নিউইয়র্ক ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে বন্ধ অটিজম স্কুল, থমকে গেছে ১০৮ শিশুর মানসিক বিকাশ

  • আপডেটের সময় : ১২:৪২:৪৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে ২০১৪ সালে সদর ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বেলকুচি অটিজম স্কুল’। তবে ২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অজ্ঞাত কারণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে স্থানীয় ১০৮ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তারা অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়টি চালু থাকলে সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগে তাদের মানসিক বিকাশ ও আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটত। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় বাড়ির বাইরে তাদের সামাজিক যোগাযোগের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফয়সাল আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্কুলটি চালু থাকলেও বর্তমানে এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ভবনটি ইউনিয়ন পরিষদের হওয়ায় এখানে স্কুল চলবে কি না, তা স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

তিনি আরও বলেন, স্কুল চালু থাকা অবস্থায় নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। স্কুল বন্ধ হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ১৮ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, নানামুখী প্রশাসনিক ও আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও তারা পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলে শিক্ষা উপকরণ সরিয়ে নিতে বাধ্য হন তারা। বর্তমানে স্কুলের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরাও দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন।

বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ ও পুনরায় চালুর বিষয়ে বেলকুচি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে স্কুলটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল। সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন স্কুলটি পুনরায় চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে আসবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য অনুমোদনের লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটারও দিয়েছেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ও স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে দ্রুত বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সিরাজগঞ্জে বন্ধ অটিজম স্কুল, থমকে গেছে ১০৮ শিশুর মানসিক বিকাশ

আপডেটের সময় : ১২:৪২:৪৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে ২০১৪ সালে সদর ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বেলকুচি অটিজম স্কুল’। তবে ২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অজ্ঞাত কারণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে স্থানীয় ১০৮ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তারা অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়টি চালু থাকলে সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগে তাদের মানসিক বিকাশ ও আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটত। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় বাড়ির বাইরে তাদের সামাজিক যোগাযোগের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফয়সাল আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্কুলটি চালু থাকলেও বর্তমানে এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ভবনটি ইউনিয়ন পরিষদের হওয়ায় এখানে স্কুল চলবে কি না, তা স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

তিনি আরও বলেন, স্কুল চালু থাকা অবস্থায় নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। স্কুল বন্ধ হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ১৮ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, নানামুখী প্রশাসনিক ও আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও তারা পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলে শিক্ষা উপকরণ সরিয়ে নিতে বাধ্য হন তারা। বর্তমানে স্কুলের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরাও দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন।

বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ ও পুনরায় চালুর বিষয়ে বেলকুচি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে স্কুলটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল। সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন স্কুলটি পুনরায় চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে আসবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য অনুমোদনের লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটারও দিয়েছেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ও স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে দ্রুত বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

Share this news as a Photo Card