নিউইয়র্ক ১০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধে তীব্র ওষুধ সংকটে ইরান

  • আপডেটের সময় : ১০:৪৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধের কারণে ইরানে চিকিৎসা ক্ষেত্রে মারাত্মক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে জরুরি এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ক্যানসারসহ অন্যান্য জটিল রোগের ওষুধ পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ নাগরিকরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানি ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র হাদি আহমাদি জানান, দেশজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৮০০টি চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি জীবন রক্ষাকারী জরুরি ওষুধ এবং ৪০০টি ওষুধ ইরানেই তৈরি হতো।

ওষুধের দুষ্প্রাপ্যতার পাশাপাশি দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানায় যে মৃগীরোগের ওষুধ গ্যাবাাপেন্টিনের দাম গত বছরের তুলনায় ২২০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া প্যারাসিটামলের দাম ৩৭৫ শতাংশ, অ্যামোক্সিসিলিন ২৮৫ শতাংশ, ফ্লুওক্সেটিন ১০০ শতাংশ এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিনের দাম ছয় গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।চলমান যুদ্ধের প্রভাবে গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৪টি ইরানি ফার্মাসিউটিক্যালস এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে। এতে ৫০ জন শিল্পকর্মী হতাহত হয়েছেন। দেশটির পেনশন ফান্ডের মালিকানাধীন প্রধান ক্যানসার ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তৌফিক দারু বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

তৌফিক দারুর বিক্রয় পরিচালক মরিয়ম ফারাহানি জানান, তাদের গবেষণা ও উৎপাদন লাইনের পাশাপাশি বিগত ২৬ বছরের সংরক্ষিত তথ্য সার্ভার ধ্বংস হয়ে গেছে। যা পুনরায় আংশিক চালু করতে কয়েক বছর সময় ও কোটি কোটি ডলার প্রয়োজন। মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রাসায়নিক গবেষণার অভিযোগে কারখানাটি ধ্বংসের দাবি করলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে।

মেহর ফার্মাক্স প্রদর্শনীতে ইরানের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের প্রধান মেহেদি পীরসালেহি দাবি করেন, সংকট সত্তেও ওষুধ খাত ভেঙে পড়বে না। যদিও চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, রোটাভাইরাস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিনের আমদানি বন্ধ হওয়া এবং ওষুধ খাতে সরকারের ৮ কোয়াড্রিলিয়ন রিয়াল (৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার) বকেয়া ঋণ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইয়েমেনে ৩২টি বিমান হামলা সৌদি আরবের

ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই তিব্বতে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল নেপালও

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধে তীব্র ওষুধ সংকটে ইরান

আপডেটের সময় : ১০:৪৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধের কারণে ইরানে চিকিৎসা ক্ষেত্রে মারাত্মক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে জরুরি এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ক্যানসারসহ অন্যান্য জটিল রোগের ওষুধ পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ নাগরিকরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানি ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র হাদি আহমাদি জানান, দেশজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৮০০টি চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি জীবন রক্ষাকারী জরুরি ওষুধ এবং ৪০০টি ওষুধ ইরানেই তৈরি হতো।

ওষুধের দুষ্প্রাপ্যতার পাশাপাশি দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানায় যে মৃগীরোগের ওষুধ গ্যাবাাপেন্টিনের দাম গত বছরের তুলনায় ২২০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া প্যারাসিটামলের দাম ৩৭৫ শতাংশ, অ্যামোক্সিসিলিন ২৮৫ শতাংশ, ফ্লুওক্সেটিন ১০০ শতাংশ এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিনের দাম ছয় গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।চলমান যুদ্ধের প্রভাবে গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৪টি ইরানি ফার্মাসিউটিক্যালস এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে। এতে ৫০ জন শিল্পকর্মী হতাহত হয়েছেন। দেশটির পেনশন ফান্ডের মালিকানাধীন প্রধান ক্যানসার ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তৌফিক দারু বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

তৌফিক দারুর বিক্রয় পরিচালক মরিয়ম ফারাহানি জানান, তাদের গবেষণা ও উৎপাদন লাইনের পাশাপাশি বিগত ২৬ বছরের সংরক্ষিত তথ্য সার্ভার ধ্বংস হয়ে গেছে। যা পুনরায় আংশিক চালু করতে কয়েক বছর সময় ও কোটি কোটি ডলার প্রয়োজন। মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রাসায়নিক গবেষণার অভিযোগে কারখানাটি ধ্বংসের দাবি করলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে।

মেহর ফার্মাক্স প্রদর্শনীতে ইরানের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের প্রধান মেহেদি পীরসালেহি দাবি করেন, সংকট সত্তেও ওষুধ খাত ভেঙে পড়বে না। যদিও চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, রোটাভাইরাস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিনের আমদানি বন্ধ হওয়া এবং ওষুধ খাতে সরকারের ৮ কোয়াড্রিলিয়ন রিয়াল (৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার) বকেয়া ঋণ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

Share this news as a Photo Card