নিউইয়র্ক ০৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনা সরকার গ্যাস খাত আমদানিনির্ভর করায় বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে

  • আপডেটের সময় : ০৪:৪৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দীর্ঘদিনের নীতিগত সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দেশের গ্যাস খাত ক্রমেই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ায় বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। তাই এর পুরো দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপানো যাবে না।

রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্যাস সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এতে শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলমান গ্যাস সংকটের কারণে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং হয়েছে এবং ঢাকাতেও কয়েক দিন বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চলমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, জুলাইয়ে একটি এফএসআরইউতে ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এতে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে সংকট দেখা দেয়।

সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এর চেয়ে ভালো কিছু করার সুযোগ ছিল কি না, তা বিবেচনা করা দরকার। অন্য কেউ দায়িত্বে থাকলে সংকট আরও কমানো সম্ভব হতো কি না, সেই প্রশ্নও তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা মেনে নিয়ে এই সংকট কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।’

বর্তমান সংকটের জন্য দীর্ঘদিনের নীতি ও সিদ্ধান্তকে দায়ী করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। শেখ হাসিনা সরকারের সময় দেশের গ্যাস খাতকে ক্রমেই আমদানিনির্ভর করা হয়েছে।

তবে শুধু সাবেক সরকারকে দায়ী করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, জ্বালানি খাতের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়েই জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান সংকটও রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়।

জ্বালানি সংকট কমাতে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাইল তুরস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হাসিনা সরকার গ্যাস খাত আমদানিনির্ভর করায় বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে

আপডেটের সময় : ০৪:৪৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দীর্ঘদিনের নীতিগত সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দেশের গ্যাস খাত ক্রমেই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ায় বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। তাই এর পুরো দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপানো যাবে না।

রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্যাস সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এতে শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলমান গ্যাস সংকটের কারণে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং হয়েছে এবং ঢাকাতেও কয়েক দিন বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চলমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, জুলাইয়ে একটি এফএসআরইউতে ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এতে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে সংকট দেখা দেয়।

সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এর চেয়ে ভালো কিছু করার সুযোগ ছিল কি না, তা বিবেচনা করা দরকার। অন্য কেউ দায়িত্বে থাকলে সংকট আরও কমানো সম্ভব হতো কি না, সেই প্রশ্নও তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা মেনে নিয়ে এই সংকট কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।’

বর্তমান সংকটের জন্য দীর্ঘদিনের নীতি ও সিদ্ধান্তকে দায়ী করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। শেখ হাসিনা সরকারের সময় দেশের গ্যাস খাতকে ক্রমেই আমদানিনির্ভর করা হয়েছে।

তবে শুধু সাবেক সরকারকে দায়ী করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, জ্বালানি খাতের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়েই জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান সংকটও রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়।

জ্বালানি সংকট কমাতে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

Share this news as a Photo Card