নিউইয়র্ক ০৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বদলানো উচিত ৬ সেটিংস

  • আপডেটের সময় : ০৫:১৯:০৬ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • ৩৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুক ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ বা তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে শেয়ার হচ্ছে, তা অনেক ব্যবহারকারীর কাছেই স্পষ্ট নয়। পুরোনো অ্যাপ ও গেমের সংযোগ থেকে শুরু করে লোকেশন, অন্য সেবায় ফেসবুক দিয়ে লগইন এবং প্ল্যাটফর্মের বাইরের অনলাইন কার্যক্রমে বিভিন্নভাবে এসব তথ্য ব্যবহৃত হতে পারে।

তাই অ্যাকাউন্টের ডিফল্ট সেটিংসের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি সেটিংস পর্যালোচনা করা জরুরি। ফেসবুকে ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে যে ছয়টি সেটিংস এখনই দেখে নিতে পারেন—

১. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও গেম সরিয়ে দিন

ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অ্যাপ ও গেম ব্যবহারকারীর অনুমতি অনুযায়ী প্রোফাইলের নির্দিষ্ট তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় না—এমন অ্যাপ বা অপরিচিত কোনো সংযোগ থাকলে তা সরিয়ে দেওয়া নিরাপদ।

এ জন্য ফেসবুকের ‘সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি’ → ‘সেটিংস’ → ‘অ্যাপস অ্যান্ড ওয়েবসাইটস’ অপশনে গিয়ে সংযুক্ত অ্যাপ ও গেমগুলো পর্যালোচনা করা যায়। প্রয়োজন নেই—এমন পুরোনো সংযোগ সরিয়ে ফেললে অপ্রয়োজনীয় তথ্য অ্যাক্সেসের সুযোগ কমে।

২. অপরিচিত লগইনের অ্যালার্ট চালু করুন

নিজের ডিভাইস ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্টে লগইন হলে দ্রুত জানতে ‘লগইন অ্যালার্টস’ চালু রাখা যেতে পারে। এ জন্য ‘সেটিংস’ → ‘অ্যাকাউন্টস সেন্টার’ → ‘পাসওয়ার্ড অ্যান্ড সিকিউরিটি’ → ‘লগইন অ্যালার্টস’ অপশনে গিয়ে নোটিফিকেশন বা ই-মেইল অ্যালার্ট চালু করা যায়।

অপরিচিত কোনো লগইন শনাক্ত হলে এ ধরনের সতর্কবার্তা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

৩. অন্য অ্যাপে ফেসবুক দিয়ে লগইন বন্ধ করুন

বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা অ্যাপে ‘লগইন উইথ ফেসবুক’ ব্যবহার করা সুবিধাজনক হলেও এর মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের সেবার সঙ্গে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সংযোগ তৈরি হয়। প্রয়োজন না থাকলে এই সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে।

এ জন্য ‘সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি’ থেকে ‘অ্যাপস অ্যান্ড ওয়েবসাইটস’ অপশনে গিয়ে ‘অ্যাপস, ওয়েবসাইটস অ্যান্ড গেমস’ ফিচারটি পর্যালোচনা বা বন্ধ করা যায়।

৪. নিয়মিত প্রাইভেসি চেকআপ চালান

ফেসবুকের ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ ফিচারের মাধ্যমে পোস্ট, প্রোফাইল তথ্য, যোগাযোগের তথ্য, বিজ্ঞাপন পছন্দ এবং ডেটা ব্যবহারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ এক জায়গা থেকে পর্যালোচনা করা যায়।

‘সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি’ → ‘সেটিংস’ → ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ অপশনে গিয়ে প্রতিটি বিভাগ পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিংস পরিবর্তন করা যেতে পারে।

৫. লোকেশন অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ করুন

ফেসবুক অ্যাপকে লোকেশন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া থাকলে অ্যাপটি ডিভাইসের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ফোনের সেটিংস থেকে ফেসবুকের লোকেশন পারমিশন সীমিত করা যেতে পারে।

ব্যবহারকারীর ডিভাইসভেদে অপশনগুলোর নাম ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত লোকেশন পারমিশন ‘নেভার’ অথবা ‘হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ নির্বাচন করার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি ফেসবুকের অ্যাক্টিভিটি লগ থেকে লোকেশন-সংক্রান্ত পোস্ট, চেক-ইন ও অন্যান্য তথ্যও পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

৬. বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং ও অফ-মেটা কার্যক্রম সীমিত করুন

ফেসবুকের বাইরের বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে করা অনলাইন কার্যক্রম বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই ‘অ্যাকাউন্টস সেন্টার’ → ‘অ্যাড প্রেফারেন্সেস’ বিভাগে গিয়ে বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণের বিভিন্ন অপশন পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

এ ছাড়া ‘ইওর ইনফরমেশন অ্যান্ড পারমিশনস’ → ‘অফ-মেটা অ্যাক্টিভিটি’ বিভাগে গিয়ে ফেসবুকের বাইরে ব্যবহারকারীর সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যকলাপের তথ্য পর্যালোচনা, পূর্বের ডেটা মুছে ফেলা এবং ভবিষ্যতে এসব তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে।

এসব সেটিংস পরিবর্তন করলেই ফেসবুকে বিজ্ঞাপন পুরোপুরি বন্ধ হবে না। তবে ফেসবুকের বাইরের কার্যকলাপ ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত প্রোফাইল তৈরির সুযোগ কিছুটা সীমিত করা সম্ভব।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ফেসবুকে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বদলানো উচিত ৬ সেটিংস

