নিউইয়র্ক ০৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুক্তি করে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

  • আপডেটের সময় : ০২:৩৭:৪৯ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। প্রস্তাবটি স্বাক্ষরিত হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাগচি এ কথা জানান।

আরাগচি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ হলে চুক্তিটি করা সম্ভব। নতুন প্রস্তাবে উল্লেখ করা শর্তগুলো গত জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরাগচি বলেন, ‘যদি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া যেতে পারে। সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন কী করবে, সেটি তাদের ওপর নির্ভর করছে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেননি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মার্কিনিদের যে শর্তগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই রয়েছে। নতুন কিছু নেই।’

অন্যদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের প্রস্তাবের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেছেন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। যারমধ্যে পারমাণবিক ইস্যুও আছে।

জুনের সমঝোতায় যা ছিল
গত ১৮ জুন ১৪ দফার ওই সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছিল, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না। পাশাপাশি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথাও এতে উল্লেখ ছিল।

সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ও ছিল। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেবে এবং ভবিষ্যতে ওই পথে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে দুই দেশ আবার হামলা ও পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই ওই সমঝোতা কার্যত ভেস্তে যায়।

হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়।

ইরানের দাবি, অনুমোদনহীন রুট ব্যবহার করে হরমুজ দিয়ে চলাচল করায় কয়েকটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজের আশপাশে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় এবং কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইরানের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও যুদ্ধ ঘিরে অস্থিরতার পাশাপাশি সংঘাত কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়েও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ বছরের মধ্যে জনপ্রিয়তায় সর্বনিম্ন ডোনাল্ড ট্রাম্প

শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও ভারত মিলে নেবে, ‘আশা’ যুক্তরাষ্ট্রের

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

চুক্তি করে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

আপডেটের সময় : ০২:৩৭:৪৯ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। প্রস্তাবটি স্বাক্ষরিত হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাগচি এ কথা জানান।

আরাগচি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ হলে চুক্তিটি করা সম্ভব। নতুন প্রস্তাবে উল্লেখ করা শর্তগুলো গত জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরাগচি বলেন, ‘যদি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া যেতে পারে। সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন কী করবে, সেটি তাদের ওপর নির্ভর করছে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেননি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মার্কিনিদের যে শর্তগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই রয়েছে। নতুন কিছু নেই।’

অন্যদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের প্রস্তাবের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেছেন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। যারমধ্যে পারমাণবিক ইস্যুও আছে।

জুনের সমঝোতায় যা ছিল
গত ১৮ জুন ১৪ দফার ওই সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছিল, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না। পাশাপাশি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথাও এতে উল্লেখ ছিল।

সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ও ছিল। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেবে এবং ভবিষ্যতে ওই পথে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে দুই দেশ আবার হামলা ও পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই ওই সমঝোতা কার্যত ভেস্তে যায়।

হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়।

ইরানের দাবি, অনুমোদনহীন রুট ব্যবহার করে হরমুজ দিয়ে চলাচল করায় কয়েকটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজের আশপাশে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় এবং কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইরানের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও যুদ্ধ ঘিরে অস্থিরতার পাশাপাশি সংঘাত কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়েও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card