নিউইয়র্ক ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবকে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • আপডেটের সময় : ০৪:২৫:৫৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের কাছে আনুমানিক ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদনের জন্য আইনপ্রণেতাদের অনুরোধ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই চুক্তির কথা নিশ্চিত করে। তবে চুক্তিটির জন্য এখনও কংগ্রেসের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এই প্রস্তাবিত বিক্রি গালফ অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির বাহক হিসেবে থাকা এক প্রধান নন-ন্যাটো সহযোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার উদ্দেশ্যকে সমর্থন করে। এই সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হলেও অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্য ক্ষুণ্ন হবে না বলে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে।

এই চুক্তির খবরটি এমন সময়ে এলো যখন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মারিব শহরের ওপরে সৌদি আরবের একটি এফ-ফিফটিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তারা স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন নির্মিত ওই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করার দৃশ্য ভিডিওতে প্রকাশ করেছে। এছাড়া বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে অন্তত তিন শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই বলে আসছে, তারা ইরান সমর্থিত হুথি, সৌদি আরব এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যকার এই যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না। অন্যদিকে, সামরিক সক্ষমতার তথ্য চীনের কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই চুক্তির বিরোধিতা শুরু করেছেন বেশ কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা। ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তি বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা যেখানে প্রযুক্তি চুরির সতর্কবার্তা দিচ্ছে, সেখানে এই চুক্তি হওয়া উচিত নয়।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব গত মাসে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামের একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যাতে তারা ওয়াশিংটনের ওপর কম নির্ভরশীল থাকতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইসরায়েলই বর্তমানে এফ-থার্টিফাইভ ব্যবহার করছে এবং সৌদি আরবের কাছে এই বিমান বিক্রিতে তারাও উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। এছাড়া ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার পর ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্ককে এই বিমান পাওয়ার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

সূত্র: আল জাজিরা

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সৌদি আরবকে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটের সময় : ০৪:২৫:৫৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবের কাছে আনুমানিক ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদনের জন্য আইনপ্রণেতাদের অনুরোধ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই চুক্তির কথা নিশ্চিত করে। তবে চুক্তিটির জন্য এখনও কংগ্রেসের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এই প্রস্তাবিত বিক্রি গালফ অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির বাহক হিসেবে থাকা এক প্রধান নন-ন্যাটো সহযোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার উদ্দেশ্যকে সমর্থন করে। এই সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হলেও অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্য ক্ষুণ্ন হবে না বলে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে।

এই চুক্তির খবরটি এমন সময়ে এলো যখন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মারিব শহরের ওপরে সৌদি আরবের একটি এফ-ফিফটিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তারা স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন নির্মিত ওই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করার দৃশ্য ভিডিওতে প্রকাশ করেছে। এছাড়া বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে অন্তত তিন শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই বলে আসছে, তারা ইরান সমর্থিত হুথি, সৌদি আরব এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যকার এই যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না। অন্যদিকে, সামরিক সক্ষমতার তথ্য চীনের কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই চুক্তির বিরোধিতা শুরু করেছেন বেশ কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা। ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তি বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা যেখানে প্রযুক্তি চুরির সতর্কবার্তা দিচ্ছে, সেখানে এই চুক্তি হওয়া উচিত নয়।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব গত মাসে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামের একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যাতে তারা ওয়াশিংটনের ওপর কম নির্ভরশীল থাকতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইসরায়েলই বর্তমানে এফ-থার্টিফাইভ ব্যবহার করছে এবং সৌদি আরবের কাছে এই বিমান বিক্রিতে তারাও উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। এছাড়া ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার পর ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্ককে এই বিমান পাওয়ার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

সূত্র: আল জাজিরা

Share this news as a Photo Card