আপডেটের সময় : ০৫:১৯:০৬ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

ফেসবুক ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ বা তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে শেয়ার হচ্ছে, তা অনেক ব্যবহারকারীর কাছেই স্পষ্ট নয়। পুরোনো অ্যাপ ও গেমের সংযোগ থেকে শুরু করে লোকেশন, অন্য সেবায় ফেসবুক দিয়ে লগইন এবং প্ল্যাটফর্মের বাইরের অনলাইন কার্যক্রমে বিভিন্নভাবে এসব তথ্য ব্যবহৃত হতে পারে।

তাই অ্যাকাউন্টের ডিফল্ট সেটিংসের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি সেটিংস পর্যালোচনা করা জরুরি। ফেসবুকে ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে যে ছয়টি সেটিংস এখনই দেখে নিতে পারেন—

১. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও গেম সরিয়ে দিন

ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অ্যাপ ও গেম ব্যবহারকারীর অনুমতি অনুযায়ী প্রোফাইলের নির্দিষ্ট তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয় না—এমন অ্যাপ বা অপরিচিত কোনো সংযোগ থাকলে তা সরিয়ে দেওয়া নিরাপদ।

এ জন্য ফেসবুকের ‘সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি’ → ‘সেটিংস’ → ‘অ্যাপস অ্যান্ড ওয়েবসাইটস’ অপশনে গিয়ে সংযুক্ত অ্যাপ ও গেমগুলো পর্যালোচনা করা যায়। প্রয়োজন নেই—এমন পুরোনো সংযোগ সরিয়ে ফেললে অপ্রয়োজনীয় তথ্য অ্যাক্সেসের সুযোগ কমে।

২. অপরিচিত লগইনের অ্যালার্ট চালু করুন

নিজের ডিভাইস ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্টে লগইন হলে দ্রুত জানতে ‘লগইন অ্যালার্টস’ চালু রাখা যেতে পারে। এ জন্য ‘সেটিংস’ → ‘অ্যাকাউন্টস সেন্টার’ → ‘পাসওয়ার্ড অ্যান্ড সিকিউরিটি’ → ‘লগইন অ্যালার্টস’ অপশনে গিয়ে নোটিফিকেশন বা ই-মেইল অ্যালার্ট চালু করা যায়।

অপরিচিত কোনো লগইন শনাক্ত হলে এ ধরনের সতর্কবার্তা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

৩. অন্য অ্যাপে ফেসবুক দিয়ে লগইন বন্ধ করুন

বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা অ্যাপে ‘লগইন উইথ ফেসবুক’ ব্যবহার করা সুবিধাজনক হলেও এর মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের সেবার সঙ্গে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সংযোগ তৈরি হয়। প্রয়োজন না থাকলে এই সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে।

এ জন্য ‘সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি’ থেকে ‘অ্যাপস অ্যান্ড ওয়েবসাইটস’ অপশনে গিয়ে ‘অ্যাপস, ওয়েবসাইটস অ্যান্ড গেমস’ ফিচারটি পর্যালোচনা বা বন্ধ করা যায়।

৪. নিয়মিত প্রাইভেসি চেকআপ চালান

ফেসবুকের ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ ফিচারের মাধ্যমে পোস্ট, প্রোফাইল তথ্য, যোগাযোগের তথ্য, বিজ্ঞাপন পছন্দ এবং ডেটা ব্যবহারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ এক জায়গা থেকে পর্যালোচনা করা যায়।

‘সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি’ → ‘সেটিংস’ → ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ অপশনে গিয়ে প্রতিটি বিভাগ পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিংস পরিবর্তন করা যেতে পারে।

৫. লোকেশন অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ করুন

ফেসবুক অ্যাপকে লোকেশন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া থাকলে অ্যাপটি ডিভাইসের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ফোনের সেটিংস থেকে ফেসবুকের লোকেশন পারমিশন সীমিত করা যেতে পারে।

ব্যবহারকারীর ডিভাইসভেদে অপশনগুলোর নাম ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত লোকেশন পারমিশন ‘নেভার’ অথবা ‘হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ নির্বাচন করার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি ফেসবুকের অ্যাক্টিভিটি লগ থেকে লোকেশন-সংক্রান্ত পোস্ট, চেক-ইন ও অন্যান্য তথ্যও পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

৬. বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং ও অফ-মেটা কার্যক্রম সীমিত করুন

ফেসবুকের বাইরের বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে করা অনলাইন কার্যক্রম বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই ‘অ্যাকাউন্টস সেন্টার’ → ‘অ্যাড প্রেফারেন্সেস’ বিভাগে গিয়ে বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণের বিভিন্ন অপশন পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

এ ছাড়া ‘ইওর ইনফরমেশন অ্যান্ড পারমিশনস’ → ‘অফ-মেটা অ্যাক্টিভিটি’ বিভাগে গিয়ে ফেসবুকের বাইরে ব্যবহারকারীর সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যকলাপের তথ্য পর্যালোচনা, পূর্বের ডেটা মুছে ফেলা এবং ভবিষ্যতে এসব তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে।

এসব সেটিংস পরিবর্তন করলেই ফেসবুকে বিজ্ঞাপন পুরোপুরি বন্ধ হবে না। তবে ফেসবুকের বাইরের কার্যকলাপ ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত প্রোফাইল তৈরির সুযোগ কিছুটা সীমিত করা সম্ভব।

Share this news as a Photo Card