নিউইয়র্ক ০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

  • আপডেটের সময় : ০৭:৪৭:৪১ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় জুলেখা আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামের শ্বশুর বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

নিহত জুলেখা আক্তার ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মাসুম মিয়ার স্ত্রী। 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মাসুম মিয়ার সঙ্গে জুলেখার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে মাসুম মিয়া সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। জুলেখা দুই সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সৌদি আরবে যাওয়ার আগে মাসুম মিয়া বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেন। ওই ঋণের টাকা পরিশোধ না করা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। পাশাপাশি মাসুম মিয়া অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত এমন অভিযোগ নিয়ে জুলেখার সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ চলছিল।

নিহতের বড় বোন জোহরা বেগম অভিযোগ করেন, সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকেই মাসুম মোবাইল ফোনে জুলেখাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের দিন জুলেখাকে তার শাশুড়ি জোছনা, ননদ নুরনাহার ও শামসুন্নাহার মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার রাতে মাসুম মোবাইল ফোনে জুলেখাকে গালিগালাজ করেন এবং তাকে ‘মরে যেতে’ বলেন বলেও দাবি করেন জোহরা।

নিহতের সাত বছর বয়সী মেয়ে সিনথিয়া জানায়, রাতে তার বাবা মোবাইল ফোনে মাকে গালিগালাজ করেন। পরে তার মা ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না বাঁধেন। তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে সে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে দরজা ভেঙে তার মাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনায় বাবার বিচার দাবি করে শিশুটি।

এদিকে ঘটনার পর থেকে নিহতের শাশুড়ি জোছনা এবং ননদ নুরনাহার ও শামসুন্নাহার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত সাব্বির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো প্রক্রিয়া দিন রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ গুলোও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইসরায়েলের দেওয়া ভুয়া খবরেই ইরানের ভয়ে খাবারের ট্রাকে করে পালান ট্রাম্প

ইউরোপীয় জাহাজ জব্দের হুঁশিয়ারি পুতিনের

১৪ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আপডেটের সময় : ০৭:৪৭:৪১ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় জুলেখা আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামের শ্বশুর বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

নিহত জুলেখা আক্তার ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মাসুম মিয়ার স্ত্রী। 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মাসুম মিয়ার সঙ্গে জুলেখার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে মাসুম মিয়া সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। জুলেখা দুই সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সৌদি আরবে যাওয়ার আগে মাসুম মিয়া বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেন। ওই ঋণের টাকা পরিশোধ না করা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। পাশাপাশি মাসুম মিয়া অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত এমন অভিযোগ নিয়ে জুলেখার সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ চলছিল।

নিহতের বড় বোন জোহরা বেগম অভিযোগ করেন, সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকেই মাসুম মোবাইল ফোনে জুলেখাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের দিন জুলেখাকে তার শাশুড়ি জোছনা, ননদ নুরনাহার ও শামসুন্নাহার মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার রাতে মাসুম মোবাইল ফোনে জুলেখাকে গালিগালাজ করেন এবং তাকে ‘মরে যেতে’ বলেন বলেও দাবি করেন জোহরা।

নিহতের সাত বছর বয়সী মেয়ে সিনথিয়া জানায়, রাতে তার বাবা মোবাইল ফোনে মাকে গালিগালাজ করেন। পরে তার মা ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না বাঁধেন। তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে সে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে দরজা ভেঙে তার মাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনায় বাবার বিচার দাবি করে শিশুটি।

এদিকে ঘটনার পর থেকে নিহতের শাশুড়ি জোছনা এবং ননদ নুরনাহার ও শামসুন্নাহার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত সাব্বির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো প্রক্রিয়া দিন রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ গুলোও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Share this news as a Photo Card