নিউইয়র্ক ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড় মঞ্চে খেলার স্বপ্ন অ্যাডাম আব্বাসের

  • আপডেটের সময় : ০৫:২৫:৩০ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। দলের শক্তি বাড়াতে ইংল্যান্ড থেকে এসেছেন প্রবাসী ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাস। যশোরের শামস-উল-হুদা একাডেমিতে শনিবার থেকে বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়ে অনুশীলনও শুরু করেছেন তিনি। সতীর্থরাও তাকে বরণ করে নিয়েছেন। তবে দেশের ফুটবলে নিজের সবচেয়ে পছন্দের খেলোয়াড় কে? এমন প্রশ্নে বাকি সবার মতো তার মুখেও শোনা যায় হামজা চৌধুরীর নাম। গতকাল অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

জানালেন লাল-সবুজের জার্সিতে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার কথা। অ্যাডামের নানা-নানি বাংলাদেশি। তার মা ব্রিটিশ নাগরিক। বাবা জ্যামাইকান। নিজের শেকড়ের টানে ছুটে আসেন লাল-সবুজের দেশে। ইংল্যান্ডের মতো দেশ ছেড়ে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়ানোর কারণ বলতে গিয়ে ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার বলেন, ‘আমার স্বপ্ন বাংলাদেশের হয়ে বড় মঞ্চে খেলা। যতটা সম্ভব ম্যাচ জেতাব ইনশাআল্লাহ। গেল কয়েক বছরে বেশ সফল। অনেক ভালো ভালো প্লেয়ার আছে। স্টেজ যেটাই হোক, নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা অ্যাডাম আব্বাস। সেখানে চার বছর তিনি ছিলেন। ওল্ড ট্র্যাফোর্ড থেকে পরবর্তী সময় বার্নলি অনুর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলেছেন। ইনজুরির জন্য বার্নলির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন হয়নি। ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক ফুটবলে খেলে আসা অ্যাডাম কীভাবে বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, মূলত যে, বাংলাদেশের একটি দল আছে। আমি হামজা চৌধুরী এবং জাতীয় দলে খেলা আমার বয়সী আরও কয়েক জন খেলোয়াড় সম্পর্কে জানতাম। তারপর কারো সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং সেখান থেকেই সব শুরু হয়। তবে আমার মূল লক্ষ্য হলো শান্ত থেকে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নিজের ফুটবলটা খেলে যাওয়া।’ 

এ সময় তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ দলে তার প্রিয় খেলোয়াড় হামজা চৌধুরী। যশোরে প্রথম দিনের অনুশীলন দারুণ উপভোগ করেছেন এই প্রবাসী নিজের আগ্রহ থেকেই খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন তিনি। অ্যাডাম বলেন, ‘আমি জানতে পারি ফুটবলার। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে দলের সবার মানসিকতায় মুগ্ধ তিনি। দলের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘দলের সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। আমি এখানে কেবল দুই-এক দিন হলো এসেছি, কিন্তু ইতিমধ্যেই বুঝতে পারছি দলের মানসিকতা কতটা ইতিবাচক। আজ আমার প্রথম সেশন ছিল এবং এটি খুব ভালো কেটেছে। ট্রেনিংয়ের সব আয়োজন দারুণ ছিল।’ 

আসন্ন এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব ঘিরে নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে অ্যাডাম বলেন, ‘এএফসি টুর্নামেন্টে আমাদের সাধ্যমতো সেরাটা দেওয়া, ভক্তদের মুখে হাসি ফোটানো, দেশের জন্য খেলে সবাইকে গর্বিত করা এবং অবশ্যই মূল পর্বে কোয়ালিফাই করা এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এখানে জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দল মিলিয়ে অনেক ভালো তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে। আমরা যদি একতাবদ্ধ থাকি, কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাই, তবে ছোটখাটো যে কোনো ধাক্কা সামলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব।’ আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উজবেকিস্তানে হবে অনূর্ধ্ব-২০ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই। যেখানে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশর প্রতিপক্ষ সিরিয়া, ভারত ও উজবেকিস্তান।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বড় মঞ্চে খেলার স্বপ্ন অ্যাডাম আব্বাসের

