নিউইয়র্ক ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সময় এসেছে সাফ জয়ের

  • আপডেটের সময় : ০৭:০১:৩৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ১১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে গত ৫ জুন খেলেছে বাংলাদেশ। ২-১ গোলে জিতেছিল। সেই ম্যাচের পর ফুটবল দুনিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে মেতে উঠল। বিশ্বকাপের আনন্দ শেষ। এখন আবার দেশের ফুটবল ফুটবল নিয়ে মেতে উঠছে সবাই। বাংলাদেশের সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবল আছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আগামী ৪-১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে সাফ। 

গতকাল দুপুরে সাফের লোগো উন্মোচন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কোচ যুক্তরাষ্ট্রে থমাস ঢুলি। সাফ নিয়ে প্রশ্নে খুবই আশাবাদী। বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকদেরকে আশা দেখাচ্ছেন। বিনিময়ে ফুটবল দর্শকের কাছেও কোচের চাওয়া আছে। ২০০২ সালে শেষবার ঢাকায় নিজ মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেবার ফাইনালে টাইব্রেকিংয়ে মালদ্বীপকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। তারপর ২৩ বছর কেটে গেছে। ২৩ বছরের খরা কাটাতে চান দুইবার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা বাংলাদেশের কোচ থামস ঢুলি। ‘আমি চাই দর্শক যেন খুশি মনে বাড়ি ফেরে।’

সাফ জয়ের জন্য সম্মিলিত চেষ্টা কাজে লাগাতে চান কোচ। মাঠে খেলোয়াড়রা খেলবেন। আর গ্যালারিতে দর্শক আওয়াজ তুলবেন। মাঠে বসে তারা এমন আওয়াজ তুলবেন যেন প্রতিপক্ষ নার্ভাস হয়, ভুল করে। আর তা থেকে আমরা সুযোগ কাজে লাগাব।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হচ্ছে দক্ষিণ অঞ্চলের ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। কোচ থামাস ঢুলি বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার হলেও সাফেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোনোভাবেই খাটো করে দেখছেন না। এটিকে কঠিন টুর্নামেন্ট হিসেবেই দেখছেন কোচ। তার মতে, এখানে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কোনো বিষয় নয়। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন জেতার নামসিকতা নিয়ে মাঠে নামার জন্য খেলোয়াড়দেরকে তৈরি করতে চান কোচ।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ কেন্দ্র করে একটা পরিকল্পনাও তৈরি করেছেন তিনি। সেই পরিকল্পনায় করতে গিয়ে দেখেছেন প্রতিপক্ষ কারা, তাদের র‍্যাংকিং কেমন, তারা কোথায় খেলেছে, বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে প্রতিপক্ষ দেশগুলোর পার্থক্য কোথায় কোথায়। কেন বার বার বাংলাদেশ হারাতে পারছে না ভারতকে। গত দেড় মাস এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন কোচ থমাস ঢুলি। ‘কার বিপক্ষে খেলছি সেটি বড় কথা নয়। আমি যখন খেলেছি তখন আমাদের মানসিকতা থাকত জিততে হবে। আর যখন কোচিং ক্যারিয়ারে ঢুকেছি তখনো আমার লক্ষ ছিল জিততে হবে। তাই বলব, আমরা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলছি না। আমাদের চেয়ে র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা কিংবা পিছিয়ে থাকে দেশের বিপক্ষে খেলছি। সেটা মাথায় রাখতে হবে। এখানে দেখতে হবে মাঠে নামার আগে প্লেয়ারদের মানসিকতা কী রকম থাকে।’ 

