নিউইয়র্ক ০৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ছাত্রদল ও যুবদলের চালানো হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা হবিগঞ্জে আছি’

  • আপডেটের সময় : ০৭:৩০:৫১ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে এর তীব্র বিচার দাবি করেছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই অভিযোগ করেন।

সারজিস আলম অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এনসিপির নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর করেছে এবং আহতদের হাসপাতালে নিতেও বাধা দিয়েছে। তিনি বলেন, “কারো হাত ভেঙে গেছে, কারো মাথা ফেটে গেছে। ক্যামেরা, ফোন সব ছাত্রদল-যুবদলের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গেছে। আমাদের একজন ভাইয়ের চোখে রড দিয়ে যখন গুতা মারছে, তার চোখ বের হয়ে আসার মতো অবস্থা। আরেকজনের মুখে রড দিয়ে বাড়ি মারছে।”

হাসপাতালের সামনেও হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যখন আহত সাত-আটজন ভাইকে নিয়ে সদর হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন চব্বিশের জুলাইয়ের সময় যেমন খুনি বাহিনী ঢাকা মেডিকেলের গেটে আক্রমণ করেছিল, ঠিক একইভাবে ছাত্রদল-যুবদলের সন্ত্রাসী ক্যাডাররা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদেরকে হাসপাতালেও ঢুকতে দেয়নি। এমনকি আমার হাতে পর্যন্ত রড দিয়ে বাড়ি মারা হয়েছে, ইট মারা শুরু করেছে।”

এ সময় পুলিশের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, “আমরা এখানে পুলিশ দেখেছি। এত বড় হামলার পরেও তারা পেছনে দাঁড়িয়ে নাটক দেখছে। এই যদি হয় বাংলাদেশের অবস্থা, তাহলে তারেক রহমানকে জবাব দিতে হবে—এটা কি তারেক রহমানের সন্ত্রাসী বাহিনী? শুধুমাত্র দ্বিমত বা সমালোচনা করার কারণে এভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে? সালাহউদ্দিন আহমদকেও জবাব দিতে হবে, তারা কি এই জি কে গউছদেরকে এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঠিকাদারি দিয়ে রেখেছেন কি না।”

হামলার বিচার দাবি করে এনসিপির এই নেতা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দেন, “এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা হবিগঞ্জে আছি। যদি পারে আমাদের মেরে ফেলবে, এখান থেকে প্রয়োজনে আমাদের লাশ যাবে। কিন্তু এর বিচার ও জবাব দিতেই হবে।”

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্বের সবচেয়ে বড় রকেটের সফল পরীক্ষা চালাল স্পেসএক্স

একই দিনে জেলেনস্কি ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘ছাত্রদল ও যুবদলের চালানো হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা হবিগঞ্জে আছি’

আপডেটের সময় : ০৭:৩০:৫১ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে এর তীব্র বিচার দাবি করেছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই অভিযোগ করেন।

সারজিস আলম অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এনসিপির নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর করেছে এবং আহতদের হাসপাতালে নিতেও বাধা দিয়েছে। তিনি বলেন, “কারো হাত ভেঙে গেছে, কারো মাথা ফেটে গেছে। ক্যামেরা, ফোন সব ছাত্রদল-যুবদলের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গেছে। আমাদের একজন ভাইয়ের চোখে রড দিয়ে যখন গুতা মারছে, তার চোখ বের হয়ে আসার মতো অবস্থা। আরেকজনের মুখে রড দিয়ে বাড়ি মারছে।”

হাসপাতালের সামনেও হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যখন আহত সাত-আটজন ভাইকে নিয়ে সদর হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন চব্বিশের জুলাইয়ের সময় যেমন খুনি বাহিনী ঢাকা মেডিকেলের গেটে আক্রমণ করেছিল, ঠিক একইভাবে ছাত্রদল-যুবদলের সন্ত্রাসী ক্যাডাররা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদেরকে হাসপাতালেও ঢুকতে দেয়নি। এমনকি আমার হাতে পর্যন্ত রড দিয়ে বাড়ি মারা হয়েছে, ইট মারা শুরু করেছে।”

এ সময় পুলিশের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, “আমরা এখানে পুলিশ দেখেছি। এত বড় হামলার পরেও তারা পেছনে দাঁড়িয়ে নাটক দেখছে। এই যদি হয় বাংলাদেশের অবস্থা, তাহলে তারেক রহমানকে জবাব দিতে হবে—এটা কি তারেক রহমানের সন্ত্রাসী বাহিনী? শুধুমাত্র দ্বিমত বা সমালোচনা করার কারণে এভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে? সালাহউদ্দিন আহমদকেও জবাব দিতে হবে, তারা কি এই জি কে গউছদেরকে এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঠিকাদারি দিয়ে রেখেছেন কি না।”

হামলার বিচার দাবি করে এনসিপির এই নেতা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দেন, “এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা হবিগঞ্জে আছি। যদি পারে আমাদের মেরে ফেলবে, এখান থেকে প্রয়োজনে আমাদের লাশ যাবে। কিন্তু এর বিচার ও জবাব দিতেই হবে।”

Share this news as a Photo Card