নিউইয়র্ক ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালালো চীন

  • আপডেটের সময় : ০৮:৫৮:৪৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ২৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে সফলভাবে নতুন একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে চীন। এই সামরিক পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগেই বেইজিং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে তাদের এই পূর্বপরিকল্পিত অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছিল।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির দেওয়া বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে যে বেইজিংয়ের একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে একটি ডামি বা নকল যুদ্ধাস্ত্রসহ কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে নিক্ষেপ করা হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা বেজে ১ মিনিটে চালানো এই অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ধারিত আন্তর্জাতিক জলসীমায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম পরীক্ষার পর এটি বেইজিংয়ের দ্বিতীয় কোনো কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের বড় পরীক্ষা। এর আগে ১৯৮০ সালের পর চীন আর কখনো মহাসাগরের এই অংশে এমন কোনো পরীক্ষা চালায়নি।

চীন সরকার অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং জাপানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে যে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে পরমাণু বহনে সক্ষম একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আসন্ন উৎক্ষেপণের বিষয়ে আঞ্চলিক সরকারগুলোকে আগেই বার্তা পাঠানো হয়েছিল।

সিনহুয়ার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি মূলত চীনা সামরিক বাহিনীর একটি নিয়মিত বার্ষিক প্রশিক্ষণ অনুশীলনের অংশ, যার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেভাগেই অবহিত করা হয়েছিল। এই পরীক্ষাটি সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক রীতিনীতি মেনে পরিচালনা করা হয়েছে এবং এটি নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে করা হয়নি বলে বেইজিং দাবি করেছে।

অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা স্টারবোর্ড কিছু কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে যে চীন বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের দুটি স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং বা উপগ্রহ নজরদারি জাহাজ মোতায়েন করে রেখেছে। এই বিশেষ জাহাজগুলো মূলত পরীক্ষামূলক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের গতিবিধি ও তথ্য পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জাপানের কিয়োডো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে টোকিওকেও এই পরীক্ষার বিষয়ে আগে থেকে জানানো হয়েছিল। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকল্পনাটি পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্বিবেচনা করার জন্য বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি জাপানি প্রশাসন এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩ হোটেল-রেস্তোরাঁকে শোকজ

২১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালালো চীন

আপডেটের সময় : ০৮:৫৮:৪৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে সফলভাবে নতুন একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে চীন। এই সামরিক পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগেই বেইজিং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে তাদের এই পূর্বপরিকল্পিত অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছিল।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির দেওয়া বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে যে বেইজিংয়ের একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে একটি ডামি বা নকল যুদ্ধাস্ত্রসহ কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে নিক্ষেপ করা হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা বেজে ১ মিনিটে চালানো এই অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ধারিত আন্তর্জাতিক জলসীমায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম পরীক্ষার পর এটি বেইজিংয়ের দ্বিতীয় কোনো কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের বড় পরীক্ষা। এর আগে ১৯৮০ সালের পর চীন আর কখনো মহাসাগরের এই অংশে এমন কোনো পরীক্ষা চালায়নি।

চীন সরকার অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং জাপানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে যে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে পরমাণু বহনে সক্ষম একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আসন্ন উৎক্ষেপণের বিষয়ে আঞ্চলিক সরকারগুলোকে আগেই বার্তা পাঠানো হয়েছিল।

সিনহুয়ার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি মূলত চীনা সামরিক বাহিনীর একটি নিয়মিত বার্ষিক প্রশিক্ষণ অনুশীলনের অংশ, যার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেভাগেই অবহিত করা হয়েছিল। এই পরীক্ষাটি সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক রীতিনীতি মেনে পরিচালনা করা হয়েছে এবং এটি নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে করা হয়নি বলে বেইজিং দাবি করেছে।

অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা স্টারবোর্ড কিছু কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে যে চীন বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের দুটি স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং বা উপগ্রহ নজরদারি জাহাজ মোতায়েন করে রেখেছে। এই বিশেষ জাহাজগুলো মূলত পরীক্ষামূলক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের গতিবিধি ও তথ্য পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জাপানের কিয়োডো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে টোকিওকেও এই পরীক্ষার বিষয়ে আগে থেকে জানানো হয়েছিল। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকল্পনাটি পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্বিবেচনা করার জন্য বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি জাপানি প্রশাসন এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Share this news as a Photo Card