নিউইয়র্ক ০৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

  • আপডেটের সময় : ০২:৪৫:৪১ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের সমরকন্দে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন রুবিও। মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনের ভারত সফরের আগে সেখানে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

রুবিও বলেন, ‘আমরা এখন ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছেছি।’

ভারত সফরে প্রথমে দেশটির বাণিজ্যিক কেন্দ্র মুম্বাইয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। এরপর পশ্চিমাঞ্চলীয় গুজরাট রাজ্যের জামনগরে গিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম একক স্থানে অবস্থিত তেল শোধনাগার পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর।

এদিকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে রুবিও বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এসব বিষয় সামাল দিতে হবে। আমরা এখন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছেছি। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ছাড় দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব বিষয় বিবেচনায় নেন।’

রুবিওর ভাষ্য, প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব কিছু জটিলতা রয়েছে, যা নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হয়। ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে কোনো কোনো দেশের পক্ষে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা কঠিন। এটি কোনো অজুহাত না হলেও পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের সময় এসব বিষয় ভারসাম্যপূর্ণভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে একটি অন্তর্বর্তী কাঠামোগত চুক্তির শর্ত নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিল।

গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানান, দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপের আলোচনা শেষ হয়েছে। বর্তমানে চুক্তির আইনি খসড়া তৈরির কাজ চলছে। নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় ভারত সমতুল্য বা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে দ্রুত চুক্তিটি চূড়ান্ত করে কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে নয়াদিল্লি।

গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ভারতের রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখাও শুল্ক আরোপের অন্যতম কারণ ছিল।

তবে কৌশলগত অংশীদারত্ব বজায় রাখা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ হাজার ৯৪০ কোটি ডলার।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্সে একদিনে গ্রেপ্তার ২ হাজার ৪০০

১৯ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

আপডেটের সময় : ০২:৪৫:৪১ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের সমরকন্দে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন রুবিও। মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনের ভারত সফরের আগে সেখানে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

রুবিও বলেন, ‘আমরা এখন ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছেছি।’

ভারত সফরে প্রথমে দেশটির বাণিজ্যিক কেন্দ্র মুম্বাইয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। এরপর পশ্চিমাঞ্চলীয় গুজরাট রাজ্যের জামনগরে গিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম একক স্থানে অবস্থিত তেল শোধনাগার পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর।

এদিকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে রুবিও বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এসব বিষয় সামাল দিতে হবে। আমরা এখন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছেছি। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ছাড় দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব বিষয় বিবেচনায় নেন।’

রুবিওর ভাষ্য, প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব কিছু জটিলতা রয়েছে, যা নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হয়। ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে কোনো কোনো দেশের পক্ষে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা কঠিন। এটি কোনো অজুহাত না হলেও পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের সময় এসব বিষয় ভারসাম্যপূর্ণভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে একটি অন্তর্বর্তী কাঠামোগত চুক্তির শর্ত নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিল।

গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানান, দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপের আলোচনা শেষ হয়েছে। বর্তমানে চুক্তির আইনি খসড়া তৈরির কাজ চলছে। নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় ভারত সমতুল্য বা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে দ্রুত চুক্তিটি চূড়ান্ত করে কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে নয়াদিল্লি।

গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ভারতের রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখাও শুল্ক আরোপের অন্যতম কারণ ছিল।

তবে কৌশলগত অংশীদারত্ব বজায় রাখা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ হাজার ৯৪০ কোটি ডলার।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Share this news as a Photo Card