নিউইয়র্ক ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাঁস খাওয়ার অভিযোগ তুলে রশিতে বেঁধে দুই কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা

  • আপডেটের সময় : ০৬:৫০:০৭ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ২৮ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীতে রশিতে বেঁধে দুই কুকুরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এলাকাজুড়ে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাদুরা বাজার-সংলগ্ন খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি, পরবর্তীতে আপনাদের জানানো যাবে।

ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি কুকুরকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এক ব্যক্তি মোটা গাছের গুঁড়ির মতো লাঠি দিয়ে কুকুর দুটির মাথায় বেধড়ক পেটাচ্ছেন। এ সময় পাশে আরও একজনকে সহযোগিতা করতে দেখা যায়। রশিতে বাঁধা কুকুর দুটি প্রাণ বাঁচানোর জন্য ছটফট করে করুণ চিৎকার করছে। একপর্যায়ে নির্মম পিটুনিতে মাথার মগজ বের হয়ে কুকুর দুটি গুরুতর আহত হয়ে ধুঁকতে থাকে। পরে সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানায়, খেজুরতলা এলাকার দোকানদার জাহাঙ্গীর প্যাদা দীর্ঘদিন ধরে কুকুর দুটিকে মায়া ও ভালোবাসায় পুষে আসছিলেন। শুক্রবার স্থানীয় বাসিন্দা মনজু হাওলাদারের ছয়টি হাঁসকে কোনো একটি কুকুর কামড় দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে সেই অভিযোগ জাহাঙ্গীরের পোষা কুকুর দুটির বিরুদ্ধে তোলা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে জাহাঙ্গীরের কাছে হাঁসের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। ক্ষতিপূরণ দিতে না পারায় তার সামনেই কুকুর দুটিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।

কুকুরের মালিক জাহাঙ্গীর প্যাদা (৪০) বলেন, ‘কুকুর দুইটা আমার পালা (পোষা) কুকুর। গত চার বছর ধরে পালি, ভ্যাক্সিনও করানো আছে যাতে কোনো মানুষের ক্ষয়-ক্ষতি না করতে পারে। গতকাল সকালে নাকি মনজু হাওলাদারের হাঁস কামড়াইছে কোনো কুকুরে। কিন্তু সে সময় আমার কুকুর পাশের বাড়িতে ঘুমাইয়া আছিল। এরপর তারা আমার কাছে আইসা হাঁসের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩ হাজার টাকা দাবি করে। আমার কাছে এত টাকা না থাকায় তা দিতে পারিনি। এরপর মিথ্যা অপবাদ দিয়া চোঁখের সামনে মনজু ও জহির আমার কুকুর দুটিকে রশিতে বাইন্ধা পিটাইয়া মারছে,আমি কিছু কইতে পারি নাই তাদের ভয়ে। তারা এখানে খুব পেশীশক্তি দেখায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার চোঁখের সামনে পোষা কুকুর দুটিকে তারা পিটাইয়া মারছে, খুব কষ্ট হইতেছে। বিচার চাইয়া লাভ হইবে কী বলেন? আমরা কি তাদের সাথে পারমু? তারা খুব শক্তিশালী আর আমি একা মানুষ।’

এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মনজু হাওলাদার (৩৫) খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকার রশিদ হাওলাদারের ছেলে এবং আরেক অভিযুক্ত জহির হাওলাদার (৩০) একই এলাকার নুর ইসলাম হাওলাদারের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রকাশ্যে কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী পিটিয়ে হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনা প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯-এর আওতায় বিচার্য।

স্থানীয় বাসিন্দা আবির হক বলেন, এভাবে কুকুর পিটিয়ে মারতে পারলে ভবিষ্যতে তারা বড় অপরাধও করতে পারবে। আমরা এদের বিচার চাই।

এদিকে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাত বলেন, আমি ইতোমধ্যে সদর থানার ওসিকে জানিয়েছি। তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। 

