নিউইয়র্ক ০৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেতুর নিচে পড়ে ছিল ঘোড়ার চামড়া ও মাথা, মাংসের গন্তব্য নিয়ে সংশয়

  • আপডেটের সময় : ০৪:৫১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় একটি সেতুর নিচ থেকে জবাই করা ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও পা উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নান্দাইল-ত্রিশাল সড়কের চরলক্ষ্মীদিয়া সেতুর নিচে বস্তাবন্দী অবস্থায় এসব অবশিষ্টাংশ দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘোড়ার শরীরের মাংসাল অংশগুলো না থাকায় অসাধু চক্র এই মাংস অন্য কোনো পশুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করেছে বলে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীদিয়া সেতুর নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় কয়েকটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। কৌতূহলবশত বস্তার মুখ খুললে ভেতরে ঘোড়ার চামড়া, কাটা পা ও মাথার অংশ বেরিয়ে আসে। জবাই করার স্পষ্ট প্রমাণ থাকায় মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সেতুর নিচে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। অনেকেই ঘটনাস্থলের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। বস্তায় ঘোড়ার শরীরের কোনো মাংসযুক্ত অংশ না থাকায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নান্দাইল উপজেলার কানুরামপুর এবং পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারি ইজারাভুক্ত হাটবাজারের বাইরে যত্রতত্র মাংস বিক্রির অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানে অনেক সময় অন্যত্র জবাই করা পশুর মাংস এনে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, কোনো অসাধু কসাই চক্র ঘোড়াটি জবাই করে এর মাংস এসব অনিবন্ধিত দোকানে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করে থাকতে পারে। অবশিষ্ট অংশগুলো প্রমাণ লোপাটের জন্য বস্তায় ভরে নদীর পাড়ে ফেলে যাওয়া হয়েছে।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, বিক্রির উদ্দেশ্যে যেকোনো পশু জবাইয়ের আগে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার মাধ্যমে সেটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। পশুটি সুস্থ এবং এর মাংস মানবদেহের জন্য নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই নিয়ম। তবে স্থানীয় বাজারগুলোর মাংসের দোকানগুলোতে এই বিধিমালার কোনো প্রয়োগ বা তদারকি চোখে পড়ে না। বিক্রেতারাও জবাইয়ের আগে পশু পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল্লা আল মামুন বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট কোনো জবাইখানা থাকলে সেখানে নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হয়। কিন্তু যত্রতত্র পশু জবাই করা হলে তা নজরদারি করতে যে বিপুল লোকবলের প্রয়োজন, সেটি আমাদের নেই।’

অন্যদিকে, নান্দাইল উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমান জানান, পশু জবাই তদারকির বিষয়টি তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। ২০১১ সালের জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী এই কাজটি সম্পূর্ণভাবে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের করার কথা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাইল তুরস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সেতুর নিচে পড়ে ছিল ঘোড়ার চামড়া ও মাথা, মাংসের গন্তব্য নিয়ে সংশয়

আপডেটের সময় : ০৪:৫১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় একটি সেতুর নিচ থেকে জবাই করা ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও পা উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নান্দাইল-ত্রিশাল সড়কের চরলক্ষ্মীদিয়া সেতুর নিচে বস্তাবন্দী অবস্থায় এসব অবশিষ্টাংশ দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘোড়ার শরীরের মাংসাল অংশগুলো না থাকায় অসাধু চক্র এই মাংস অন্য কোনো পশুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করেছে বলে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীদিয়া সেতুর নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় কয়েকটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। কৌতূহলবশত বস্তার মুখ খুললে ভেতরে ঘোড়ার চামড়া, কাটা পা ও মাথার অংশ বেরিয়ে আসে। জবাই করার স্পষ্ট প্রমাণ থাকায় মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সেতুর নিচে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। অনেকেই ঘটনাস্থলের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। বস্তায় ঘোড়ার শরীরের কোনো মাংসযুক্ত অংশ না থাকায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নান্দাইল উপজেলার কানুরামপুর এবং পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারি ইজারাভুক্ত হাটবাজারের বাইরে যত্রতত্র মাংস বিক্রির অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানে অনেক সময় অন্যত্র জবাই করা পশুর মাংস এনে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, কোনো অসাধু কসাই চক্র ঘোড়াটি জবাই করে এর মাংস এসব অনিবন্ধিত দোকানে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করে থাকতে পারে। অবশিষ্ট অংশগুলো প্রমাণ লোপাটের জন্য বস্তায় ভরে নদীর পাড়ে ফেলে যাওয়া হয়েছে।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, বিক্রির উদ্দেশ্যে যেকোনো পশু জবাইয়ের আগে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার মাধ্যমে সেটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। পশুটি সুস্থ এবং এর মাংস মানবদেহের জন্য নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই নিয়ম। তবে স্থানীয় বাজারগুলোর মাংসের দোকানগুলোতে এই বিধিমালার কোনো প্রয়োগ বা তদারকি চোখে পড়ে না। বিক্রেতারাও জবাইয়ের আগে পশু পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল্লা আল মামুন বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট কোনো জবাইখানা থাকলে সেখানে নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হয়। কিন্তু যত্রতত্র পশু জবাই করা হলে তা নজরদারি করতে যে বিপুল লোকবলের প্রয়োজন, সেটি আমাদের নেই।’

অন্যদিকে, নান্দাইল উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমান জানান, পশু জবাই তদারকির বিষয়টি তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। ২০১১ সালের জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী এই কাজটি সম্পূর্ণভাবে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের করার কথা।

Share this news as a Photo Card