নিউইয়র্ক ০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুবিধাবঞ্চিত-গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোন আনছে সহজ

  • আপডেটের সময় : ০৮:২৪:৪৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
  • ৮ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সুবিধাবঞ্চিত, গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর কাছে স্মার্টফোন সহজলভ্য করতে এবং আরও বেশি মানুষকে ডিজিটাল ও আর্থিক সেবায় যুক্ত করার জন্য একটি বিশেষ পাইলট কর্মসূচির অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১-এর পরিচালক আ ন ম মইনুল কবীরের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্দিষ্ট নীতি ও শর্তের অধীন এই পাইলট কর্মসূচি পরিচালনার জন্য সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেডকে আনুষ্ঠানিক অনাপত্তি (এনওসি) প্রদান করা হয়েছে।

উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো- স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে এককালীন অর্থ পরিশোধের যে বাধা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য তৈরি হয়, তা কমিয়ে আনা। এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেন ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস), ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত তথ্য, সরকারি ডিজিটাল সেবা, কৃষি ও বাজারের তথ্য, কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার বিভিন্ন কার্যক্রম স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজেই পরিচালনা করা সম্ভব। তবে উপযুক্ত স্মার্টফোনের তুলনামূলক বেশি দাম এখনো গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের জন্য বাধা হয়ে রয়েছে।

এই পাইলট কর্মসূচিটি স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা বাড়ানোর জন্য একটি দায়িত্বশীল ও নিয়ন্ত্রিত মডেল নিয়ে কাজ করবে। স্মার্টফোন কেনার এই প্রাথমিক বাধা কমিয়ে আনার মাধ্যমে এ উদ্যোগ আরও বেশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনে অংশ নিতে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা গ্রহণের সুযোগ করে দেবে।

এ বিষয়ে সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নায়েম ফয়েজ বলেন, ‘আজকের দিনে অনেকের কাছেই একটি স্মার্টফোন কেবল একটি যন্ত্রের চেয়েও বেশি কিছু। এটি আর্থিক সেবা, তথ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের একটি মাধ্যম হতে পারে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো, আর্থিক সীমাবদ্ধতা যেন কাউকে এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করে তা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এই পাইলট প্রকল্প অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হবে।’

সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেডের পরিচালক আবু আল মোতালিব বলেন, ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রকৃত সুফল তখনই অর্জিত হবে, যখন বড় শহরের বাইরে বসবাসকারী একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক বা নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যরাও অন্য সবার মতো সহজেই ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে। কারও নাগালের মধ্যে একটি উপযুক্ত স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়া মানে ওই ব্যক্তিকে ব্যাংকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, শিক্ষা, তথ্য, ব্যবসার সুযোগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট নীতি ও শর্তের অধীনে পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ কর্মসূচিটি পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি পাইলটের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নিয়মিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।

দায়িত্বশীল স্মার্টফোন অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিভিত্তিক মডেলগুলো কীভাবে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, সে বিষয়ে এই উদ্যোগ মূল্যবান ধারণা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মালয়েশিয়ায় ৩ বাংলাদেশি হত্যা: ভাষা জটিলতায় অভিযোগ গঠন স্থগিত

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ১২

১৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সুবিধাবঞ্চিত-গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোন আনছে সহজ

আপডেটের সময় : ০৮:২৪:৪৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

সুবিধাবঞ্চিত, গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর কাছে স্মার্টফোন সহজলভ্য করতে এবং আরও বেশি মানুষকে ডিজিটাল ও আর্থিক সেবায় যুক্ত করার জন্য একটি বিশেষ পাইলট কর্মসূচির অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১-এর পরিচালক আ ন ম মইনুল কবীরের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্দিষ্ট নীতি ও শর্তের অধীন এই পাইলট কর্মসূচি পরিচালনার জন্য সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেডকে আনুষ্ঠানিক অনাপত্তি (এনওসি) প্রদান করা হয়েছে।

উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো- স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে এককালীন অর্থ পরিশোধের যে বাধা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য তৈরি হয়, তা কমিয়ে আনা। এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেন ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস), ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত তথ্য, সরকারি ডিজিটাল সেবা, কৃষি ও বাজারের তথ্য, কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার বিভিন্ন কার্যক্রম স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজেই পরিচালনা করা সম্ভব। তবে উপযুক্ত স্মার্টফোনের তুলনামূলক বেশি দাম এখনো গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের জন্য বাধা হয়ে রয়েছে।

এই পাইলট কর্মসূচিটি স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা বাড়ানোর জন্য একটি দায়িত্বশীল ও নিয়ন্ত্রিত মডেল নিয়ে কাজ করবে। স্মার্টফোন কেনার এই প্রাথমিক বাধা কমিয়ে আনার মাধ্যমে এ উদ্যোগ আরও বেশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনে অংশ নিতে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা গ্রহণের সুযোগ করে দেবে।

এ বিষয়ে সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নায়েম ফয়েজ বলেন, ‘আজকের দিনে অনেকের কাছেই একটি স্মার্টফোন কেবল একটি যন্ত্রের চেয়েও বেশি কিছু। এটি আর্থিক সেবা, তথ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের একটি মাধ্যম হতে পারে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো, আর্থিক সীমাবদ্ধতা যেন কাউকে এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করে তা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এই পাইলট প্রকল্প অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হবে।’

সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেডের পরিচালক আবু আল মোতালিব বলেন, ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রকৃত সুফল তখনই অর্জিত হবে, যখন বড় শহরের বাইরে বসবাসকারী একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক বা নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যরাও অন্য সবার মতো সহজেই ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে। কারও নাগালের মধ্যে একটি উপযুক্ত স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়া মানে ওই ব্যক্তিকে ব্যাংকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, শিক্ষা, তথ্য, ব্যবসার সুযোগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট নীতি ও শর্তের অধীনে পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ কর্মসূচিটি পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি পাইলটের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নিয়মিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।

দায়িত্বশীল স্মার্টফোন অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিভিত্তিক মডেলগুলো কীভাবে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, সে বিষয়ে এই উদ্যোগ মূল্যবান ধারণা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card