আপডেটের সময় : ০৫:২৫:৩০ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। দলের শক্তি বাড়াতে ইংল্যান্ড থেকে এসেছেন প্রবাসী ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাস। যশোরের শামস-উল-হুদা একাডেমিতে শনিবার থেকে বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়ে অনুশীলনও শুরু করেছেন তিনি। সতীর্থরাও তাকে বরণ করে নিয়েছেন। তবে দেশের ফুটবলে নিজের সবচেয়ে পছন্দের খেলোয়াড় কে? এমন প্রশ্নে বাকি সবার মতো তার মুখেও শোনা যায় হামজা চৌধুরীর নাম। গতকাল অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

জানালেন লাল-সবুজের জার্সিতে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার কথা। অ্যাডামের নানা-নানি বাংলাদেশি। তার মা ব্রিটিশ নাগরিক। বাবা জ্যামাইকান। নিজের শেকড়ের টানে ছুটে আসেন লাল-সবুজের দেশে। ইংল্যান্ডের মতো দেশ ছেড়ে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়ানোর কারণ বলতে গিয়ে ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার বলেন, ‘আমার স্বপ্ন বাংলাদেশের হয়ে বড় মঞ্চে খেলা। যতটা সম্ভব ম্যাচ জেতাব ইনশাআল্লাহ। গেল কয়েক বছরে বেশ সফল। অনেক ভালো ভালো প্লেয়ার আছে। স্টেজ যেটাই হোক, নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা অ্যাডাম আব্বাস। সেখানে চার বছর তিনি ছিলেন। ওল্ড ট্র্যাফোর্ড থেকে পরবর্তী সময় বার্নলি অনুর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলেছেন। ইনজুরির জন্য বার্নলির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন হয়নি। ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক ফুটবলে খেলে আসা অ্যাডাম কীভাবে বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, মূলত যে, বাংলাদেশের একটি দল আছে। আমি হামজা চৌধুরী এবং জাতীয় দলে খেলা আমার বয়সী আরও কয়েক জন খেলোয়াড় সম্পর্কে জানতাম। তারপর কারো সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং সেখান থেকেই সব শুরু হয়। তবে আমার মূল লক্ষ্য হলো শান্ত থেকে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নিজের ফুটবলটা খেলে যাওয়া।’ 

এ সময় তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ দলে তার প্রিয় খেলোয়াড় হামজা চৌধুরী। যশোরে প্রথম দিনের অনুশীলন দারুণ উপভোগ করেছেন এই প্রবাসী নিজের আগ্রহ থেকেই খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন তিনি। অ্যাডাম বলেন, ‘আমি জানতে পারি ফুটবলার। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে দলের সবার মানসিকতায় মুগ্ধ তিনি। দলের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘দলের সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। আমি এখানে কেবল দুই-এক দিন হলো এসেছি, কিন্তু ইতিমধ্যেই বুঝতে পারছি দলের মানসিকতা কতটা ইতিবাচক। আজ আমার প্রথম সেশন ছিল এবং এটি খুব ভালো কেটেছে। ট্রেনিংয়ের সব আয়োজন দারুণ ছিল।’ 

আসন্ন এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব ঘিরে নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে অ্যাডাম বলেন, ‘এএফসি টুর্নামেন্টে আমাদের সাধ্যমতো সেরাটা দেওয়া, ভক্তদের মুখে হাসি ফোটানো, দেশের জন্য খেলে সবাইকে গর্বিত করা এবং অবশ্যই মূল পর্বে কোয়ালিফাই করা এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এখানে জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দল মিলিয়ে অনেক ভালো তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে। আমরা যদি একতাবদ্ধ থাকি, কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাই, তবে ছোটখাটো যে কোনো ধাক্কা সামলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব।’ আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উজবেকিস্তানে হবে অনূর্ধ্ব-২০ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই। যেখানে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশর প্রতিপক্ষ সিরিয়া, ভারত ও উজবেকিস্তান।

Share this news as a Photo Card