নিউইয়র্ক ০৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ বছর বয়সে ভারত পাড়ি কিশোরীর, ফিরল এক বছরের সন্তান নিয়ে

  • আপডেটের সময় : ০১:০৫:৪৮ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের শিকার হয়ে ভারতে বন্দিদশা কাটানোর পর বিশেষ রাষ্ট্রীয় ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে এক বছর আগে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ভারতে পাড়ি জমিয়ে সন্তানের জন্ম দেওয়া এক কিশোরীও রয়েছে, যে আজ নিজের এক বছর বয়সী কোলের সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, ভারত থেকে ফেরত আনা ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জনই শিশু ও কিশোর-কিশোরী এবং বাকি দুজন প্রাপ্তবয়স্ক। স্থলবন্দরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মানবিক সহায়তা ও পারিবারিক পুনর্বাসনের জন্য তাদের বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা কোলের সন্তানসহ ওই কিশোরীর জীবনকাহিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। খুলনার বাসিন্দা ওই কিশোরী মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেয় সে। ভারতে পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিলে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। প্রায় এক বছর কারাভোগের পর স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার সহায়তায় সন্তানসহ ওই কিশোরীকে কলকাতার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে (শেল্টার হোম) রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ পায়।

ফিরে আসা শিশুদের পারিবারিক জটিলতার চিত্র তুলে ধরে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ফেরত আসা শিশুদের অনেকেরই মা–বাবা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। আবার কারও কারও মা–বাবা আগে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরে এলেও সন্তানেরা ভারতের কলকাতার বিভিন্ন শেল্টার হোমে আটকা পড়েছিল। সমন্বিত কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে আজ তাদের দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।’

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার এ বি এম মুহিত হোসেন জানান, ফেরত আসা নারী ও শিশুদের সংস্থার বেনাপোলস্থ নিজস্ব আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সেখানে প্রাথমিক সেবা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

১৩ বছর বয়সে ভারত পাড়ি কিশোরীর, ফিরল এক বছরের সন্তান নিয়ে

আপডেটের সময় : ০১:০৫:৪৮ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের শিকার হয়ে ভারতে বন্দিদশা কাটানোর পর বিশেষ রাষ্ট্রীয় ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে এক বছর আগে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ভারতে পাড়ি জমিয়ে সন্তানের জন্ম দেওয়া এক কিশোরীও রয়েছে, যে আজ নিজের এক বছর বয়সী কোলের সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, ভারত থেকে ফেরত আনা ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জনই শিশু ও কিশোর-কিশোরী এবং বাকি দুজন প্রাপ্তবয়স্ক। স্থলবন্দরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মানবিক সহায়তা ও পারিবারিক পুনর্বাসনের জন্য তাদের বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা কোলের সন্তানসহ ওই কিশোরীর জীবনকাহিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। খুলনার বাসিন্দা ওই কিশোরী মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেয় সে। ভারতে পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিলে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। প্রায় এক বছর কারাভোগের পর স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার সহায়তায় সন্তানসহ ওই কিশোরীকে কলকাতার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে (শেল্টার হোম) রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ পায়।

ফিরে আসা শিশুদের পারিবারিক জটিলতার চিত্র তুলে ধরে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ফেরত আসা শিশুদের অনেকেরই মা–বাবা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। আবার কারও কারও মা–বাবা আগে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরে এলেও সন্তানেরা ভারতের কলকাতার বিভিন্ন শেল্টার হোমে আটকা পড়েছিল। সমন্বিত কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে আজ তাদের দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।’

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার এ বি এম মুহিত হোসেন জানান, ফেরত আসা নারী ও শিশুদের সংস্থার বেনাপোলস্থ নিজস্ব আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সেখানে প্রাথমিক সেবা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Share this news as a Photo Card