নিউইয়র্ক ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজে মাইনের আঘাতে ৪ তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ

  • আপডেটের সময় : ১২:৪৫:১৭ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে সাগরের তলদেশে পুঁতে রাখা মাইনের আঘাতে চারটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পৃথক বিবৃতিতে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনী এ তথ্য জানায়।

আইআরজিসির দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের অননুমোদিত নৌপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করার সময় তিনটি তেলবাহী জাহাজ মাইনের আঘাতে বিস্ফোরিত হয়। এতে জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। পরে বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, প্রণালির পূর্বাঞ্চলে নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক এলাকায় চলাচলের সময় আরও একটি তেলবাহী জাহাজ মাইন বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, প্রথম তিনটি জাহাজের রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। এ ছাড়া আইআরজিসি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিল জাহাজগুলো। তবে ঘটনাগুলোর সুনির্দিষ্ট সময় এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর পতাকাবাহী দেশ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জানিয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বা ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পেয়েছে তারা।

এর আগে একই এলাকায় আরও দুটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি। এর একটি ঘটনায় আগুন ধরে ডুবে যায় ঐতিহ্যবাহী একটি আরবীয় নৌযান। অন্য ঘটনায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় অজ্ঞাত কোনো বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি তেলবাহী জাহাজ।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি করে আসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক মাধ্যমে জানায়, জাহাজ চলাচলের প্রধান পথগুলো থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার এ দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, হরমুজ থেকে মাইন সরানোর দাবির পক্ষে শুধু বিবৃতি নয়, স্বাধীন প্রমাণ দিতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের অবস্থান, ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় করিডর দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি নেই।

বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, প্রণালির অননুমোদিত নৌপথে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে এবং এসব পথে চলাচলের ঝুঁকির দায় জাহাজের মালিক ও নাবিকদেরই নিতে হবে। একই সঙ্গে সেন্টকমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দাবিকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তা বিশ্বাস না করার আহ্বান জানায় বাহিনীটি।

অন্যদিকে, পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ড্রোন জব্দ করার দাবিও করেছে আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চলে এক অভিযানে নৌবাহিনীর ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউএম-১৭০ মডেলের একটি ড্রোন জব্দ করেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সরকার গড়তে আরব দলগুলোর সমর্থন লাগবে নেতানিয়াহু ও গাদির

হরমুজে মাইনের আঘাতে ৪ তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ

৩০ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হরমুজে মাইনের আঘাতে ৪ তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ

আপডেটের সময় : ১২:৪৫:১৭ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে সাগরের তলদেশে পুঁতে রাখা মাইনের আঘাতে চারটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পৃথক বিবৃতিতে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনী এ তথ্য জানায়।

আইআরজিসির দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের অননুমোদিত নৌপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করার সময় তিনটি তেলবাহী জাহাজ মাইনের আঘাতে বিস্ফোরিত হয়। এতে জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। পরে বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, প্রণালির পূর্বাঞ্চলে নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক এলাকায় চলাচলের সময় আরও একটি তেলবাহী জাহাজ মাইন বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, প্রথম তিনটি জাহাজের রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। এ ছাড়া আইআরজিসি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিল জাহাজগুলো। তবে ঘটনাগুলোর সুনির্দিষ্ট সময় এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর পতাকাবাহী দেশ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জানিয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বা ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পেয়েছে তারা।

এর আগে একই এলাকায় আরও দুটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি। এর একটি ঘটনায় আগুন ধরে ডুবে যায় ঐতিহ্যবাহী একটি আরবীয় নৌযান। অন্য ঘটনায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় অজ্ঞাত কোনো বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি তেলবাহী জাহাজ।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি করে আসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক মাধ্যমে জানায়, জাহাজ চলাচলের প্রধান পথগুলো থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার এ দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, হরমুজ থেকে মাইন সরানোর দাবির পক্ষে শুধু বিবৃতি নয়, স্বাধীন প্রমাণ দিতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের অবস্থান, ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় করিডর দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি নেই।

বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, প্রণালির অননুমোদিত নৌপথে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে এবং এসব পথে চলাচলের ঝুঁকির দায় জাহাজের মালিক ও নাবিকদেরই নিতে হবে। একই সঙ্গে সেন্টকমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দাবিকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তা বিশ্বাস না করার আহ্বান জানায় বাহিনীটি।

অন্যদিকে, পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ড্রোন জব্দ করার দাবিও করেছে আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চলে এক অভিযানে নৌবাহিনীর ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউএম-১৭০ মডেলের একটি ড্রোন জব্দ করেছে।

Share this news as a Photo Card