নিউইয়র্ক ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী প্রধানমন্ত্রীর বেতন বাড়ছে ১১ লাখ ডলার

  • আপডেটের সময় : ১০:৪১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব নেতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং এর বার্ষিক বেতন বাড়ছে ১১ লাখ মার্কিন ডলার। দেশটির সরকার প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও সরকারি পদাধিকারীদের বার্ষিক বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন ৬৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২৮ লাখ ডলার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

গতকাল পার্লামেন্টে বেতন পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা দেন লরেন্স ওং। সিঙ্গাপুর সরকার দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের উচ্চ বেতনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে। প্রতিযোগিতামূলক বেতন মেধাবী ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করে এবং ভালো শাসন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে বলে দাবি করছে সরকার।

তবে বিষয়টি দেশটিতে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। কারণ সাধারণ নাগরিকদের আয়ের তুলনায় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের বেতন অনেক বেশি।

প্রধানমন্ত্রী ওং এখন যে বেতন পাচ্ছেন, সেই হিসাবেই তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনৈতিক নেতা। এরপরে রয়েছেন হংকংয়ের চিফ এক্সিকিউটিভ জন লি, যিনি পান প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার মার্কিন ডলার বেতন পান। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন, যার বার্ষিক বেতন ৬ লাখ ৬ হাজার মার্কিন ডলার।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বছরে ৪ লাখ মার্কিন ডলার পান, আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম পান ২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।

সিঙ্গাপুরের সাধারণ নাগরিকদের উপার্জনের তুলনায় মন্ত্রীদের বেতন অনেক বেশি হওয়ায় যে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, সে কথা স্বীকারও করেন প্রধানমন্ত্রী ওং। দেশটির মধ্যম পর্যায়ের মাসিক আয় ৫ হাজার ৭৭৫ সিঙ্গাপুর ডলার।

বর্তমানে ১৭ লাখ মার্কিন ডলার বেতন পান প্রধানমন্ত্রী ওং। বেতন বাড়লে তার পুরোটা আগামী পাঁচ বছর দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ওং বলেন, অধিক যোগ্য ও মেধাবীদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। মন্ত্রীদের উচ্চ বেতন দিলে তা দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে সিঙ্গাপুর সরকার মনে করে।

লরেন্স ওং বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের মেয়াদে বেতন বৃদ্ধির পুরো অতিরিক্ত অর্থ তিনি উপযুক্ত জনকল্যাণমূলক কাজে দান করবেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বেতন একটি কঠিন ও আবেগপূর্ণ বিষয়। অধিকাংশ নাগরিকের আয়ের তুলনায় এই অর্থ অনেক বেশি হওয়ায় জনগণের এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে।

তবে ওংয়ের মতে, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নির্ভর করছে সিঙ্গাপুরের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় মানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধরে রাখা যাবে কি না, তার ওপর।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি প্রায় ১৫ বছর পর মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বর্তমান মন্ত্রীরা সরাসরি নতুন বেঞ্চমার্ক বেতনে যাবেন না। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে তারা এককালীন সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেতন সমন্বয় পাবেন।

পরবর্তী সময়ে বেতন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও দায়িত্বের পরিমাণ ও ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান ওং।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইয়েমেনে ৩২টি বিমান হামলা সৌদি আরবের

ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই তিব্বতে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল নেপালও

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী প্রধানমন্ত্রীর বেতন বাড়ছে ১১ লাখ ডলার

আপডেটের সময় : ১০:৪১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব নেতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং এর বার্ষিক বেতন বাড়ছে ১১ লাখ মার্কিন ডলার। দেশটির সরকার প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও সরকারি পদাধিকারীদের বার্ষিক বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন ৬৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২৮ লাখ ডলার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

গতকাল পার্লামেন্টে বেতন পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা দেন লরেন্স ওং। সিঙ্গাপুর সরকার দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের উচ্চ বেতনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে। প্রতিযোগিতামূলক বেতন মেধাবী ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করে এবং ভালো শাসন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে বলে দাবি করছে সরকার।

তবে বিষয়টি দেশটিতে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। কারণ সাধারণ নাগরিকদের আয়ের তুলনায় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের বেতন অনেক বেশি।

প্রধানমন্ত্রী ওং এখন যে বেতন পাচ্ছেন, সেই হিসাবেই তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনৈতিক নেতা। এরপরে রয়েছেন হংকংয়ের চিফ এক্সিকিউটিভ জন লি, যিনি পান প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার মার্কিন ডলার বেতন পান। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন, যার বার্ষিক বেতন ৬ লাখ ৬ হাজার মার্কিন ডলার।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বছরে ৪ লাখ মার্কিন ডলার পান, আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম পান ২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।

সিঙ্গাপুরের সাধারণ নাগরিকদের উপার্জনের তুলনায় মন্ত্রীদের বেতন অনেক বেশি হওয়ায় যে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, সে কথা স্বীকারও করেন প্রধানমন্ত্রী ওং। দেশটির মধ্যম পর্যায়ের মাসিক আয় ৫ হাজার ৭৭৫ সিঙ্গাপুর ডলার।

বর্তমানে ১৭ লাখ মার্কিন ডলার বেতন পান প্রধানমন্ত্রী ওং। বেতন বাড়লে তার পুরোটা আগামী পাঁচ বছর দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ওং বলেন, অধিক যোগ্য ও মেধাবীদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। মন্ত্রীদের উচ্চ বেতন দিলে তা দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে সিঙ্গাপুর সরকার মনে করে।

লরেন্স ওং বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের মেয়াদে বেতন বৃদ্ধির পুরো অতিরিক্ত অর্থ তিনি উপযুক্ত জনকল্যাণমূলক কাজে দান করবেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বেতন একটি কঠিন ও আবেগপূর্ণ বিষয়। অধিকাংশ নাগরিকের আয়ের তুলনায় এই অর্থ অনেক বেশি হওয়ায় জনগণের এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে।

তবে ওংয়ের মতে, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নির্ভর করছে সিঙ্গাপুরের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় মানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধরে রাখা যাবে কি না, তার ওপর।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি প্রায় ১৫ বছর পর মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বর্তমান মন্ত্রীরা সরাসরি নতুন বেঞ্চমার্ক বেতনে যাবেন না। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে তারা এককালীন সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেতন সমন্বয় পাবেন।

পরবর্তী সময়ে বেতন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও দায়িত্বের পরিমাণ ও ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান ওং।

Share this news as a Photo Card