থমাস ঢুলির পাশে তপু বর্মন এবং শেখ মোরসালিন। তাদের প্রতিপক্ষ করে কোচ বলেন, ‘যদি তারা প্রতিপক্ষকে সহজভাবে গ্রহণ করে তাহলে সাফ টুর্নামেন্ট কঠিন হবে।’ ‘টুর্নামেন্টের লক্ষ্য কী প্রশ্ন করা হলে আমি বলব, অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ২৩ বছর সাফে ট্রফি পায় না বাংলাদেশ। সেটা আরেক বার ধরতে চাই।’ বাংলাদেশ দলের পুরোনো অভ্যাস, গোল করতে না পারা। এই সংকটের কথা ইঙ্গিত দিয়ে কোচ বলেন, ‘বল জালে জড়াতে হবে। আমরা শুধু কথা বলতে থাকি। শুধু কথা বললে হবে না। মাঠেও সেটা প্রমাণ করতে হবে, তা না হলে হবে না।’কোচ চাইছেন ম্যাচ জেতার চিন্তা ফুটবলারদের মাথায় ঢুকুক। পাশে দাঁড়িয়ে মোরসালিন বললেন, সেটি তাদের মধ্যে রয়েছে। ‘কোচের ভাবনাটা আমাদের মধ্যেও রয়েছে। আমি খুবই এক্সাইটেড, ওভার এক্সাইটেড হতে চাই না। সাফ শিরোপাটা ঘরে রাখতে চাই।’ কোচের আরেক পাশে ছিলেন তপু বর্মন। সাফ হবে ঢাকার মাটিতে। এটা বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য হোম এডভান্টেজ কি না সেই প্রশ্নে তপু বলেন, ‘অ্যাডভান্টেজ তো অবশ্যই আছে কিন্তু ওভার কনফিডেন্স হওয়া যাবে না। আমাদের অলরেডি কোচ বলেছেন, অনেক ট্রেনিং সেশন অনেক ভিডিও ভিডিও অ্যানালাইসিস করবে, সবকিছু মিলিয়ে অবশ্যই একটা পজিটিভ ভাব নিয়ে আমরা খেলতে নামব। তারপরে ম্যাচ বাই ম্যাচ আমরা ভালো খেলার চেষ্টা করব, সেখান থেকে আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট নিয়ে আসতে পারব।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সময় এসেছে সাফ জয়ের

আপডেটের সময় : ০৭:০১:৩৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ইউরোপের দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে গত ৫ জুন খেলেছে বাংলাদেশ। ২-১ গোলে জিতেছিল। সেই ম্যাচের পর ফুটবল দুনিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে মেতে উঠল। বিশ্বকাপের আনন্দ শেষ। এখন আবার দেশের ফুটবল ফুটবল নিয়ে মেতে উঠছে সবাই। বাংলাদেশের সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবল আছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আগামী ৪-১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে সাফ। 

গতকাল দুপুরে সাফের লোগো উন্মোচন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কোচ যুক্তরাষ্ট্রে থমাস ঢুলি। সাফ নিয়ে প্রশ্নে খুবই আশাবাদী। বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকদেরকে আশা দেখাচ্ছেন। বিনিময়ে ফুটবল দর্শকের কাছেও কোচের চাওয়া আছে। ২০০২ সালে শেষবার ঢাকায় নিজ মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেবার ফাইনালে টাইব্রেকিংয়ে মালদ্বীপকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। তারপর ২৩ বছর কেটে গেছে। ২৩ বছরের খরা কাটাতে চান দুইবার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা বাংলাদেশের কোচ থামস ঢুলি। ‘আমি চাই দর্শক যেন খুশি মনে বাড়ি ফেরে।’

