নিউইয়র্ক ০৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের

  • আপডেটের সময় : ০২:০০:২৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শিগগিরই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নতুন এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক এই আদালতের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও বাড়বে।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসির কার্যক্রমের বিরোধিতা করে আসছে। বিশেষ করে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার চায় ওয়াশিংটন। পাশাপাশি আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে চলমান পুরোনো তদন্ত বন্ধেও আদালতের ওপর ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির ওপর ব্যক্তিপর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এবার পুরো প্রতিষ্ঠানটির ওপরই নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার তোড়জোড় চলছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। গত জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আদালতটিকে আন্তর্জাতিকভাবে বয়কট ও একঘরে করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পুরো আদালতের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞা দিলে এর দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এমন পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান আদালতের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন, পণ্য বা সেবা বিনিময় করতে পারবে না।

এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিসরেও। বিশ্বের অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক বৈশ্বিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা ঝুঁকি এড়াতে আইসিসির সঙ্গে লেনদেনে বাড়তি কড়াকড়ি আরোপ করতে পারে। ফলে আদালতের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, বিমা সুবিধা, তদন্তকারী নিয়োগ এবং কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের মতো মৌলিক কাজগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন আইসিসির রেজিস্ট্রার ও প্রেসিডেন্ট।

আইসিসির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ দীর্ঘদিনের। প্রথম মেয়াদেও তিনি আদালতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজা সংঘাতের জেরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচারের এখতিয়ার রাখে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এই আদালতের সদস্য ছিল না। নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বৈশ্বিক বিচারব্যবস্থায় ওয়াশিংটন ও দ্য হেগের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দূরপাল্লায় ২০ পয়সা/কিমি ও শহরে ১৮ পয়সা/কিমি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সামনে ৩টি পথ খোলা আছে: ট্রাম্প

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের

আপডেটের সময় : ০২:০০:২৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শিগগিরই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নতুন এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক এই আদালতের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও বাড়বে।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসির কার্যক্রমের বিরোধিতা করে আসছে। বিশেষ করে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার চায় ওয়াশিংটন। পাশাপাশি আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে চলমান পুরোনো তদন্ত বন্ধেও আদালতের ওপর ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির ওপর ব্যক্তিপর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এবার পুরো প্রতিষ্ঠানটির ওপরই নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার তোড়জোড় চলছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। গত জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আদালতটিকে আন্তর্জাতিকভাবে বয়কট ও একঘরে করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পুরো আদালতের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞা দিলে এর দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এমন পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান আদালতের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন, পণ্য বা সেবা বিনিময় করতে পারবে না।

এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিসরেও। বিশ্বের অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক বৈশ্বিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা ঝুঁকি এড়াতে আইসিসির সঙ্গে লেনদেনে বাড়তি কড়াকড়ি আরোপ করতে পারে। ফলে আদালতের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, বিমা সুবিধা, তদন্তকারী নিয়োগ এবং কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের মতো মৌলিক কাজগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন আইসিসির রেজিস্ট্রার ও প্রেসিডেন্ট।

আইসিসির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ দীর্ঘদিনের। প্রথম মেয়াদেও তিনি আদালতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজা সংঘাতের জেরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচারের এখতিয়ার রাখে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এই আদালতের সদস্য ছিল না। নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বৈশ্বিক বিচারব্যবস্থায় ওয়াশিংটন ও দ্য হেগের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Share this news as a Photo Card