নিউইয়র্ক ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মাগুরায় বেড়েছে তালের হাতপাখার কদর

  • আপডেটের সময় : ০৭:৪৬:৪৪ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং ও মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় মাগুরায় তালের হাতপাখার চাহিদা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন গ্রামে গড়ে ওঠা পাখাপল্লীগুলোতে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। তালের হাতপাখা তৈরি করে অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে। বর্তমানে শিল্পীদের এক মুহূর্ত অবসর নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরার শিবরামপুর, নিজনান্দুয়ালী, সংকোচখালী, শক্রুজিৎপুর, আড়পাড়া, বিনোদপুর, পারিয়াট ও ধনেশ্বরগাতীসহ বিভিন্ন গ্রামে তালের হাতপাখা তৈরি হয়। এসব গ্রামে দুই শতাধিক পরিবার এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। জেলার তৈরি হাতপাখা দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। ফলে মৌসুমি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মাগুরা হাতপাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোকামে পরিণত হয়েছে।

পাখা কিনতে দেখা যায় কয়েকজন নারী ও পুরুষকে, তারা জানান, কিছু দিন ধরে লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ একবার গেলে দীর্ঘ সময় আর আসে না। উপায়ন্তর না দেখে পাখা কিনতে এসেছি। 

কারিগররা জানান, প্রথমে তালপাতা কেটে রোদে শুকানো হয়। পরে সুতা ও বাঁশের শলাকা দিয়ে সেলাই করে হাতপাখা তৈরি করা হয়। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পরে রং করা হয়। ফাল্গুন থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত হাতপাখা তৈরির প্রধান মৌসুম। একজন শিল্পী প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি পাখা তৈরি করতে পারেন। প্রতিটি পাখা তৈরি করতে খরচ পড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা। খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতিটি পাখা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে মাগুরা থেকে হাতপাখা কিনে নিয়ে যান। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাও বেড়েছে। ফলে শিল্পীদের বসে থাকার সুযোগ নেই।

গ্রামীণ নারীরা সংসারের কাজের ফাঁকে হাতপাখা তৈরি করেন। এতে তাঁরা দৈনিক প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করতে পারছেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরাও পাখা তৈরির কাজে সহযোগিতা করেন।

পাখাশিল্পী খাতুন ও আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন শিল্পী জানান, বর্তমানে তালপাতার সংকট রয়েছে। তারপরও বিভিন্ন এলাকা থেকে পাতা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। পাতা কেটে রোদে শুকানোর পর বাঁশের শলাকা, সুতা ও রং ব্যবহার করে পাখা তৈরি করা হয়। তারা বলেন, চাহিদা বাড়লেও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইসরায়েলের দেওয়া ভুয়া খবরেই ইরানের ভয়ে খাবারের ট্রাকে করে পালান ট্রাম্প

ইউরোপীয় জাহাজ জব্দের হুঁশিয়ারি পুতিনের

১৪ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মাগুরায় বেড়েছে তালের হাতপাখার কদর

আপডেটের সময় : ০৭:৪৬:৪৪ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং ও মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় মাগুরায় তালের হাতপাখার চাহিদা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন গ্রামে গড়ে ওঠা পাখাপল্লীগুলোতে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। তালের হাতপাখা তৈরি করে অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে। বর্তমানে শিল্পীদের এক মুহূর্ত অবসর নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরার শিবরামপুর, নিজনান্দুয়ালী, সংকোচখালী, শক্রুজিৎপুর, আড়পাড়া, বিনোদপুর, পারিয়াট ও ধনেশ্বরগাতীসহ বিভিন্ন গ্রামে তালের হাতপাখা তৈরি হয়। এসব গ্রামে দুই শতাধিক পরিবার এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। জেলার তৈরি হাতপাখা দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। ফলে মৌসুমি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মাগুরা হাতপাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোকামে পরিণত হয়েছে।

পাখা কিনতে দেখা যায় কয়েকজন নারী ও পুরুষকে, তারা জানান, কিছু দিন ধরে লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ একবার গেলে দীর্ঘ সময় আর আসে না। উপায়ন্তর না দেখে পাখা কিনতে এসেছি। 

কারিগররা জানান, প্রথমে তালপাতা কেটে রোদে শুকানো হয়। পরে সুতা ও বাঁশের শলাকা দিয়ে সেলাই করে হাতপাখা তৈরি করা হয়। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পরে রং করা হয়। ফাল্গুন থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত হাতপাখা তৈরির প্রধান মৌসুম। একজন শিল্পী প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি পাখা তৈরি করতে পারেন। প্রতিটি পাখা তৈরি করতে খরচ পড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা। খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতিটি পাখা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে মাগুরা থেকে হাতপাখা কিনে নিয়ে যান। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাও বেড়েছে। ফলে শিল্পীদের বসে থাকার সুযোগ নেই।

গ্রামীণ নারীরা সংসারের কাজের ফাঁকে হাতপাখা তৈরি করেন। এতে তাঁরা দৈনিক প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করতে পারছেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরাও পাখা তৈরির কাজে সহযোগিতা করেন।

পাখাশিল্পী খাতুন ও আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন শিল্পী জানান, বর্তমানে তালপাতার সংকট রয়েছে। তারপরও বিভিন্ন এলাকা থেকে পাতা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। পাতা কেটে রোদে শুকানোর পর বাঁশের শলাকা, সুতা ও রং ব্যবহার করে পাখা তৈরি করা হয়। তারা বলেন, চাহিদা বাড়লেও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।

Share this news as a Photo Card