আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে মুসলিমদের বিয়ে সরকারি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হবে। এর ফলে কাজীদের মাধ্যমে বিয়ে নথিভুক্তির পুরোনো ব্যবস্থা আর থাকছে না।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আসাম মুসলিম বিবাহ নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক বিধিমালা, ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির দায়িত্ব সরকারি রেজিস্ট্রারদের হাতে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, রাজ্যজুড়ে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির জন্য অভিন্ন সরকারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। সরকারি রেজিস্ট্রাররাই এ দায়িত্ব পালন করবেন। বিয়ে নথিভুক্তির আবেদন বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা হবে।
আসাম সরকার ২০২৪ সালে মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নথিভুক্তি আইন চালু করে। ওই আইনের মাধ্যমে কাজীদের হাতে থাকা মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ক্ষমতা তুলে নেওয়া হয়। তবে নথিভুক্তির নতুন প্রক্রিয়া ও দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে তখন বিস্তারিত বিধিমালা নির্ধারণ করা হয়নি।
নতুন বিধিমালা অনুমোদনের ফলে সেই প্রক্রিয়াটি এখন স্পষ্ট হলো। সরকারি রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করে নির্ধারিত নিয়মে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করতে হবে।
২০২৪ সালের আইনে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে কনের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং বরের বয়স অন্তত ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। বিয়ে নথিভুক্তির সময় বয়স, পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি বর ও কনের স্বেচ্ছায় বিয়েতে সম্মতির ঘোষণাপত্রও প্রয়োজন হবে।
আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৩৫ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ নথিভুক্তি আইনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক ছিল না। পরে ২০১০ সালে ওই আইনে পরিবর্তন এনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। তখনও নথিভুক্তির দায়িত্ব কাজীদের হাতেই ছিল।
২০২৪ সালের নতুন আইনে কাজীদের সেই ক্ষমতা তুলে নেওয়ার পর সরকারি ব্যবস্থায় কীভাবে বিয়ে নথিভুক্ত হবে, তা নিয়ে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। ২০২৬ সালের নতুন বিধিমালায় সরকারি রেজিস্ট্রারদের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হলো।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় মুসলিম বিয়ের সরকারি নথি আরও সুশৃঙ্খল হবে। একই সঙ্গে বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারিও সহজ হবে।
নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির পুরো প্রক্রিয়া সরকারি প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। ধর্মীয়ভাবে প্রচলিত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সরকারি নথিভুক্তিও বাধ্যতামূলকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
সূত্র- হিন্দুস্থান টাইমস



















