নিউইয়র্ক ০৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ পারাপারে সহযোগিতা করবে ইরান

  • আপডেটের সময় : ১২:৫৯:৪০ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইরান। আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে এ সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব হামলার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশসহ কোনো দেশের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

বাংলাদেশের জনগণকে মুসলিম ভাই-বোন উল্লেখ করে বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে তাদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান জালিল রাহিমি। তিনি বলেন, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী।

ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক। ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন ও মনোভাবকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে জালিল রাহিমি বলেন, তাদের সঙ্গে সমঝোতার অর্থ আত্মসমর্পণ, যা ইরান কখনো মেনে নেবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালালে পূর্ণ শক্তিতে তা প্রতিহত করতে ইরান প্রস্তুত। তবে তেহরান নিজে থেকে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত চায় না।

তিনি আরও বলেন, আত্মরক্ষার স্বার্থে ইরান নতুন ড্রোন তৈরি করেছে এবং যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে হাফিজ ও সাদীর মতো কবিদের দেশের মানুষ হিসেবে ইরানিরা যুদ্ধের পরিবর্তে শিল্প, সংস্কৃতি ও মানবতায় বিশ্বাসী।

মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরান কোনো আক্রমণ চালাবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ইরানের ‘রেড লাইন’ উল্লেখ করে তিনি পশ্চিমা হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মক্কা চুক্তি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জালিল রাহিমি বলেন, এ বিরোধ ইরানের ইসলামি বিপ্লবেরও আগের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে ইয়েমেনের হুথি, ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের হাশদ আল-শাবির প্রতি ইরানের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন রয়েছে।

শিয়া-সুন্নি বিভাজনের বিষয়টি নাকচ করে তিনি বলেন, ইরান কোনো গোষ্ঠীর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সমর্থন নির্ধারণ করে না। হামাস সুন্নি হওয়া সত্ত্বেও ইরান তাদের সমর্থন করছে। এমনকি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদেরও সমর্থন দিতে প্রস্তুত ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল পরাজিত হলেও ইরানবিষয়ক মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একই থাকবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী

নির্বাচনে হেরে ট্রাম্প বললেন, আমি কাউকে দোষ দিতে চাই না

০৪ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ পারাপারে সহযোগিতা করবে ইরান

আপডেটের সময় : ১২:৫৯:৪০ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইরান। আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে এ সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব হামলার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশসহ কোনো দেশের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

বাংলাদেশের জনগণকে মুসলিম ভাই-বোন উল্লেখ করে বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে তাদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান জালিল রাহিমি। তিনি বলেন, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী।

ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক। ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন ও মনোভাবকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে জালিল রাহিমি বলেন, তাদের সঙ্গে সমঝোতার অর্থ আত্মসমর্পণ, যা ইরান কখনো মেনে নেবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালালে পূর্ণ শক্তিতে তা প্রতিহত করতে ইরান প্রস্তুত। তবে তেহরান নিজে থেকে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত চায় না।

তিনি আরও বলেন, আত্মরক্ষার স্বার্থে ইরান নতুন ড্রোন তৈরি করেছে এবং যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে হাফিজ ও সাদীর মতো কবিদের দেশের মানুষ হিসেবে ইরানিরা যুদ্ধের পরিবর্তে শিল্প, সংস্কৃতি ও মানবতায় বিশ্বাসী।

মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরান কোনো আক্রমণ চালাবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ইরানের ‘রেড লাইন’ উল্লেখ করে তিনি পশ্চিমা হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মক্কা চুক্তি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জালিল রাহিমি বলেন, এ বিরোধ ইরানের ইসলামি বিপ্লবেরও আগের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে ইয়েমেনের হুথি, ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের হাশদ আল-শাবির প্রতি ইরানের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন রয়েছে।

শিয়া-সুন্নি বিভাজনের বিষয়টি নাকচ করে তিনি বলেন, ইরান কোনো গোষ্ঠীর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সমর্থন নির্ধারণ করে না। হামাস সুন্নি হওয়া সত্ত্বেও ইরান তাদের সমর্থন করছে। এমনকি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদেরও সমর্থন দিতে প্রস্তুত ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল পরাজিত হলেও ইরানবিষয়ক মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একই থাকবে।

Share this news as a Photo Card