নিউইয়র্ক ১০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতায় খাদ্য সুরক্ষা অভিযানে ৪০ রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত

  • আপডেটের সময় : ১০:৪২:০৬ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে কলকাতায় সপ্তাহব্যাপী খাদ্য সুরক্ষা অভিযান চালিয়েছে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও কলকাতা পৌর করপোরেশন। ১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ অভিযান মঙ্গলবার শেষ হয়। অভিযানে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকান ও বেকারিতে বাসি ও পচা খাবার, পচা মাছ-মাংস, ছত্রাক ধরা ছানা-পনিরসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিছু খাবারে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ব্যবহারেরও প্রমাণ মিলেছে।

খাদ্যবিধি না মানায় কলকাতার ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছে কলকাতা পৌর করপোরেশন।

অভিযানে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও কলকাতা পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। শহরের বিভিন্ন শপিং মলের খাবারের জায়গাতেও অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে সাউথ সিটি মল, স্টার মল ও মেট্রোপলিস মলের খাবারের জায়গা উল্লেখযোগ্য।

লাইসেন্স স্থগিত হওয়া ৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ডন জিওভানিস, করিমস, মিস্টিমুখ, আল সালান, সিমলা ফুড, জেপটো লিমিটেড, ব্রজরাজ, ডেন জং কিচেন, সোফিয়া হোটেল, গঙ্গা, বিরিয়ানি কর্নার, শম্ভু অয়েল মিল, রয়েল বেঙ্গল টাইগার হসপিটালিটি, এশিয়া হাউস, দাদা বৌদি হোটেল, টৌরাশিয়া চাট, মেরাকি বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি, গিরিশচন্দ্র দে অ্যান্ড বেকারি, শ্রীকৃষ্ণ সুইটস, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইটস, মাতৃ মিষ্টান্ন ভান্ডার, শীতলা মিষ্টান্ন ভান্ডার, মিঠাই ভান্ডার ও শক্তি মিষ্টান্ন ভান্ডার।

এদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পরিচালনাবিধি না মানার অভিযোগে কলকাতার ৯১৯টি গেস্ট হাউস বন্ধের সুপারিশ করেছে কলকাতা পৌর করপোরেশন। তবে অভিযানে ৪১টি গেস্ট হাউস নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করেছে।

কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটকের মৃত্যুর পর শহরের হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে তৎপরতা বাড়ায় পৌর করপোরেশন। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গেস্ট হাউসে শুরু হয় তদন্ত।

১ সেপ্টেম্বর কলকাতার নিউমার্কেট (হগ মার্কেট) এলাকায় ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচি শেষে কলকাতা পৌর করপোরেশনের প্রশাসক স্মিতা পান্ডে বলেন, অভিযানে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, আগের সরকার খাদ্য সুরক্ষার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। বর্তমান সরকার খাদ্যের মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করবে না। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার খাবার পানির মানও পরীক্ষা করা হবে।

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি খাবারের মান নিশ্চিত করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। খাদ্যসামগ্রীতে ভেজাল, নিষিদ্ধ কৃত্রিম রং কিংবা ভুয়া লেবেল ব্যবহার করে খাবার সংরক্ষণের মতো অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইয়েমেনে ৩২টি বিমান হামলা সৌদি আরবের

ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই তিব্বতে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল নেপালও

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কলকাতায় খাদ্য সুরক্ষা অভিযানে ৪০ রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত

আপডেটের সময় : ১০:৪২:০৬ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে কলকাতায় সপ্তাহব্যাপী খাদ্য সুরক্ষা অভিযান চালিয়েছে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও কলকাতা পৌর করপোরেশন। ১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ অভিযান মঙ্গলবার শেষ হয়। অভিযানে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকান ও বেকারিতে বাসি ও পচা খাবার, পচা মাছ-মাংস, ছত্রাক ধরা ছানা-পনিরসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিছু খাবারে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ব্যবহারেরও প্রমাণ মিলেছে।

খাদ্যবিধি না মানায় কলকাতার ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছে কলকাতা পৌর করপোরেশন।

অভিযানে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও কলকাতা পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। শহরের বিভিন্ন শপিং মলের খাবারের জায়গাতেও অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে সাউথ সিটি মল, স্টার মল ও মেট্রোপলিস মলের খাবারের জায়গা উল্লেখযোগ্য।

লাইসেন্স স্থগিত হওয়া ৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ডন জিওভানিস, করিমস, মিস্টিমুখ, আল সালান, সিমলা ফুড, জেপটো লিমিটেড, ব্রজরাজ, ডেন জং কিচেন, সোফিয়া হোটেল, গঙ্গা, বিরিয়ানি কর্নার, শম্ভু অয়েল মিল, রয়েল বেঙ্গল টাইগার হসপিটালিটি, এশিয়া হাউস, দাদা বৌদি হোটেল, টৌরাশিয়া চাট, মেরাকি বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি, গিরিশচন্দ্র দে অ্যান্ড বেকারি, শ্রীকৃষ্ণ সুইটস, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইটস, মাতৃ মিষ্টান্ন ভান্ডার, শীতলা মিষ্টান্ন ভান্ডার, মিঠাই ভান্ডার ও শক্তি মিষ্টান্ন ভান্ডার।

এদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পরিচালনাবিধি না মানার অভিযোগে কলকাতার ৯১৯টি গেস্ট হাউস বন্ধের সুপারিশ করেছে কলকাতা পৌর করপোরেশন। তবে অভিযানে ৪১টি গেস্ট হাউস নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করেছে।

কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটকের মৃত্যুর পর শহরের হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে তৎপরতা বাড়ায় পৌর করপোরেশন। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গেস্ট হাউসে শুরু হয় তদন্ত।

১ সেপ্টেম্বর কলকাতার নিউমার্কেট (হগ মার্কেট) এলাকায় ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচি শেষে কলকাতা পৌর করপোরেশনের প্রশাসক স্মিতা পান্ডে বলেন, অভিযানে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, আগের সরকার খাদ্য সুরক্ষার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। বর্তমান সরকার খাদ্যের মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করবে না। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার খাবার পানির মানও পরীক্ষা করা হবে।

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি খাবারের মান নিশ্চিত করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। খাদ্যসামগ্রীতে ভেজাল, নিষিদ্ধ কৃত্রিম রং কিংবা ভুয়া লেবেল ব্যবহার করে খাবার সংরক্ষণের মতো অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

Share this news as a Photo Card