নিউইয়র্ক ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রদর্শিত হচ্ছে বাংলাদেশী শিল্পী জিহানের চিত্রকর্ম

  • আপডেটের সময় : ০৬:৫৩:০৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনাল এবার অনুষ্ঠিত হবে নিউজার্সীর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই। নতুন চ্যাম্পিয়নের হাতে তুলে দেয়া হবে স্বপ্নের কাপ। আর এই মেটলাইফ ওয়ার্ল্ডকাপ স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জে বিশাল ম্যুরাল একেঁছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান তরুণ শিল্পী জিহান ওয়াজেদ।

লাউঞ্জটির সৌন্দর্য বর্ধনে ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থের চিত্রকর্মটিতে নিউজার্সী, নিউইয়র্কের পাশাপাশি মূর্ত হয়ে উঠেছে আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলো। বিশ্বকাপ ফাইনালে ভিআইপি দর্শকদের চমকে দিবে শিল্পী জিহান ওয়াজেদ’র এই চিত্রকর্ম। এর আগে নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারের মূল ফটকে স্থায়ী একটি বিশাল মূর‌্যাল একেঁছেন জিহান।

সাড়ে ৮২ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার মেটলাইফ স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে ১.৬ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে অনন্য সাজে সাজানো হয়েছে স্টেডিয়ামটি। ভিআইপি লাউঞ্জকে সজ্জিত করা হয়েছে চোখ ধাধাঁনো সাজে। ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি খেলা। শুধু স্টেডিয়াম নয়, শিল্পী জিহান ওয়াজেদ’র আঁকা ম্যুরাল সৌন্দর্য্য বর্ধন করে চলেছে বিশ্বের রাজধানীখ্যাত নিউইয়র্ক মহানগরীসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে। আমেরিকার মূলধারার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ম্যুরাল এঁকে সম্প্রতি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন জিহান। বাংলাদেশের চিরায়ত ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীও স্থান পাচ্ছে তার আঁকা ম্যুরালে। জিহানের চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের প্রকৃত এবং প্রাণবন্ত প্রতিচ্ছবি। যার মধ্য দিয়ে মূল শেকড়, ঐতিহ্য ও ভাষাগত পরিচিতির সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।

চিত্রাঙ্কন ছাড়াও ভাস্কর্য, কোরিওগ্রাফি এবং সৃজনশীল নতুন মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত জিহান ওয়াজেদ। তার শিল্পকর্ম দেয়াল চিত্র ও নৃত্য দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং তিনিই প্রথম অগ্রবর্তী বাস্তববাদী শিল্পী। ম্যানহাটানের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিশাল স্টুডিও রয়েছে জিহান ওয়াজেদের। তার অন্যতম শিল্পকর্মের মধ্যে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন, নিউইয়র্কের জনএফ কেনেডি এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-ফোর, নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টার, কুইন্স হাসপাতালে সাড়ে ১২’শ বর্গফুটের বিশালকায় ম্যুরাল, এস্টোরিয়ায় ৭০০ ফুট দীর্ঘ এ্যায়ুগমেন্টেড রিয়ালিটি ম্যুরাল, নিউজার্সির মেটলাইফ ওয়ার্ল্ডকাপ স্টেডিয়াম ও এস্টোরিয়ায় ১৭৭ ফিট দীর্ঘ ‘ওয়েলকাম এস্টোরিয়া’ ম্যুরালটি অন্যতম। জিহান ওয়াজেদের বিমূর্ত ম্যুরালগুলোর অণুপ্রেরণা মানবিক যোগসূত্রের সেই শক্তি থেকে, যা সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় শান্তির।

