নিউইয়র্ক ০৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

  • আপডেটের সময় : ০৭:৫২:০৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং বিমান সংস্থা মাহান এয়ারকে পণ্য বিক্রি, লজিস্টিক ও বাণিজ্যিক সহায়তা প্রদানের অভিযোগে চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ। 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ওয়াশিংটন কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষিত আইআরজিসির হয়ে অস্ত্র ও কর্মী পরিবহনের অভিযোগে অভিযুক্ত মাহান এয়ারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ট্রেজারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক জে হিলোটিন।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) ঘোষিত এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় সানহাই শহরের কিছু প্রতিষ্ঠান এবং একটি রুশ এয়ার কার্গো সংস্থাসহ জেনারেল সেলস এজেন্টদের নিশানা করা হয়েছে। 

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান যে আইআরজিসি বা মাহান এয়ারকে আর্থিক ও লজিস্টিক সুবিধা প্রদানকারী যেকোনো পক্ষ একটি সন্ত্রাসী উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে এবং তাদের মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে যে অর্থনৈতিক এই চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ ও বিমান হামলার মাধ্যমে সামরিক চাপও বজায় রেখেছে আমেরিকা। নিষেধাজ্ঞার ফলে চিহ্নিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্কিন অর্থ ব্যবস্থার প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যাবে এবং যেকোনো মার্কিন নাগরিকের জন্য তাদের সঙ্গে লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এমনকি তৃতীয় দেশের কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান এদের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে গেলে পরবর্তীতে তারা সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে।

বেসামরিক এয়ারলাইন হিসেবে দাবি করলেও মাহান এয়ার দীর্ঘদিন ধরে আইআরজিসির কুদস ফোর্সের সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় রয়েছে, যদিও এয়ারলাইনটি এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের নীতিমালার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ইরান সরকার কিংবা সংক্ষুব্ধ পক্ষগুলোর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মূলত আইআরজিসি সাধারণ সামরিক কর্মকাণ্ডের বাইরে একটি সুবিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, যা তাদের আয়ের অন্যতম উৎস। খাতাম আল-আনবিয়া নামের প্রধান প্রকৌশল সংস্থা, বুনিয়াদে তাউন সেপাহ বা আইআরজিসি সমবায় ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অবকাঠামো, তেল, গ্যাস, রিয়েল এস্টেট ও ব্যাংকিং খাতে তারা বড় ধরনের বাণিজ্য পরিচালনা করে। এছাড়া ছায়া তেল বাণিজ্য, ভুয়া কোম্পানি, চোরাচালান এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তহবিল সংগ্রহ করার অভিযোগ তুলে আসছে পশ্চিমা সংস্থাগুলো।

সূত্র: গালফ নিউজ

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশিদের ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার তাগিদ ভারতের সংসদীয় কমিটির

ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ নিয়ে সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোট

৩১ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আপডেটের সময় : ০৭:৫২:০৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং বিমান সংস্থা মাহান এয়ারকে পণ্য বিক্রি, লজিস্টিক ও বাণিজ্যিক সহায়তা প্রদানের অভিযোগে চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ। 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ওয়াশিংটন কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষিত আইআরজিসির হয়ে অস্ত্র ও কর্মী পরিবহনের অভিযোগে অভিযুক্ত মাহান এয়ারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ট্রেজারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক জে হিলোটিন।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) ঘোষিত এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় সানহাই শহরের কিছু প্রতিষ্ঠান এবং একটি রুশ এয়ার কার্গো সংস্থাসহ জেনারেল সেলস এজেন্টদের নিশানা করা হয়েছে। 

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান যে আইআরজিসি বা মাহান এয়ারকে আর্থিক ও লজিস্টিক সুবিধা প্রদানকারী যেকোনো পক্ষ একটি সন্ত্রাসী উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে এবং তাদের মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে যে অর্থনৈতিক এই চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ ও বিমান হামলার মাধ্যমে সামরিক চাপও বজায় রেখেছে আমেরিকা। নিষেধাজ্ঞার ফলে চিহ্নিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্কিন অর্থ ব্যবস্থার প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যাবে এবং যেকোনো মার্কিন নাগরিকের জন্য তাদের সঙ্গে লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এমনকি তৃতীয় দেশের কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান এদের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে গেলে পরবর্তীতে তারা সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে।

বেসামরিক এয়ারলাইন হিসেবে দাবি করলেও মাহান এয়ার দীর্ঘদিন ধরে আইআরজিসির কুদস ফোর্সের সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় রয়েছে, যদিও এয়ারলাইনটি এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের নীতিমালার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ইরান সরকার কিংবা সংক্ষুব্ধ পক্ষগুলোর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মূলত আইআরজিসি সাধারণ সামরিক কর্মকাণ্ডের বাইরে একটি সুবিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, যা তাদের আয়ের অন্যতম উৎস। খাতাম আল-আনবিয়া নামের প্রধান প্রকৌশল সংস্থা, বুনিয়াদে তাউন সেপাহ বা আইআরজিসি সমবায় ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অবকাঠামো, তেল, গ্যাস, রিয়েল এস্টেট ও ব্যাংকিং খাতে তারা বড় ধরনের বাণিজ্য পরিচালনা করে। এছাড়া ছায়া তেল বাণিজ্য, ভুয়া কোম্পানি, চোরাচালান এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তহবিল সংগ্রহ করার অভিযোগ তুলে আসছে পশ্চিমা সংস্থাগুলো।

সূত্র: গালফ নিউজ

Share this news as a Photo Card