নিউইয়র্ক ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ নিয়ে ইরান-উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত, বাড়ছে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

  • আপডেটের সময় : ০৫:০৩:৩৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ওমানে অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। ‘ঐকমত্যের স্বার্থে’ বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওমান। একই সময়ে হরমুজ ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ ঘিরে নতুন করে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

রোববার রাতে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ বদর আলবুসাইদি জানান, সোমবার অনুষ্ঠেয় বৈঠকটি ঐকমত্যের স্বার্থে স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকে ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ওমানের সঙ্গে ইরানের করা একটি চুক্তির প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপনের কথা ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের অনুরোধে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। তেহরান ও মাসকাট যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈঠকের নতুন তারিখ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করবে ইরান।

এদিকে সৌদি আরব শুক্রবার ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটির ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি আপাতত বন্ধ রেখেছে। পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের প্রধান বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

রয়টার্সকে সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাইপলাইনটি বন্ধ থাকলে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে মজুত তেল দিয়ে সৌদি আরব পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারবে। এরপর বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে ইতোমধ্যে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

সৌদি আরব পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানায়নি এবং এটি কতদিন বন্ধ থাকবে তাও নিশ্চিত করেনি। তবে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, মেরামতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। স্যাটেলাইট ছবিতেও পাইপলাইনের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপক ধোঁয়া ওঠার দৃশ্য দেখা গেছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি ইউকেএমটিও জানিয়েছে, রোববার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় একটি জাহাজে গোলার মতো কোনো বস্তুর আঘাত লাগে। এতে আগুন ধরে গেলে জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ইরান জানিয়েছে, তাদের উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নিহত ও চারজন ক্রু আহত হয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না।

এদিকে গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা জুলাইয়ের পর প্রথমবার। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা দামও রোববার গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ২০ ডলারের বেশি হয়ে নতুন সর্বোচ্চ রেকর্ড করেছে।

অন্যদিকে ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথিদের হামলাও অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে সীমান্তের ওপার থেকে হামলার পর বাড়িঘর ও একটি মসজিদের ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও প্রকাশ করেছে সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। হুথিরাও জানিয়েছে, তারা পার্শ্ববর্তী একটি প্রদেশে সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় হুথিদের অগ্রগতি এবং সৌদি আরবে তাদের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন সৌদি মিত্রদের সমর্থন ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইলেও ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে সতর্ক রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হরমুজ নিয়ে ইরান-উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত, বাড়ছে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

আপডেটের সময় : ০৫:০৩:৩৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ওমানে অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। ‘ঐকমত্যের স্বার্থে’ বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওমান। একই সময়ে হরমুজ ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ ঘিরে নতুন করে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

রোববার রাতে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ বদর আলবুসাইদি জানান, সোমবার অনুষ্ঠেয় বৈঠকটি ঐকমত্যের স্বার্থে স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকে ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ওমানের সঙ্গে ইরানের করা একটি চুক্তির প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপনের কথা ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের অনুরোধে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। তেহরান ও মাসকাট যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈঠকের নতুন তারিখ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করবে ইরান।

এদিকে সৌদি আরব শুক্রবার ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটির ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি আপাতত বন্ধ রেখেছে। পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের প্রধান বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

রয়টার্সকে সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাইপলাইনটি বন্ধ থাকলে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে মজুত তেল দিয়ে সৌদি আরব পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারবে। এরপর বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে ইতোমধ্যে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

সৌদি আরব পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানায়নি এবং এটি কতদিন বন্ধ থাকবে তাও নিশ্চিত করেনি। তবে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, মেরামতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। স্যাটেলাইট ছবিতেও পাইপলাইনের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপক ধোঁয়া ওঠার দৃশ্য দেখা গেছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি ইউকেএমটিও জানিয়েছে, রোববার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় একটি জাহাজে গোলার মতো কোনো বস্তুর আঘাত লাগে। এতে আগুন ধরে গেলে জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ইরান জানিয়েছে, তাদের উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নিহত ও চারজন ক্রু আহত হয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না।

এদিকে গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা জুলাইয়ের পর প্রথমবার। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা দামও রোববার গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ২০ ডলারের বেশি হয়ে নতুন সর্বোচ্চ রেকর্ড করেছে।

অন্যদিকে ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথিদের হামলাও অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে সীমান্তের ওপার থেকে হামলার পর বাড়িঘর ও একটি মসজিদের ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও প্রকাশ করেছে সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। হুথিরাও জানিয়েছে, তারা পার্শ্ববর্তী একটি প্রদেশে সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় হুথিদের অগ্রগতি এবং সৌদি আরবে তাদের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন সৌদি মিত্রদের সমর্থন ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইলেও ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে সতর্ক রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স।

Share this news as a Photo Card