তাঁর একান্ত ইচ্ছা সিটিতে যেখানে তার নিজের আবাস, সেই কুইন্সকে আরও নান্দনিক করে তোলা। সম্প্রতি তাঁকে ‘আর্থার অ্যশে স্টেডিয়াম’ এ ‘ইউএস ওপেন’ এর জন্য একটি স্থায়ী ম্যুরাল আঁকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যেটি তিনি সম্পন্ন করেছেন। জিহান ওয়াজেদের ‘হালচাল ও ব্যস্ততা’ (Hustle and Bustle) মুর‌্যালটি সিটির কুইন্স বরোর বহুমুখী ও প্রাণবন্ত শক্তিকে ধারণ করেছে। কুইন্সকে সাধারণভাবে দৃশ্যত কোলাহলপূর্ণ ও বিশৃঙ্খল মনে হতে পারে। কিন্তু বিস্তৃত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে উপলব্ধি করা সম্ভব যে, সবকিছু কীভাবে একতালে ঘড়ির কাঁটার মতো বিরামহীনভাবে চলছে। বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকায় তার আঁকা মূর‌্যাল প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় ম্যুরাল অঙ্কন করেছেন জিহান ওয়াজেদ।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটানস্থ গ্যালারীতে তার বেশ কয়েকটি একক চিত্র প্রদর্শনী ব্যাপক সাড়া জাগায় মুলধারার দর্শকের মাঝে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতেও অংশ নেন জিহান। স্টুডিওতে ছবি আঁকার পাশাপাশি তার নিজস্ব স্টাইলে ম্যুরাল আঁকছেন। জিহানের প্রাথমিক আগ্রহ ছিল গ্রাফিতি আঁকায়। গ্রাফিতি থেকেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন ম্যুরালের নিজস্ব ও নূতন ধারা। তার এই ধারাকে পছন্দ করছে শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের শহর নিউইয়র্কের শিল্পবোদ্ধারা। জিহানের শিল্পকর্ম চোখ ধাঁধায়, হৃদয়ে দেয় প্রশান্তি, নানাভাবে দোলা দেয় চেতনায়।

তার চিত্রকর্ম সৃষ্টি করে নিরাময় ও দৃষ্টিসুখের পরিবেশ। জিহানের শিল্পকর্মে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে বাংলাদেশের পতাকার লাল ও সবুজ রঙ। জিহান তার শিল্পকর্ম দিয়ে গর্বিত করে চলেছেন আমেরিকার বহুজাতিক সমাজে বাংলাদেশী ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটিকে। কমিউনিটি ম্যুরাল প্রকল্পের অধীনে তার আঁকা চিত্রকর্ম নিউইয়র্ক সিটির হাসপাতালের নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশেও অবদান রাখায় ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে প্রকল্পটি। তার ম্যুরালের রয়েছে নিজস্ব ও নূতন ধারা।

সম্প্রতি বাংলাদেশী আমেরিকান ব্যবসায়ীদের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় জিহানের আঁকা বাংলাদেশ ম্যুরাল ব্যাপক সাড়া জাগায় কমিউনিটিতে। ডাইভারসিটি প্লাজার দক্ষিণের ভবনটির প্রশস্থ দেয়ালে স্থান পায় বাংলাদেশ ম্যুরাল।

জিহান ওয়াজেদ’র জন্ম চিকিৎসক পিতার কর্মস্থল লিবিয়ার বেনগাজীতে। তার পিতা নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’র সম্পাদক। নিউইয়র্কের সঙ্গেই শিক্ষাজীবন শুরু জিহানের। মেধাবী জিহান পড়াশুনা করেছেন স্টাইভ্যাসেন্ট হাইস্কুলে এবং মিকৌলে অনারি প্রোগ্রামে বারুখ কলেজ থেকে পারসেপচুয়াল সাইকোলজিতে গ্রাজুয়েশন করলেও তার মনোযোগ একমাত্র ছবি আঁকায়। চিত্রকর্মের উপর তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও শৈশব থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ছিল প্রবল আকর্ষণ। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে হয়েছেন পুরস্কৃত। বাংলাদেশের প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনের উপর তার রয়েছে দুর্বার আকর্ষণ। বাংলাদেশেও তার চিত্রকর্মের ছাপ রাখতে চান জিহান ওয়াজেদ।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পদত্যাগ করছেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী

