কলকাতায় এখন ফুটবলের রং হলুদ ও সবুজ। শহরের অপেক্ষা শেষ। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এসে গেছে। এবার অপেক্ষা মাঠের লড়াইয়ের। আজ বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইতিহাসের প্রথম সিনিয়র আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ভারত।গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে কলকাতায় নামে ব্রাজিল দল। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াতেই ছিল কড়া নিরাপত্তা। হলুদ ও সবুজে সাজানো দুটি বাস ব্যবহার করা হয় দলের জন্য।
ভিআইপি গেট দিয়ে দ্রুত বিমানবন্দর ছাড়ে ব্রাজিলের বহর। দর্শকদেরও রাখা হয় নির্দিষ্ট দূরত্বে। বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট। দলের নিরাপত্তায় ছিল বিশেষ ব্যবস্থা। এত কড়াকড়ির মধ্যেও ব্রাজিলকে একনজর দেখার আগ্রহে হোটেলের আশপাশে ছিল সমর্থকদের ভিড়।হোটেলে ঢোকার সময় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দেখে উচ্ছ্বাস আরধ বেড়ে যায়। লবি থেকে ভেসে আসে ‘ভিনি ভিনি’ স্লোগান। খেলোয়াড়দের বেশির ভাগের পরনে ছিল জলপাই সবুজ রঙের হুডি ও শর্টস। সঙ্গে ছিল হলুদ ক্যাপ। তবে এই সফরে নেই রাফিনিয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-২ জয়ের ম্যাচে ডান উরুতে অস্বস্তি অনুভব করে বিরতির সময় মাঠ ছাড়েন তিনি। পরে পরীক্ষায় ডান উরুর পেছনের অংশে সামান্য মাংসপেশির ফোলা ধরা পড়ে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে রাফিনিয়ার অনুপস্থিতি ব্রাজিলের তারকাসমৃদ্ধ দলটির আকর্ষণ কমাচ্ছে না। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মারকুইনোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস ও ব্রুনো গিমারায়েসের মতো খেলোয়াড়রা রয়েছেন দলে। বিশ্বকাপের পর এটিই আনচেলত্তির নতুন চক্রের প্রথম স্কোয়াড। সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন আনচেলত্তি। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ব্রাজিল পঞ্চম। ভারত ১৩৮তম। দুই দলের অবস্থানের পার্থক্য ১৩৩ ধাপ।
কিন্তু এই ব্যবধানকে সামনে আনেননি ব্রাজিল কোচ। বরং ভারতের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন তিনি। বিশেষ করে পানামার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, ভারতের মানের প্রতি ব্রাজিলের সম্মান আছে এবং প্রতিপক্ষকে তারা পূর্ণ সম্মানই দিচ্ছে। আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন, সর্বশেষ বিশ্বকাপে ব্রাজিল প্রত্যাশিত মাত্রায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। সময়টা ছিল কঠিন। তবে সেই অভিজ্ঞতাই নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচগুলোকে তাই পরবর্তী সময়ের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন ব্রাজিল কোচ।
কলকাতার ম্যাচে ব্রাজিলের আরেকটি বড় শক্তি মাঠের বাইরের আবেগ। ভারতে ব্রাজিলের সমর্থকগোষ্ঠী দীর্ঘদিনের। অধিনায়ক মারকুইনোসও তা অনুভব করছেন। তার মতে, ব্রাজিলের বাইরে ভারত এমন দেশগুলোর একটি, যেখানে জাতীয় দলের প্রতি সমর্থন ও ভক্তসংখ্যা খুব বড়। কলকাতায় আসা তাই ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের কাছেও বিশেষ অভিজ্ঞতা। সমর্থকদের এই ভালোবাসাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন মারকুইনোস।


























