নিউইয়র্ক ০৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে বাবার মৃত্যু, ছেলেকে পুলিশে দিলেন চিকিৎসকরা

  • আপডেটের সময় : ১২:৩৮:০৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত রোগীর ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৩ নম্বর ইউনিটে এ ঘটনা ঘটে।

ওই রোগীর নাম আতিয়ার শেখ (৬৫)। তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শাওতা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, আতিয়ার শেখকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা ইসিজি করানোর পরামর্শ দেন। ইসিজি করানোর প্রস্তুতির মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এরপর চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রথম দফার ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল চত্ত্বরে জড়ো হন। পরে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তাদেরও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

মৃত আতিয়ার শেখের স্বজন বলেন, রোগীকে এক ওয়ার্ড থেকে আরেক ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ইসিজি পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হয়। শুধু ডাক্তারদের বলা হয়েছে রোগী মারা গেছে এখন ইসিজি করতে আয়ছেন? এটাই হয়ে গেছে আমাদের অপরাধ। এই বিষয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে।

তাদের অভিযোগ, ঘটনার একপর্যায়ে তাদের কয়েকজনকে মারধর করা হয়। তাদের কয়েকজন স্বজন আহত হয়েছেন আবার পুলিশ তাদের ধরেও নিয়ে গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুও পর তার স্বজনেরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেছেন। এ ঘটনায় কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও দাবি তাদের।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আকুল উদ্দিন বলেন, চিকিৎসকেরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ওই সময় কয়েকজন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। গুরুতর অবস্থায় একজন রোগী হাসপাতালে আসেন এবং চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর পরপরই তিনি মারা যান। এতে চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল না। রোগীর মৃত্যুও পর রোগীর স্বজনেরা চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হন এবং গায়ে হাত দেন। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও কয়েকজন আহত হন। আমরা পুলিশকে খবর দিয়েছি। তাদেও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

পুলিশ জানায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত রোগীর ছেলে ও আরও দুই স্বজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, রাতে পুলিশ মেডিকেলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত আতিয়ার এর ছেলে ও আরও দুই স্বজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছে। আটককৃতদের তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হাসপাতালে বাবার মৃত্যু, ছেলেকে পুলিশে দিলেন চিকিৎসকরা

আপডেটের সময় : ১২:৩৮:০৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত রোগীর ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৩ নম্বর ইউনিটে এ ঘটনা ঘটে।

ওই রোগীর নাম আতিয়ার শেখ (৬৫)। তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শাওতা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, আতিয়ার শেখকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা ইসিজি করানোর পরামর্শ দেন। ইসিজি করানোর প্রস্তুতির মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এরপর চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রথম দফার ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল চত্ত্বরে জড়ো হন। পরে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তাদেরও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

মৃত আতিয়ার শেখের স্বজন বলেন, রোগীকে এক ওয়ার্ড থেকে আরেক ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ইসিজি পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হয়। শুধু ডাক্তারদের বলা হয়েছে রোগী মারা গেছে এখন ইসিজি করতে আয়ছেন? এটাই হয়ে গেছে আমাদের অপরাধ। এই বিষয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে।

তাদের অভিযোগ, ঘটনার একপর্যায়ে তাদের কয়েকজনকে মারধর করা হয়। তাদের কয়েকজন স্বজন আহত হয়েছেন আবার পুলিশ তাদের ধরেও নিয়ে গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুও পর তার স্বজনেরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেছেন। এ ঘটনায় কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও দাবি তাদের।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আকুল উদ্দিন বলেন, চিকিৎসকেরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ওই সময় কয়েকজন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। গুরুতর অবস্থায় একজন রোগী হাসপাতালে আসেন এবং চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর পরপরই তিনি মারা যান। এতে চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল না। রোগীর মৃত্যুও পর রোগীর স্বজনেরা চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হন এবং গায়ে হাত দেন। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও কয়েকজন আহত হন। আমরা পুলিশকে খবর দিয়েছি। তাদেও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

পুলিশ জানায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত রোগীর ছেলে ও আরও দুই স্বজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, রাতে পুলিশ মেডিকেলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত আতিয়ার এর ছেলে ও আরও দুই স্বজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছে। আটককৃতদের তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card