ইরানের সতর্কতা উপেক্ষা, হরমুজে দুই সুপার ট্যাংকার অচল

১৪ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রদর্শিত হচ্ছে বাংলাদেশী শিল্পী জিহানের চিত্রকর্ম

আপডেটের সময় : ০৬:৫৩:০৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনাল এবার অনুষ্ঠিত হবে নিউজার্সীর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই। নতুন চ্যাম্পিয়নের হাতে তুলে দেয়া হবে স্বপ্নের কাপ। আর এই মেটলাইফ ওয়ার্ল্ডকাপ স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জে বিশাল ম্যুরাল একেঁছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান তরুণ শিল্পী জিহান ওয়াজেদ।

লাউঞ্জটির সৌন্দর্য বর্ধনে ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থের চিত্রকর্মটিতে নিউজার্সী, নিউইয়র্কের পাশাপাশি মূর্ত হয়ে উঠেছে আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলো। বিশ্বকাপ ফাইনালে ভিআইপি দর্শকদের চমকে দিবে শিল্পী জিহান ওয়াজেদ’র এই চিত্রকর্ম। এর আগে নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারের মূল ফটকে স্থায়ী একটি বিশাল মূর‌্যাল একেঁছেন জিহান।

সাড়ে ৮২ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার মেটলাইফ স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে ১.৬ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে অনন্য সাজে সাজানো হয়েছে স্টেডিয়ামটি। ভিআইপি লাউঞ্জকে সজ্জিত করা হয়েছে চোখ ধাধাঁনো সাজে। ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি খেলা। শুধু স্টেডিয়াম নয়, শিল্পী জিহান ওয়াজেদ’র আঁকা ম্যুরাল সৌন্দর্য্য বর্ধন করে চলেছে বিশ্বের রাজধানীখ্যাত নিউইয়র্ক মহানগরীসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে। আমেরিকার মূলধারার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ম্যুরাল এঁকে সম্প্রতি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন জিহান। বাংলাদেশের চিরায়ত ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীও স্থান পাচ্ছে তার আঁকা ম্যুরালে। জিহানের চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের প্রকৃত এবং প্রাণবন্ত প্রতিচ্ছবি। যার মধ্য দিয়ে মূল শেকড়, ঐতিহ্য ও ভাষাগত পরিচিতির সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।

চিত্রাঙ্কন ছাড়াও ভাস্কর্য, কোরিওগ্রাফি এবং সৃজনশীল নতুন মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত জিহান ওয়াজেদ। তার শিল্পকর্ম দেয়াল চিত্র ও নৃত্য দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং তিনিই প্রথম অগ্রবর্তী বাস্তববাদী শিল্পী। ম্যানহাটানের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিশাল স্টুডিও রয়েছে জিহান ওয়াজেদের। তার অন্যতম শিল্পকর্মের মধ্যে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন, নিউইয়র্কের জনএফ কেনেডি এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-ফোর, নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টার, কুইন্স হাসপাতালে সাড়ে ১২’শ বর্গফুটের বিশালকায় ম্যুরাল, এস্টোরিয়ায় ৭০০ ফুট দীর্ঘ এ্যায়ুগমেন্টেড রিয়ালিটি ম্যুরাল, নিউজার্সির মেটলাইফ ওয়ার্ল্ডকাপ স্টেডিয়াম ও এস্টোরিয়ায় ১৭৭ ফিট দীর্ঘ ‘ওয়েলকাম এস্টোরিয়া’ ম্যুরালটি অন্যতম। জিহান ওয়াজেদের বিমূর্ত ম্যুরালগুলোর অণুপ্রেরণা মানবিক যোগসূত্রের সেই শক্তি থেকে, যা সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় শান্তির।