সাফ জয়ের জন্য সম্মিলিত চেষ্টা কাজে লাগাতে চান কোচ। মাঠে খেলোয়াড়রা খেলবেন। আর গ্যালারিতে দর্শক আওয়াজ তুলবেন। মাঠে বসে তারা এমন আওয়াজ তুলবেন যেন প্রতিপক্ষ নার্ভাস হয়, ভুল করে। আর তা থেকে আমরা সুযোগ কাজে লাগাব।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হচ্ছে দক্ষিণ অঞ্চলের ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। কোচ থামাস ঢুলি বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার হলেও সাফেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোনোভাবেই খাটো করে দেখছেন না। এটিকে কঠিন টুর্নামেন্ট হিসেবেই দেখছেন কোচ। তার মতে, এখানে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কোনো বিষয় নয়। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন জেতার নামসিকতা নিয়ে মাঠে নামার জন্য খেলোয়াড়দেরকে তৈরি করতে চান কোচ।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ কেন্দ্র করে একটা পরিকল্পনাও তৈরি করেছেন তিনি। সেই পরিকল্পনায় করতে গিয়ে দেখেছেন প্রতিপক্ষ কারা, তাদের র‍্যাংকিং কেমন, তারা কোথায় খেলেছে, বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে প্রতিপক্ষ দেশগুলোর পার্থক্য কোথায় কোথায়। কেন বার বার বাংলাদেশ হারাতে পারছে না ভারতকে। গত দেড় মাস এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন কোচ থমাস ঢুলি। ‘কার বিপক্ষে খেলছি সেটি বড় কথা নয়। আমি যখন খেলেছি তখন আমাদের মানসিকতা থাকত জিততে হবে। আর যখন কোচিং ক্যারিয়ারে ঢুকেছি তখনো আমার লক্ষ ছিল জিততে হবে। তাই বলব, আমরা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলছি না। আমাদের চেয়ে র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা কিংবা পিছিয়ে থাকে দেশের বিপক্ষে খেলছি। সেটা মাথায় রাখতে হবে। এখানে দেখতে হবে মাঠে নামার আগে প্লেয়ারদের মানসিকতা কী রকম থাকে।’ 

থমাস ঢুলির পাশে তপু বর্মন এবং শেখ মোরসালিন। তাদের প্রতিপক্ষ করে কোচ বলেন, ‘যদি তারা প্রতিপক্ষকে সহজভাবে গ্রহণ করে তাহলে সাফ টুর্নামেন্ট কঠিন হবে।’ ‘টুর্নামেন্টের লক্ষ্য কী প্রশ্ন করা হলে আমি বলব, অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ২৩ বছর সাফে ট্রফি পায় না বাংলাদেশ। সেটা আরেক বার ধরতে চাই।’ বাংলাদেশ দলের পুরোনো অভ্যাস, গোল করতে না পারা। এই সংকটের কথা ইঙ্গিত দিয়ে কোচ বলেন, ‘বল জালে জড়াতে হবে। আমরা শুধু কথা বলতে থাকি। শুধু কথা বললে হবে না। মাঠেও সেটা প্রমাণ করতে হবে, তা না হলে হবে না।’কোচ চাইছেন ম্যাচ জেতার চিন্তা ফুটবলারদের মাথায় ঢুকুক। পাশে দাঁড়িয়ে মোরসালিন বললেন, সেটি তাদের মধ্যে রয়েছে। ‘কোচের ভাবনাটা আমাদের মধ্যেও রয়েছে। আমি খুবই এক্সাইটেড, ওভার এক্সাইটেড হতে চাই না। সাফ শিরোপাটা ঘরে রাখতে চাই।’ কোচের আরেক পাশে ছিলেন তপু বর্মন। সাফ হবে ঢাকার মাটিতে। এটা বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য হোম এডভান্টেজ কি না সেই প্রশ্নে তপু বলেন, ‘অ্যাডভান্টেজ তো অবশ্যই আছে কিন্তু ওভার কনফিডেন্স হওয়া যাবে না। আমাদের অলরেডি কোচ বলেছেন, অনেক ট্রেনিং সেশন অনেক ভিডিও ভিডিও অ্যানালাইসিস করবে, সবকিছু মিলিয়ে অবশ্যই একটা পজিটিভ ভাব নিয়ে আমরা খেলতে নামব। তারপরে ম্যাচ বাই ম্যাচ আমরা ভালো খেলার চেষ্টা করব, সেখান থেকে আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট নিয়ে আসতে পারব।’

Share this news as a Photo Card