এ ঘটনায় শিগগিরই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান ইউএনও।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হাঁস খাওয়ার অভিযোগ তুলে রশিতে বেঁধে দুই কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেটের সময় : ০৬:৫০:০৭ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীতে রশিতে বেঁধে দুই কুকুরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এলাকাজুড়ে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাদুরা বাজার-সংলগ্ন খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি, পরবর্তীতে আপনাদের জানানো যাবে।

ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি কুকুরকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এক ব্যক্তি মোটা গাছের গুঁড়ির মতো লাঠি দিয়ে কুকুর দুটির মাথায় বেধড়ক পেটাচ্ছেন। এ সময় পাশে আরও একজনকে সহযোগিতা করতে দেখা যায়। রশিতে বাঁধা কুকুর দুটি প্রাণ বাঁচানোর জন্য ছটফট করে করুণ চিৎকার করছে। একপর্যায়ে নির্মম পিটুনিতে মাথার মগজ বের হয়ে কুকুর দুটি গুরুতর আহত হয়ে ধুঁকতে থাকে। পরে সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানায়, খেজুরতলা এলাকার দোকানদার জাহাঙ্গীর প্যাদা দীর্ঘদিন ধরে কুকুর দুটিকে মায়া ও ভালোবাসায় পুষে আসছিলেন। শুক্রবার স্থানীয় বাসিন্দা মনজু হাওলাদারের ছয়টি হাঁসকে কোনো একটি কুকুর কামড় দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে সেই অভিযোগ জাহাঙ্গীরের পোষা কুকুর দুটির বিরুদ্ধে তোলা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে জাহাঙ্গীরের কাছে হাঁসের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। ক্ষতিপূরণ দিতে না পারায় তার সামনেই কুকুর দুটিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।

কুকুরের মালিক জাহাঙ্গীর প্যাদা (৪০) বলেন, ‘কুকুর দুইটা আমার পালা (পোষা) কুকুর। গত চার বছর ধরে পালি, ভ্যাক্সিনও করানো আছে যাতে কোনো মানুষের ক্ষয়-ক্ষতি না করতে পারে। গতকাল সকালে নাকি মনজু হাওলাদারের হাঁস কামড়াইছে কোনো কুকুরে। কিন্তু সে সময় আমার কুকুর পাশের বাড়িতে ঘুমাইয়া আছিল। এরপর তারা আমার কাছে আইসা হাঁসের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩ হাজার টাকা দাবি করে। আমার কাছে এত টাকা না থাকায় তা দিতে পারিনি। এরপর মিথ্যা অপবাদ দিয়া চোঁখের সামনে মনজু ও জহির আমার কুকুর দুটিকে রশিতে বাইন্ধা পিটাইয়া মারছে,আমি কিছু কইতে পারি নাই তাদের ভয়ে। তারা এখানে খুব পেশীশক্তি দেখায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার চোঁখের সামনে পোষা কুকুর দুটিকে তারা পিটাইয়া মারছে, খুব কষ্ট হইতেছে। বিচার চাইয়া লাভ হইবে কী বলেন? আমরা কি তাদের সাথে পারমু? তারা খুব শক্তিশালী আর আমি একা মানুষ।’

এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মনজু হাওলাদার (৩৫) খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকার রশিদ হাওলাদারের ছেলে এবং আরেক অভিযুক্ত জহির হাওলাদার (৩০) একই এলাকার নুর ইসলাম হাওলাদারের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রকাশ্যে কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী পিটিয়ে হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনা প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯-এর আওতায় বিচার্য।

স্থানীয় বাসিন্দা আবির হক বলেন, এভাবে কুকুর পিটিয়ে মারতে পারলে ভবিষ্যতে তারা বড় অপরাধও করতে পারবে। আমরা এদের বিচার চাই।

এদিকে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাত বলেন, আমি ইতোমধ্যে সদর থানার ওসিকে জানিয়েছি। তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। 

এ ঘটনায় শিগগিরই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান ইউএনও।

Share this news as a Photo Card