নিউইয়র্ক ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে সার্কিট হাউসে নামাজ পড়ায় নেতার বিরুদ্ধে মামলা

  • আপডেটের সময় : ০১:১১:১২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে সরকারি সার্কিট হাউসে নামাজ পড়ার অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নেতা হাজী মোহাম্মদ উসমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। জনসাধারণের চলাচলের পথে বাধা ও অসুবিধা সৃষ্টির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।

হাজী মোহাম্মদ উসমান মোরাদাবাদ জেলা সমাজবাদী পার্টির সহসভাপতি। তিনি বিলারি আসনের বিধায়ক মোহাম্মদ ফাহিম ইরফানের চাচা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৮৫ ধারা, জনসাধারণের চলাচলের পথ বা নৌপথে বিপদ বা বাধা সৃষ্টি এবং ২৯২ ধারা, জনসাধারণের জন্য বিরক্তি বা অসুবিধা সৃষ্টির ফলে এ মামলাটি করা হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উসমানকে একটি পার্ক করা গাড়ির সামনে নামাজ পড়তে দেখা গেলেও, তার নামাজের কারণে যানবাহন বা মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ার স্পষ্ট কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। ভিডিওতে থাকা অন্যান্য গাড়িগুলোকেও পার্ক করা অবস্থায় দেখা যায়।

উত্তর প্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা লাল বিহারি যাদবের সঙ্গে এসপি নেতাদের একটি বৈঠকে যোগ দিতে উসমান সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাকে নামাজ পড়তে দেখা যায়।

মোরাদাবাদে গণপূর্ত বিভাগের প্রাদেশিক শাখার দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী অনিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উসমান সার্কিট হাউসে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে তার গাড়ি পার্ক করে সেটির পেছনে নামাজ পড়ছেন। এর ফলে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

এর এক দিন আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক ভাস্কর জানায়, উসমানের নামাজ পড়ার ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সরকারি স্থাপনায় কীভাবে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রীয় বজরং দলের রাজ্য সভাপতি রোহান সাক্সেনা।

প্রসঙ্গত, উত্তর প্রদেশ সরকার সড়কে নামাজ পড়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেও সরকারি স্থাপনায় নামাজ পড়া বেআইনি এমন কোনো বিধানের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে, মুসলিম এই নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কানওয়ার যাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে কানওয়ার যাত্রায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সড়ক অবরোধ, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা গেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন গ্রাহকরা

নৌকায় করে মালয়েশিয়া পাচারের আগে ৫ জন উদ্ধার

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভারতে সার্কিট হাউসে নামাজ পড়ায় নেতার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেটের সময় : ০১:১১:১২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে সরকারি সার্কিট হাউসে নামাজ পড়ার অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নেতা হাজী মোহাম্মদ উসমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। জনসাধারণের চলাচলের পথে বাধা ও অসুবিধা সৃষ্টির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।

হাজী মোহাম্মদ উসমান মোরাদাবাদ জেলা সমাজবাদী পার্টির সহসভাপতি। তিনি বিলারি আসনের বিধায়ক মোহাম্মদ ফাহিম ইরফানের চাচা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৮৫ ধারা, জনসাধারণের চলাচলের পথ বা নৌপথে বিপদ বা বাধা সৃষ্টি এবং ২৯২ ধারা, জনসাধারণের জন্য বিরক্তি বা অসুবিধা সৃষ্টির ফলে এ মামলাটি করা হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উসমানকে একটি পার্ক করা গাড়ির সামনে নামাজ পড়তে দেখা গেলেও, তার নামাজের কারণে যানবাহন বা মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ার স্পষ্ট কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। ভিডিওতে থাকা অন্যান্য গাড়িগুলোকেও পার্ক করা অবস্থায় দেখা যায়।

উত্তর প্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা লাল বিহারি যাদবের সঙ্গে এসপি নেতাদের একটি বৈঠকে যোগ দিতে উসমান সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাকে নামাজ পড়তে দেখা যায়।

মোরাদাবাদে গণপূর্ত বিভাগের প্রাদেশিক শাখার দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী অনিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উসমান সার্কিট হাউসে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে তার গাড়ি পার্ক করে সেটির পেছনে নামাজ পড়ছেন। এর ফলে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

এর এক দিন আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক ভাস্কর জানায়, উসমানের নামাজ পড়ার ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সরকারি স্থাপনায় কীভাবে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রীয় বজরং দলের রাজ্য সভাপতি রোহান সাক্সেনা।

প্রসঙ্গত, উত্তর প্রদেশ সরকার সড়কে নামাজ পড়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেও সরকারি স্থাপনায় নামাজ পড়া বেআইনি এমন কোনো বিধানের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে, মুসলিম এই নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কানওয়ার যাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে কানওয়ার যাত্রায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সড়ক অবরোধ, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা গেছে।

Share this news as a Photo Card