নিউইয়র্ক ০৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধের পর প্রথমবার বৈঠকে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু 

  • আপডেটের সময় : ০৮:১০:০৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে ইরান ইস্যুর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, লেবাননের সঙ্গে চুক্তি এবং আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়েছে, এমন সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দুই নেতাই নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতিও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দীর্ঘায়িত যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৈঠকে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের পর লেবাননের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম চুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হবে।

বৈঠকের আগে সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তার ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। তবে উভয়েই প্রায় একই অবস্থানে আছেন।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক অতীতেও নানা সময়ে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর দুই নেতার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ফেব্রুয়ারিতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। সে সময় উভয় পক্ষই দাবি করেছিল, এ অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করা এবং পশ্চিমাপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা।

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ইরান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং বিভিন্ন শহরকে লক্ষ্যবস্তু করে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপর দেশীয় মহল ও আঞ্চলিক মিত্রদের চাপও বেড়ে যায়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্বের সবচেয়ে বড় রকেটের সফল পরীক্ষা চালাল স্পেসএক্স

একই দিনে জেলেনস্কি ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরান যুদ্ধের পর প্রথমবার বৈঠকে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু 

আপডেটের সময় : ০৮:১০:০৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে ইরান ইস্যুর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, লেবাননের সঙ্গে চুক্তি এবং আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়েছে, এমন সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দুই নেতাই নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতিও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দীর্ঘায়িত যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৈঠকে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের পর লেবাননের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম চুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হবে।

বৈঠকের আগে সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তার ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। তবে উভয়েই প্রায় একই অবস্থানে আছেন।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক অতীতেও নানা সময়ে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর দুই নেতার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ফেব্রুয়ারিতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। সে সময় উভয় পক্ষই দাবি করেছিল, এ অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করা এবং পশ্চিমাপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা।

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ইরান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং বিভিন্ন শহরকে লক্ষ্যবস্তু করে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপর দেশীয় মহল ও আঞ্চলিক মিত্রদের চাপও বেড়ে যায়।

Share this news as a Photo Card