নিউইয়র্ক ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধামইরহাটে শিশুকে গাছে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ

  • আপডেটের সময় : ০৯:১৫:০৩ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর ধামইরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঁচ বছরের এক শিশুকে গাছে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক পরিবারের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই শিশু ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী শিশু মাশরাফি উপজেলার রূপনারায়ণপুর (শল্পী খাটাপাড়া) গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের প্রতিবেশী সাইদুল ইসলাম, তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা ও ছেলে মিনহাজ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির পরিবারের ভাষ্য, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে খেলাধুলা নিয়ে মাশরাফির সঙ্গে প্রতিবেশী মিনহাজের বিরোধ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাশরাফির মা তহুরা বেগমের সঙ্গে মিনহাজের মা মঞ্জুয়ারার কথা-কাটাকাটি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে মঞ্জুয়ারা তহুরা বেগমের কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়ে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির বাইরে আঙিনায় নিয়ে যান। পরে তাকে গাছের সঙ্গে আটকে মারধর করা হয়। এ সময় মিনহাজ কোদাল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে মাটিতে পুঁতে ফেলার ভয় দেখান বলেও অভিযোগ পরিবারের।

শিশুটির পরিবারের আরও অভিযোগ, মঞ্জুয়ারার স্বামী সাইদুল ইসলাম ঘটনাটি থামানোর পরিবর্তে স্ত্রী ও ছেলেকে উসকানি দেন এবং নির্যাতনে সহযোগিতা করেন। শিশুটির কান্না ও চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার মা তহুরা বেগম। তিনি বলেন, ‘মিনহাজের বয়স প্রায় ২০ বছর, আর আমার ছেলের বয়স পাঁচ বছর। প্রতিবেশী হওয়ায় তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। খেলাধুলা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এ নিয়ে মিনহাজের মা মঞ্জুয়ারার সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তিনি আমার বাড়ির ভেতর থেকে ছেলেকে নিয়ে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে গাছের সঙ্গে আটকে মারধর করেন।’

তহুরা বেগম আরও বলেন, ‘ঘটনার পর ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন ঘুমের মধ্যেও সে ভয় পেয়ে চিৎকার করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

অভিযুক্ত সাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ধামইরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলামিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় মামলা করতে বলা হয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফ হাসান বলেন, ‘ওই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রথমে আঘাতের স্থানগুলোতে ফুলে ছিল, এখন কিছুটা কমেছে। শরীরে আঁচড়ের মতো দাগও রয়েছে। বর্তমানে শিশুটি মোটামুটি সুস্থ আছে।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ঘণ্টায় ৪১৫টি কাগজের প্লেন বানিয়ে বিশ্ব রেকর্ড 

মক্কার দিকে ধেয়ে আসা ড্রোন ধ্বংস করল সৌদি আরব

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ধামইরহাটে শিশুকে গাছে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেটের সময় : ০৯:১৫:০৩ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর ধামইরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঁচ বছরের এক শিশুকে গাছে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক পরিবারের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই শিশু ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী শিশু মাশরাফি উপজেলার রূপনারায়ণপুর (শল্পী খাটাপাড়া) গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের প্রতিবেশী সাইদুল ইসলাম, তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা ও ছেলে মিনহাজ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির পরিবারের ভাষ্য, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে খেলাধুলা নিয়ে মাশরাফির সঙ্গে প্রতিবেশী মিনহাজের বিরোধ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাশরাফির মা তহুরা বেগমের সঙ্গে মিনহাজের মা মঞ্জুয়ারার কথা-কাটাকাটি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে মঞ্জুয়ারা তহুরা বেগমের কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়ে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির বাইরে আঙিনায় নিয়ে যান। পরে তাকে গাছের সঙ্গে আটকে মারধর করা হয়। এ সময় মিনহাজ কোদাল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে মাটিতে পুঁতে ফেলার ভয় দেখান বলেও অভিযোগ পরিবারের।

শিশুটির পরিবারের আরও অভিযোগ, মঞ্জুয়ারার স্বামী সাইদুল ইসলাম ঘটনাটি থামানোর পরিবর্তে স্ত্রী ও ছেলেকে উসকানি দেন এবং নির্যাতনে সহযোগিতা করেন। শিশুটির কান্না ও চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার মা তহুরা বেগম। তিনি বলেন, ‘মিনহাজের বয়স প্রায় ২০ বছর, আর আমার ছেলের বয়স পাঁচ বছর। প্রতিবেশী হওয়ায় তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। খেলাধুলা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এ নিয়ে মিনহাজের মা মঞ্জুয়ারার সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তিনি আমার বাড়ির ভেতর থেকে ছেলেকে নিয়ে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে গাছের সঙ্গে আটকে মারধর করেন।’

তহুরা বেগম আরও বলেন, ‘ঘটনার পর ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন ঘুমের মধ্যেও সে ভয় পেয়ে চিৎকার করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

অভিযুক্ত সাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ধামইরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলামিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় মামলা করতে বলা হয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফ হাসান বলেন, ‘ওই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রথমে আঘাতের স্থানগুলোতে ফুলে ছিল, এখন কিছুটা কমেছে। শরীরে আঁচড়ের মতো দাগও রয়েছে। বর্তমানে শিশুটি মোটামুটি সুস্থ আছে।’

Share this news as a Photo Card