নিউইয়র্ক ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের দেওয়া ভুয়া খবরেই ইরানের ভয়ে খাবারের ট্রাকে করে পালান ট্রাম্প

  • আপডেটের সময় : ০৮:৫৭:৩৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল থেকে আসা এক ভুয়া ইরানি হুমকির সতর্কতার পর তুরস্ক ছাড়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প গোপনে তার বিমান পরিবর্তন করেন। 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ওয়াশিংটন পোস্ট, এনপিআর ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। 

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, এই সতর্কতাটি ট্রাম্পকে হুমকি সম্পর্কে জানানোর চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি ও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।

গত মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে বলে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসকে সতর্ক করে ইসরায়েল।

সতর্কতা পাওয়ার পর অত্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সিআইএ নিশ্চিত না হওয়া সত্ত্বেও সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্পকে একটি খাবারের ট্রাকে করে গোপনে নিজেদের ছোট সামরিক বিমানে সরিয়ে নেয়। 

ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই ডিকয় বা বিকল্প বিমানের ব্যবহারের খবর প্রকাশ করে, যেখানে ট্রাম্প জানান, তিনি সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন।

ইসরায়েলের দেওয়া এই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সিআইএ ও মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে সংশয় ছিল, কারণ এটি একক উৎস থেকে আসা তথ্য ছিল যার পক্ষে অন্য কোনো প্রমাণ ছিল না। 

তুরস্কের নিরাপত্তা সংস্থাও বিষয়টি তদন্ত করে আঙ্কারায় ট্রাম্পকে হত্যার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রমাণ পায়নি। ফলে যাচাই না করা হুমকির ওপর ভিত্তি করে বিমান পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসরায়েলি প্রভাব সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠেছে।ট্রাম্পকে গোপনে ছোট বিমানে সরিয়ে নেওয়া হলেও পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই থেকে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। এই বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি রুবিও জানলেও তিনি কেন বিমানে রয়ে গিয়েছিলেন তা জানা যায়নি। একাধিক হত্যা চেষ্টার মুখোমুখি হওয়া ট্রাম্পের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতেই সিক্রেট সার্ভিস এই ব্যবস্থা নেয়।

তুরস্ক সফরকালে ট্রাম্প কাতার থেকে উপহার পাওয়া নতুন বিমানে করে আঙ্কারায় এসেছিলেন। পরে মার্কিন সেনা ও সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করতে নতুন বিমানটিকে আগে পাঠানোর কথা বলা হলেও ক্যাটারিং ট্রলির (খাবারের ট্রাক) সাহায্যে ট্রাম্পকে গোপনে ছোট সামরিক বিমানে তুলে দেওয়া হয়। সাংবাদিক ও অন্য কর্মকর্তারা পুরোনো বিমানে প্রেসিডেন্ট আছেন ভেবেই ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইসরায়েলের দেওয়া ভুয়া খবরেই ইরানের ভয়ে খাবারের ট্রাকে করে পালান ট্রাম্প

ইউরোপীয় জাহাজ জব্দের হুঁশিয়ারি পুতিনের

১৪ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইসরায়েলের দেওয়া ভুয়া খবরেই ইরানের ভয়ে খাবারের ট্রাকে করে পালান ট্রাম্প

আপডেটের সময় : ০৮:৫৭:৩৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

ইসরায়েল থেকে আসা এক ভুয়া ইরানি হুমকির সতর্কতার পর তুরস্ক ছাড়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প গোপনে তার বিমান পরিবর্তন করেন। 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ওয়াশিংটন পোস্ট, এনপিআর ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। 

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, এই সতর্কতাটি ট্রাম্পকে হুমকি সম্পর্কে জানানোর চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি ও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।

গত মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে বলে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসকে সতর্ক করে ইসরায়েল।

সতর্কতা পাওয়ার পর অত্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সিআইএ নিশ্চিত না হওয়া সত্ত্বেও সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্পকে একটি খাবারের ট্রাকে করে গোপনে নিজেদের ছোট সামরিক বিমানে সরিয়ে নেয়। 

ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই ডিকয় বা বিকল্প বিমানের ব্যবহারের খবর প্রকাশ করে, যেখানে ট্রাম্প জানান, তিনি সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন।

ইসরায়েলের দেওয়া এই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সিআইএ ও মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে সংশয় ছিল, কারণ এটি একক উৎস থেকে আসা তথ্য ছিল যার পক্ষে অন্য কোনো প্রমাণ ছিল না। 

তুরস্কের নিরাপত্তা সংস্থাও বিষয়টি তদন্ত করে আঙ্কারায় ট্রাম্পকে হত্যার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রমাণ পায়নি। ফলে যাচাই না করা হুমকির ওপর ভিত্তি করে বিমান পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসরায়েলি প্রভাব সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠেছে।ট্রাম্পকে গোপনে ছোট বিমানে সরিয়ে নেওয়া হলেও পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই থেকে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। এই বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি রুবিও জানলেও তিনি কেন বিমানে রয়ে গিয়েছিলেন তা জানা যায়নি। একাধিক হত্যা চেষ্টার মুখোমুখি হওয়া ট্রাম্পের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতেই সিক্রেট সার্ভিস এই ব্যবস্থা নেয়।

তুরস্ক সফরকালে ট্রাম্প কাতার থেকে উপহার পাওয়া নতুন বিমানে করে আঙ্কারায় এসেছিলেন। পরে মার্কিন সেনা ও সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করতে নতুন বিমানটিকে আগে পাঠানোর কথা বলা হলেও ক্যাটারিং ট্রলির (খাবারের ট্রাক) সাহায্যে ট্রাম্পকে গোপনে ছোট সামরিক বিমানে তুলে দেওয়া হয়। সাংবাদিক ও অন্য কর্মকর্তারা পুরোনো বিমানে প্রেসিডেন্ট আছেন ভেবেই ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card