তাঁর একান্ত ইচ্ছা সিটিতে যেখানে তার নিজের আবাস, সেই কুইন্সকে আরও নান্দনিক করে তোলা। সম্প্রতি তাঁকে ‘আর্থার অ্যশে স্টেডিয়াম’ এ ‘ইউএস ওপেন’ এর জন্য একটি স্থায়ী ম্যুরাল আঁকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যেটি তিনি সম্পন্ন করেছেন। জিহান ওয়াজেদের ‘হালচাল ও ব্যস্ততা’ (Hustle and Bustle) মুর‌্যালটি সিটির কুইন্স বরোর বহুমুখী ও প্রাণবন্ত শক্তিকে ধারণ করেছে। কুইন্সকে সাধারণভাবে দৃশ্যত কোলাহলপূর্ণ ও বিশৃঙ্খল মনে হতে পারে। কিন্তু বিস্তৃত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে উপলব্ধি করা সম্ভব যে, সবকিছু কীভাবে একতালে ঘড়ির কাঁটার মতো বিরামহীনভাবে চলছে। বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকায় তার আঁকা মূর‌্যাল প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় ম্যুরাল অঙ্কন করেছেন জিহান ওয়াজেদ।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটানস্থ গ্যালারীতে তার বেশ কয়েকটি একক চিত্র প্রদর্শনী ব্যাপক সাড়া জাগায় মুলধারার দর্শকের মাঝে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতেও অংশ নেন জিহান। স্টুডিওতে ছবি আঁকার পাশাপাশি তার নিজস্ব স্টাইলে ম্যুরাল আঁকছেন। জিহানের প্রাথমিক আগ্রহ ছিল গ্রাফিতি আঁকায়। গ্রাফিতি থেকেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন ম্যুরালের নিজস্ব ও নূতন ধারা। তার এই ধারাকে পছন্দ করছে শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের শহর নিউইয়র্কের শিল্পবোদ্ধারা। জিহানের শিল্পকর্ম চোখ ধাঁধায়, হৃদয়ে দেয় প্রশান্তি, নানাভাবে দোলা দেয় চেতনায়।

তার চিত্রকর্ম সৃষ্টি করে নিরাময় ও দৃষ্টিসুখের পরিবেশ। জিহানের শিল্পকর্মে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে বাংলাদেশের পতাকার লাল ও সবুজ রঙ। জিহান তার শিল্পকর্ম দিয়ে গর্বিত করে চলেছেন আমেরিকার বহুজাতিক সমাজে বাংলাদেশী ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটিকে। কমিউনিটি ম্যুরাল প্রকল্পের অধীনে তার আঁকা চিত্রকর্ম নিউইয়র্ক সিটির হাসপাতালের নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশেও অবদান রাখায় ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে প্রকল্পটি। তার ম্যুরালের রয়েছে নিজস্ব ও নূতন ধারা।

সম্প্রতি বাংলাদেশী আমেরিকান ব্যবসায়ীদের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় জিহানের আঁকা বাংলাদেশ ম্যুরাল ব্যাপক সাড়া জাগায় কমিউনিটিতে। ডাইভারসিটি প্লাজার দক্ষিণের ভবনটির প্রশস্থ দেয়ালে স্থান পায় বাংলাদেশ ম্যুরাল।

জিহান ওয়াজেদ’র জন্ম চিকিৎসক পিতার কর্মস্থল লিবিয়ার বেনগাজীতে। তার পিতা নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’র সম্পাদক। নিউইয়র্কের সঙ্গেই শিক্ষাজীবন শুরু জিহানের। মেধাবী জিহান পড়াশুনা করেছেন স্টাইভ্যাসেন্ট হাইস্কুলে এবং মিকৌলে অনারি প্রোগ্রামে বারুখ কলেজ থেকে পারসেপচুয়াল সাইকোলজিতে গ্রাজুয়েশন করলেও তার মনোযোগ একমাত্র ছবি আঁকায়। চিত্রকর্মের উপর তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও শৈশব থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ছিল প্রবল আকর্ষণ। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে হয়েছেন পুরস্কৃত। বাংলাদেশের প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনের উপর তার রয়েছে দুর্বার আকর্ষণ। বাংলাদেশেও তার চিত্রকর্মের ছাপ রাখতে চান জিহান ওয়াজেদ।

Share this news as a Photo Card