নিউইয়র্ক ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক স্খলনে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত শাস্তির দাবি হেফাজতের

  • আপডেটের সময় : ১২:২৪:৫৩ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক পদস্খলনের দায়ে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত—উভয় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা বা আপস করা চলবে না বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এ কথা বলেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে সব স্কুল ও মাদ্রাসাকে নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেকোনো অনৈতিক আচরণ বা শিশু নিপীড়ন যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন

হেফাজতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কওমি মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন নির্দেশনা জারি করেছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। এটি কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠন করতে হবে। আগে থেকে কোনো কমিটি থাকলে তা সচল রাখতে হবে। শিক্ষার্থী নিপীড়ন বা অনৈতিক আচরণের যেকোনো অভিযোগের তদন্ত করে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন এবং অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে অথবা কোনো অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।

হেফাজতের নেতারা বলেন, শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধে শুধু কমিটি গঠন করলেই হবে না, কমিটিকে কার্যকর রাখতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

হেফাজতের বিবৃতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি সব সময় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আজকের শিশুশিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের শৈশব ও কৈশোরের সুশিক্ষা এবং নিরাপদে বেড়ে ওঠার দায়িত্বে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নিয়মিত বেতন পরিশোধ না করায় কুয়েতে ৮৮৪৯ কোম্পানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প

২৫ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক স্খলনে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত শাস্তির দাবি হেফাজতের

আপডেটের সময় : ১২:২৪:৫৩ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক পদস্খলনের দায়ে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত—উভয় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা বা আপস করা চলবে না বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এ কথা বলেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে সব স্কুল ও মাদ্রাসাকে নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেকোনো অনৈতিক আচরণ বা শিশু নিপীড়ন যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন

হেফাজতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কওমি মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন নির্দেশনা জারি করেছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। এটি কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠন করতে হবে। আগে থেকে কোনো কমিটি থাকলে তা সচল রাখতে হবে। শিক্ষার্থী নিপীড়ন বা অনৈতিক আচরণের যেকোনো অভিযোগের তদন্ত করে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন এবং অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে অথবা কোনো অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।

হেফাজতের নেতারা বলেন, শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধে শুধু কমিটি গঠন করলেই হবে না, কমিটিকে কার্যকর রাখতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

হেফাজতের বিবৃতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি সব সময় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আজকের শিশুশিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের শৈশব ও কৈশোরের সুশিক্ষা এবং নিরাপদে বেড়ে ওঠার দায়িত্বে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

Share this news as a Photo Card