নিউইয়র্ক ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ, চলেছে মাত্র ৭৭টি

  • আপডেটের সময় : ১০:০২:৪২ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল ২৮ শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে এই নৌপথ দিয়ে মাত্র ৭৭টি জাহাজ চলাচল করেছে। একই সময়ে ইরানের নিয়ন্ত্রিত নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত করার অভিযোগে ইরানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ২৮ শতাংশ কমে ৭৭টিতে নেমে আসে। এর মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা আগের সপ্তাহের ৪৫টি থেকে কমে ৩৩টিতে দাঁড়িয়েছে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথও এখন ইরানের নিয়ন্ত্রিত নৌপথের দিকে বেশি কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রণালিটি দিয়ে যাওয়া ২৮টি জাহাজের মধ্যে ২১টি প্রচলিত নৌপথের পরিবর্তে ইরানের একতরফাভাবে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে। শুধু ৬ সেপ্টেম্বরই আটটি জাহাজের মধ্যে সাতটি ওই রুট ব্যবহার করে।

কেপলার বলছে, পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং ইরানের নিয়ন্ত্রিত নৌপথের ওপর নির্ভরতা বাড়ার ঘটনা থেকে বোঝা যাচ্ছে, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকি এখন শুধু জাহাজগুলোর সতর্কতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যেও পড়তে শুরু করেছে।

তবে গত সপ্তাহের শেষ দিকে দেখা দেওয়া এই পরিস্থিতি সাময়িক, নাকি ভবিষ্যতে এটি নিয়মিত প্রবণতায় পরিণত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত করার বিষয়ে ইরানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দপ্তরটির এক মুখপাত্র বলেন, ইরানের নৌ চলাচল ব্যাহত করার কর্মকাণ্ড যেন স্বাভাবিক বা মেনে নেওয়ার মতো বিষয় হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন।

তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করার ইরানের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানকে নৌ চলাচল ব্যাহত করতে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করে রাখতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

অন্যদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জবাবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পারস্য উপসাগরজুড়ে অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, তেহরান পুরো পারস্য উপসাগরজুড়ে একটি ‘নিষিদ্ধ নৌ অঞ্চল’ কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পুরোপুরি অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজাই বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ওয়াশিংটনের জন্য ‘স্পষ্ট সতর্কবার্তা’। অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাব হিসেবে পারস্য উপসাগরজুড়ে নৌ চলাচল নিষিদ্ধ অঞ্চল তৈরি করা হবে, যা অবরোধের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রেজাই আরও দাবি করেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক প্রস্তুতির ধরন মৌলিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গাড়ি নয়, ইসরায়েলের সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করবে ভক্সওয়াগন

ইয়েমেনের কারাগারে সৌদি বিমান হামলার অভিযোগ, শিশুসহ ৭ নিহতের দাবি

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হরমুজে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ, চলেছে মাত্র ৭৭টি

আপডেটের সময় : ১০:০২:৪২ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল ২৮ শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে এই নৌপথ দিয়ে মাত্র ৭৭টি জাহাজ চলাচল করেছে। একই সময়ে ইরানের নিয়ন্ত্রিত নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত করার অভিযোগে ইরানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ২৮ শতাংশ কমে ৭৭টিতে নেমে আসে। এর মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা আগের সপ্তাহের ৪৫টি থেকে কমে ৩৩টিতে দাঁড়িয়েছে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথও এখন ইরানের নিয়ন্ত্রিত নৌপথের দিকে বেশি কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রণালিটি দিয়ে যাওয়া ২৮টি জাহাজের মধ্যে ২১টি প্রচলিত নৌপথের পরিবর্তে ইরানের একতরফাভাবে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে। শুধু ৬ সেপ্টেম্বরই আটটি জাহাজের মধ্যে সাতটি ওই রুট ব্যবহার করে।

কেপলার বলছে, পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং ইরানের নিয়ন্ত্রিত নৌপথের ওপর নির্ভরতা বাড়ার ঘটনা থেকে বোঝা যাচ্ছে, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকি এখন শুধু জাহাজগুলোর সতর্কতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যেও পড়তে শুরু করেছে।

তবে গত সপ্তাহের শেষ দিকে দেখা দেওয়া এই পরিস্থিতি সাময়িক, নাকি ভবিষ্যতে এটি নিয়মিত প্রবণতায় পরিণত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত করার বিষয়ে ইরানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দপ্তরটির এক মুখপাত্র বলেন, ইরানের নৌ চলাচল ব্যাহত করার কর্মকাণ্ড যেন স্বাভাবিক বা মেনে নেওয়ার মতো বিষয় হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন।

তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করার ইরানের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানকে নৌ চলাচল ব্যাহত করতে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করে রাখতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

অন্যদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জবাবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পারস্য উপসাগরজুড়ে অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, তেহরান পুরো পারস্য উপসাগরজুড়ে একটি ‘নিষিদ্ধ নৌ অঞ্চল’ কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পুরোপুরি অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজাই বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ওয়াশিংটনের জন্য ‘স্পষ্ট সতর্কবার্তা’। অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাব হিসেবে পারস্য উপসাগরজুড়ে নৌ চলাচল নিষিদ্ধ অঞ্চল তৈরি করা হবে, যা অবরোধের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রেজাই আরও দাবি করেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক প্রস্তুতির ধরন মৌলিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card