করে দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো তিনি ফিরতে পারতেন। লেনিন কিংবা ইমাম খোমেনির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তারা দেশে ফিরতে পেরেছিলেন কারণ তারা দেশের অর্থ পাচার করেননি, ব্যাংকের টাকা লুট করেননি কিংবা প্লট নেননি। তবে নিজেদের মধ্যে ঐক্যের অভাব থাকলে ফ্যাসিবাদ অন্য কোনো রূপে ফের মাথাচাড়া দিতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচালনা করতে হবে। সে লক্ষ্যে বর্তমানে ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’, আনন্দময় শিখন বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, ভাষা শেখা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) সর্বাধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মডেল-অভিনেত্রী রিধিকার রহস্যজনক মৃত্যু, প্রেমিক গ্রেপ্তার

বাংলাদেশের মাটিতে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করতে চাই: ফয়জুল করীম

১৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

শেখ হাসিনা চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে দিল্লিকে সব উজাড় করে দিয়েছে: রিজভী

আপডেটের সময় : ০৭:৩৫:২৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

শুধুমাত্র ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকতে পার্শ্ববর্তী দেশ দিল্লির কাছে সবকিছু উজাড় করে দেশের সার্বভৌমত্বকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সবাইকে উপেক্ষা ও তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকতেই তিনি (শেখ হাসিনা) এত রক্ত ঝরিয়েছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, রিমান্ড, গুম ও খুনের মতো এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি। পৃথিবীর অন্য কোনো শাসকের সঙ্গে এই ফ্যাসিস্টের তুলনা চলে না। হিটলারসহ বিশ্বের অন্যান্য অন্যায়কারীদের মধ্যেও অন্তত দেশপ্রেম ছিল, তারা নিজেদের দেশকে সেরাদের তালিকায় নিতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। এই কারণেই জনগণের ওপর চালানো হয়েছে চরম অত্যাচার, ঝরানো হয়েছে রক্ত।

আওয়ামী লীগ নেত্রীর ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘ফেরারি পাখিরা কখনো ফিরে আসে না, শেখ হাসিনাও আর ফিরতে পারবেন না।’ তবে তাকে যদি জোর করে বের করে দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো তিনি ফিরতে পারতেন। লেনিন কিংবা ইমাম খোমেনির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তারা দেশে ফিরতে পেরেছিলেন কারণ তারা দেশের অর্থ পাচার করেননি, ব্যাংকের টাকা লুট করেননি কিংবা প্লট নেননি। তবে নিজেদের মধ্যে ঐক্যের অভাব থাকলে ফ্যাসিবাদ অন্য কোনো রূপে ফের মাথাচাড়া দিতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচালনা করতে হবে। সে লক্ষ্যে বর্তমানে ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’, আনন্দময় শিখন বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, ভাষা শেখা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) সর্বাধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।

Share this news as a Photo Card